পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসকের হাতে অটো চালক রাজকুমার।
- আপডেট সময় : ০৪:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স::-
নাম তার রাজ কুমার বিশ্বাস! বয়স (৫৫) তিনি পেশায় একজন গ্রামবাংলা (অটো চালক)। তিলে তিলে করে কর্ষ্টাজিত কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। স্বপো ছিলো তার শহরে এক টুকরো জমি কিনে বাড়ী করে পরিবার পরিজন নিয়ে বাকী জীবনটা কাটাবেন সেখানে। ঠিক সেই মূর্হুতে বিশ্বে যখন মহামরি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশেও ঠিক একই অবস্থার সুষ্টি হয়। তখন গ্রামবাংলা (অটো চালক) রাজ কুমারের মানষিক অবস্থা পাল্টে যায়। নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে ভাবতে শুরু করেন দেশের মানুষের কথা। ভাড়ায় চালিত অটো গ্রাম বাংলার মালিক খুরশিদ আলমের কাছে চান পরামর্শ। আলোচনায় উঠে আসে এই মহত কাজটি অবশ্যই করতে হবে।
খুজতে থাকেন মিডিয়া কর্মীদের কিছুক্ষন পর পেয়ে যান তাদের সমবায় মাকের্টের মিডিয়া হাউজে। সেখান থেকেই মোবাইল ফোনে কথা হয় জেলা প্রশাসকের সাথে। সোমবার সকালে তাৎক্ষনিক ভাবে জেলা প্রশাসকের কার্ষালয়ে হাজির হয়ে তিল তিল করে জমানো সেই ৫০,০০০। টাকা করোনা ভাইরাস জনিত অন্যান্য দুর্গতদের জন্য তুলে দিলেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের কাছে।
রাজ কুমারের নিজ বাড়ী যশোরের পুলিশ লাইন এলাকার টালিখোলা থেকে ১৯৯০ সালে জিবিকার উদ্যেশে ঝিনাইদহে আসেন। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় চালিত আটো চালিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তিনি ঝিনাইদহ-নারিকেলবাড়ীয়া সড়কে গ্রাম বাংলা (অটো) চালাচ্ছেন। সেই থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। বর্তমানে তিনি পৌর এলাকার চাকলাপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়ীতে স্ত্রী ও একটি শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, মহামারী করোনার সময় রাজ কুমারের মতো একজন সামান্য অটো চালক যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এছাড়াও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তাকে বিশেষ সম্মাননা জানানোর জন্য।






















