সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

একেএম ইউসুফ আলী আওয়ামী রাজনীতির এক নক্ষত্রের পতন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২০ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥একে এম ইউসুফ আলী। বানারীপাড়ার
মুজিব অন্তপ্রাণ এক নেতা। ৭১’র রণাঙ্গনের বীর সেনানী এ নেতা প্রায় অর্ধশত
বছর (৫ দশক) ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে জীবন-যৌবন উৎসর্গ
করেছেন।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও দলকে ক্ষমতাসীন করতে বিভিন্ন সময়ে
আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালণ করতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় বছরের পর
বছর কারাবাস করেছেন। হামলার শিকার হয়েছেন। মামলা ও হুলিয়া নিয়ে বৃদ্ধ
বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তান রেখে পালিয়ে বেড়িয়েছেন । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের
অচিন্তনীয় বিয়োগান্তুক অধ্যায়ের পরে মানুষ যখন বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের
নাম নিতেও সাহস পেতো না সেই সময় মো. শাহে আলম (বরিশাল-২ আসনের বর্তমান
সংসদ সদস্য),অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল (বানারীপাড়া পৌরসভার বর্তমান
মেয়র),একেএম ইউসুফ আলী(উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান
সহ-সভাপতি),অ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন মাখন (উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান
সহ-সভাপতি),এম এ ওহাব (উপজেলা কৃষক লীগের বর্তমান আহবায়ক) ও
ওয়াহেদুজ্জামান দুলাল (উপজেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বর্তমান আহবায়ক)
রাজপথে এর প্রতিবাদ করেন। তারা প্রত্যেকেই তখন ছাত্র ছিলেন। একে এম ইউসুফ
আলী ১৯৭১ সালে কিশোর বয়সে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। ছাত্রলীগের
মাধ্যমে তার রাজনীতির হাতে খড়ি। রাজনীতির কন্টকাকির্ণ পিচ্ছিল পথ অতিক্রম
করে কালক্রমে অধিষ্ঠিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে। নেতৃত্ব
দিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
পরিচালনা পর্ষদের। বানারীপাড়ার রাজনৈতিক অজ্ঞনের পরিচিত এ মুখ প্রায় অর্ধ
যুগ পূর্বে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। সেই থেকে চলছেন
অন্যের সহায়তা নিয়ে। দৃষ্টি শক্তি হারানোর পরে পৈত্রিক আড়ৎদারী ব্যবসা
শুরু করেন। প্রতিদিন সকালে তাকে আড়তে দিয়ে এসে আবার সন্ধ্যার পরে নিয়ে
আসতো স্বজনরা। একটি স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য কাবিখার বরাদ্দের সাড়ে ৭
মে.টন চাল প্রকল্প সভাপতি কুদ্দুস হাওলাদারের কাছ থেকে ক্রয় করে এ নেতা
ফেঁসে গেছেন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ সর্বত্র চলছে
নিন্দার ঝড়। অপ্রত্যাশিত এ ঘটনায় দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী হয়ে পড়েছেন
স্তম্ভিত। এ কারনে হয়তো তাকে দলীয় পদ থেকেও বহিস্কারের করা হতে পারে।
আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা একে এম ইউসুফ আলীর তার
আড়ৎ থেকে শুক্রবার ২৫৬ বস্তা চাল উদ্ধার ও তাকে মোবাইল কোর্টে ৬ মাসের
কারাদন্ড দিয়ে বরিশালে কারাগারে পাঠানোর পরে তার ৫ দশকের বর্নাঢ্য
রাজনীতির সব অর্জণ বিসর্জন হয়ে গেছে। এ যেন এক নক্ষত্রের পতন। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একেএম ইউসুফ আলী আওয়ামী রাজনীতির এক নক্ষত্রের পতন

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২০

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥একে এম ইউসুফ আলী। বানারীপাড়ার
মুজিব অন্তপ্রাণ এক নেতা। ৭১’র রণাঙ্গনের বীর সেনানী এ নেতা প্রায় অর্ধশত
বছর (৫ দশক) ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে জীবন-যৌবন উৎসর্গ
করেছেন।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও দলকে ক্ষমতাসীন করতে বিভিন্ন সময়ে
আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালণ করতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় বছরের পর
বছর কারাবাস করেছেন। হামলার শিকার হয়েছেন। মামলা ও হুলিয়া নিয়ে বৃদ্ধ
বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তান রেখে পালিয়ে বেড়িয়েছেন । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের
অচিন্তনীয় বিয়োগান্তুক অধ্যায়ের পরে মানুষ যখন বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের
নাম নিতেও সাহস পেতো না সেই সময় মো. শাহে আলম (বরিশাল-২ আসনের বর্তমান
সংসদ সদস্য),অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল (বানারীপাড়া পৌরসভার বর্তমান
মেয়র),একেএম ইউসুফ আলী(উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান
সহ-সভাপতি),অ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন মাখন (উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান
সহ-সভাপতি),এম এ ওহাব (উপজেলা কৃষক লীগের বর্তমান আহবায়ক) ও
ওয়াহেদুজ্জামান দুলাল (উপজেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বর্তমান আহবায়ক)
রাজপথে এর প্রতিবাদ করেন। তারা প্রত্যেকেই তখন ছাত্র ছিলেন। একে এম ইউসুফ
আলী ১৯৭১ সালে কিশোর বয়সে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। ছাত্রলীগের
মাধ্যমে তার রাজনীতির হাতে খড়ি। রাজনীতির কন্টকাকির্ণ পিচ্ছিল পথ অতিক্রম
করে কালক্রমে অধিষ্ঠিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে। নেতৃত্ব
দিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
পরিচালনা পর্ষদের। বানারীপাড়ার রাজনৈতিক অজ্ঞনের পরিচিত এ মুখ প্রায় অর্ধ
যুগ পূর্বে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। সেই থেকে চলছেন
অন্যের সহায়তা নিয়ে। দৃষ্টি শক্তি হারানোর পরে পৈত্রিক আড়ৎদারী ব্যবসা
শুরু করেন। প্রতিদিন সকালে তাকে আড়তে দিয়ে এসে আবার সন্ধ্যার পরে নিয়ে
আসতো স্বজনরা। একটি স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য কাবিখার বরাদ্দের সাড়ে ৭
মে.টন চাল প্রকল্প সভাপতি কুদ্দুস হাওলাদারের কাছ থেকে ক্রয় করে এ নেতা
ফেঁসে গেছেন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ সর্বত্র চলছে
নিন্দার ঝড়। অপ্রত্যাশিত এ ঘটনায় দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী হয়ে পড়েছেন
স্তম্ভিত। এ কারনে হয়তো তাকে দলীয় পদ থেকেও বহিস্কারের করা হতে পারে।
আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা একে এম ইউসুফ আলীর তার
আড়ৎ থেকে শুক্রবার ২৫৬ বস্তা চাল উদ্ধার ও তাকে মোবাইল কোর্টে ৬ মাসের
কারাদন্ড দিয়ে বরিশালে কারাগারে পাঠানোর পরে তার ৫ দশকের বর্নাঢ্য
রাজনীতির সব অর্জণ বিসর্জন হয়ে গেছে। এ যেন এক নক্ষত্রের পতন। ###