সে জানে সারা পৃথিবী তাকে ফিরিয়ে দিলেও ওই ময়লার ডার্স্টবিনটা তাকে ফিরাবে না।
- আপডেট সময় : ১১:১৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোক্তারুজ্জামান জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা::-
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের কবিতার একটি লাইন। আসলে বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ বাঙালীরা ক্ষুধার সাথে খুব পিরিচিত হয়তো তারা পূর্ণিমা চাঁদকে ঝলসানো রুটি মনে করে তার দিকে তাকিয়ে থাকতো।
কিন্তু বর্তমানে বাঙালীদের পেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। এখন দেশ উন্নয়নের দিকে। কিন্তু আজ ও হাজার হাজার বাঙালীর সন্তান যারা বস্তির অধিবাসী, টোকায়, দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগার করতে পারে না- তাদের কাছে ঝলসানো রুটিকে আকাশের পূর্ণিমা চাঁদের মতোই আরাধ্য লাগে।
নিয়তির খেলা বোঝা বড় দায়, কেউ স্বপ্ন দেখে গাড়ি- বাড়ি করার আবার কেউবা স্বপ্ন দেখে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচার। জীবন অতিষ্ট হয়ে যাওয়া ডার্স্টবিনের গন্ধে নাকে কাপড় কিংবা টিস্যু চেপে ধরি আর দ্রুত হেটে গিয়ে নিঃশাস ফেলি। দম আটকে আসা কি বিচ্ছিরি গন্ধ আমরা কি ভুল করে একবারের জন্যেও ভেবেছি এই ডার্স্টবিনেই কেও খুঁজে চলেছে তার খাবার।
চোখ বন্ধ করে ভাবুনতো একবার নিজেকে তার জায়গায় দাঁড় করুন। কি ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে তাই না? দিনের পর দিন অনাহারে থাকা মানুষটা জানে ক্ষুদার কি যন্ত্রনা কি কষ্ট। হাজারটা মানুষের পায়ে পরেও হাজার মিনতির পরেও একটু খাবার জুটে না তখন সে বুঝে যায় এই নিষ্ঠুর পৃথিবী কেও কারো নয় তখন ওই দুর্গন্ধ ডার্স্টবিনটাই হয়ে উঠে একমাত্র অঢেল বিশ্বাসের জায়গা। সে জানে সারা পৃথিবী তাকে ফিরিয়ে দিলেও ওই ময়লা ডার্স্টবিনটা তাকে ফিরাবে না। তাই অবিরাম খুঁজে চলা একটু খাবারের আশায়।
টকশোতে গিয়ে গোলটেবিলে বসে চায়ের চুমোকে টকশো কাঁপানো বক্তৃতা দিয়ে এই কষ্ট অনুভব করা যাবে না চারপাশটা দেখুন খেয়াল করুন তাকান আশেপাশের অসহায় মানুষ গুলির দিকে। রাজনীতি বা রাজ্যনীতি যারাই করেন এই দায়ভার তো তাদেরই ছিন্নমূল এই মানুষরা তো আমাদেরই অংশ?
আপনার আমার একটু সুনজরই পারে অনাহারে, অবহেলায়, অন্ধকারে থাকা মানুষগুলিকে আলোর মুখ দেখাতে। আসুন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই ছিন্নমূল এই মানুষদের পাশে দাঁড়াবার, তবেই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।






















