সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

রাস্তায় পড়ে থাকা মায়ের লাশ দেখতেও এলো না সন্তানেরা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০ ২২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক :: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে এক নারী অসুস্থ হয়ে রাস্তায় মারা গেলেও করোনা সন্দেহে তার মরদেহ ধরেনি সন্তানসহ এলাকাবাসী। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়কেই পড়ে ছিল ওই নারীর লাশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ৫৪নং ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি সড়কে ওই নারীর নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ওই নারীর নাম আমিরুন নেছা। তিনি ওই এলাকার মৃত ইয়াকুব আলী মোল্লার স্ত্রী।

মায়ের মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ছেলে-মেয়ে এবং তার স্বজনরা মরদেহ নিতে এগিয়ে আসেনি। রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে এলাকার লোকজনও সরে যান। তারা লাশের ধারে কাছেও আসেননি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের ৩০ জন সদস্য। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত দেড়টার দিকে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের কর্মীরা মৃত নারীর মরদেহ দাফনের আয়োজন করেন।

স্থানীয়রা জানান, মৃত নারী আমিরুন নেছা টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে একা বসবাস করতেন। ছেলে-মেয়েরা কেউই এখানে থাকেন না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজবাড়ির সামনে থাকা একটি ওষুধের দোকানে রক্তচাপ মাপতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুখবর পেলেও শরীরে করোনা ভাইরাস রয়েছে এমন সন্দেহে লাশ গ্রহণ করতে আসেননি ছেলে-মেয়ে ও স্বজনরা।

পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন বিধি মেনে নমুনা সংগ্রহ করেন। বুধবার সকালে ওই নারীর দাফন করা হয়।

হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম এম হেলাল উদ্দিন জানান, অসুস্থ হয়ে একজন নারী রাস্তায় পড়ে আছে শুনে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। মৃত নারীর ছেলে-মেয়ে ও স্বজনরা খবর পেয়েও লাশ গ্রহণ করতে আসেনি। পরে আইইডিসিআর’র সদস্যরা নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা লাশ দাফন করেন।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ওসি এমদাদুল হক জানান, মৃত নারী বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত নারীর ছেলে-মেয়েরা খবর পেয়েও লাশ গ্রহণ করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাস্তায় পড়ে থাকা মায়ের লাশ দেখতেও এলো না সন্তানেরা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৪:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০

অনলাইন ডেস্ক :: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে এক নারী অসুস্থ হয়ে রাস্তায় মারা গেলেও করোনা সন্দেহে তার মরদেহ ধরেনি সন্তানসহ এলাকাবাসী। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়কেই পড়ে ছিল ওই নারীর লাশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ৫৪নং ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি সড়কে ওই নারীর নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ওই নারীর নাম আমিরুন নেছা। তিনি ওই এলাকার মৃত ইয়াকুব আলী মোল্লার স্ত্রী।

মায়ের মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ছেলে-মেয়ে এবং তার স্বজনরা মরদেহ নিতে এগিয়ে আসেনি। রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে এলাকার লোকজনও সরে যান। তারা লাশের ধারে কাছেও আসেননি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের ৩০ জন সদস্য। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত দেড়টার দিকে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের কর্মীরা মৃত নারীর মরদেহ দাফনের আয়োজন করেন।

স্থানীয়রা জানান, মৃত নারী আমিরুন নেছা টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে একা বসবাস করতেন। ছেলে-মেয়েরা কেউই এখানে থাকেন না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজবাড়ির সামনে থাকা একটি ওষুধের দোকানে রক্তচাপ মাপতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুখবর পেলেও শরীরে করোনা ভাইরাস রয়েছে এমন সন্দেহে লাশ গ্রহণ করতে আসেননি ছেলে-মেয়ে ও স্বজনরা।

পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন বিধি মেনে নমুনা সংগ্রহ করেন। বুধবার সকালে ওই নারীর দাফন করা হয়।

হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম এম হেলাল উদ্দিন জানান, অসুস্থ হয়ে একজন নারী রাস্তায় পড়ে আছে শুনে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। মৃত নারীর ছেলে-মেয়ে ও স্বজনরা খবর পেয়েও লাশ গ্রহণ করতে আসেনি। পরে আইইডিসিআর’র সদস্যরা নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা লাশ দাফন করেন।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ওসি এমদাদুল হক জানান, মৃত নারী বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত নারীর ছেলে-মেয়েরা খবর পেয়েও লাশ গ্রহণ করেনি।