সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

আরবের মাটিতে পা দিয়েই কুলসুমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ ৭১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ আবুল বাশার স্টাফ রিপোর্টার/ মোঃ মিনারুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি::-

বাবার কষ্টের উপার্জনের টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়েও কুলসুম এই ভেবে খুশি ছিলেন যে তাকে বিদেশে পাঠানোর সব প্রক্রিয়া শেষ করেছেন ওই দালাল। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বিমানবন্দরে হাজির হন কুলসুম। ওই দিন রাতের ফ্লাইটে রওনা হন সৌদি আরবের উদ্দেশে।

দালালের সহযোগিতায় এই পুরো কাজটি করে দেয় বেসকো ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি। কিন্তু সৌদি আরবের মাটিতে পা দিয়েই কুলসুমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কারণ কারখানায় কাজের কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেওয়া হয় কুলসুমকে। নিয়তিকে মেনে নিয়ে সেই বাসায় গৃহকর্মীর কাজেই যোগ দেন কুলসুম। কয়েক দিন যেতেই তার ওপর নেমে আসে নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন।

কুলসুম বেগম। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। বাবা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বসবাস করেন। বাবা ভাইয়ের বোঝা হয়ে সংসারে থাকতে চাননি তিনি। নিজেকে স্বাবলম্বী করতে নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থতার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ২০১৭ সালের শেষের দিকে ট্র্যাভেল এজেন্সির এক দালালের মাধ্যমে তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন স্বাবলম্বী হওয়ার।

ট্রাভেল এজেন্সির দালাল কুলসুম বেগমকে বোঝান বিনা খরচে সৌদি আরবে গিয়ে সেখাকার কারখানায় কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন তিনি। বিনা খরচে বলা হলেও সৌদি আরবের পাঠানোর আগেই নানা অজুহাতে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ওই দালাল।

সব কিছু মুখ বুঝে সহ্য করেও কুলসুম তার কাজ চালিয়ে যান। পরদেশ ভিন্ন পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং একই সঙ্গে গৃহকর্তা ও গৃহকর্তীর নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন কুলসুম। তবুও চলছিল মেনে নেওয়ার লড়াই। কিন্তু এত কিছুর পরেও যখন মাস শেষে তার বেতনের টাকাও সময় মতো পাচ্ছিলেন না তখনই কুলসুম সিদ্ধান্ত নেন আর ভিনদেশে থাকবেন না। ফিরে যাবেন বাবা-ভাইয়ের কাছে ফিরে আসবেন নিজের দেশে।

কিন্তু ততদিনে কেটে গেছে প্রায় ৬ মাস। এরপর দেশে ফিরে আসার জন্য সৌদি আরবের সেই এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন কুলসুম। কিন্তু সেখানকার ম্যানেজার শফিক আহমেদ তাকে কোনোভাবেই সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেন কুলসুম।

যে বাসায় কুলসুম কাজ করতেন সেখানে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না কুলসুমকে। তাই এক দিন বাধ্য হয়ে গোপনে কাঁদতে কাঁদতে ফোন করেন বড় ভাই গোলজার হোসেনকে।

বাংলাদেশে থাকা বড় ভাই গোলজারকে কুলসুম বলেন ভাই আমি ১১ দিন পর একটা খেজুর খাইছি। আমারে তুই বাঁচা আমারে তুই নিয়ে যা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আরবের মাটিতে পা দিয়েই কুলসুমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০

মোঃ আবুল বাশার স্টাফ রিপোর্টার/ মোঃ মিনারুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি::-

বাবার কষ্টের উপার্জনের টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়েও কুলসুম এই ভেবে খুশি ছিলেন যে তাকে বিদেশে পাঠানোর সব প্রক্রিয়া শেষ করেছেন ওই দালাল। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বিমানবন্দরে হাজির হন কুলসুম। ওই দিন রাতের ফ্লাইটে রওনা হন সৌদি আরবের উদ্দেশে।

দালালের সহযোগিতায় এই পুরো কাজটি করে দেয় বেসকো ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি। কিন্তু সৌদি আরবের মাটিতে পা দিয়েই কুলসুমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কারণ কারখানায় কাজের কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেওয়া হয় কুলসুমকে। নিয়তিকে মেনে নিয়ে সেই বাসায় গৃহকর্মীর কাজেই যোগ দেন কুলসুম। কয়েক দিন যেতেই তার ওপর নেমে আসে নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন।

কুলসুম বেগম। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। বাবা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বসবাস করেন। বাবা ভাইয়ের বোঝা হয়ে সংসারে থাকতে চাননি তিনি। নিজেকে স্বাবলম্বী করতে নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থতার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ২০১৭ সালের শেষের দিকে ট্র্যাভেল এজেন্সির এক দালালের মাধ্যমে তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন স্বাবলম্বী হওয়ার।

ট্রাভেল এজেন্সির দালাল কুলসুম বেগমকে বোঝান বিনা খরচে সৌদি আরবে গিয়ে সেখাকার কারখানায় কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন তিনি। বিনা খরচে বলা হলেও সৌদি আরবের পাঠানোর আগেই নানা অজুহাতে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ওই দালাল।

সব কিছু মুখ বুঝে সহ্য করেও কুলসুম তার কাজ চালিয়ে যান। পরদেশ ভিন্ন পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং একই সঙ্গে গৃহকর্তা ও গৃহকর্তীর নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন কুলসুম। তবুও চলছিল মেনে নেওয়ার লড়াই। কিন্তু এত কিছুর পরেও যখন মাস শেষে তার বেতনের টাকাও সময় মতো পাচ্ছিলেন না তখনই কুলসুম সিদ্ধান্ত নেন আর ভিনদেশে থাকবেন না। ফিরে যাবেন বাবা-ভাইয়ের কাছে ফিরে আসবেন নিজের দেশে।

কিন্তু ততদিনে কেটে গেছে প্রায় ৬ মাস। এরপর দেশে ফিরে আসার জন্য সৌদি আরবের সেই এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন কুলসুম। কিন্তু সেখানকার ম্যানেজার শফিক আহমেদ তাকে কোনোভাবেই সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেন কুলসুম।

যে বাসায় কুলসুম কাজ করতেন সেখানে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না কুলসুমকে। তাই এক দিন বাধ্য হয়ে গোপনে কাঁদতে কাঁদতে ফোন করেন বড় ভাই গোলজার হোসেনকে।

বাংলাদেশে থাকা বড় ভাই গোলজারকে কুলসুম বলেন ভাই আমি ১১ দিন পর একটা খেজুর খাইছি। আমারে তুই বাঁচা আমারে তুই নিয়ে যা।