বানারীপাড়ায় পরকীয়া প্রেমের জেরে ইটভাটা শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৪:১২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥বরিশালের বানারীপাড়ায় পরকীয়া প্রেমের জেরে
আবু তাহের (২৬) নামের এক ইট ভাটা শ্রমিককে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা
হয়েছে। উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রুস্তুম আলী মোল্লার ইটের ভাটায় এ
হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার চকবড়া গ্রামের
মৃত মোশারেফ গাজীর ছেলে আবু তাহের দীর্ঘ দিন ধরে বানারীপাড়ার বাইশারী
গ্রামের রুস্তুম আলী মোল্লার ইটের ভাটায় কাজ করছিলো। সে সাতক্ষিরার
লেবার সরদার এনছের আলীর অধীনে এ ভাটায় ইট প্রস্তুতের শ্রমিক ছিলো।জানা
গেছে,ওই ইট ভাটার অন্য গ্রুপের লেবার সরদার মো. সাইফুল ইসলামের শ্রমিক
সাতক্ষীরা জেলার একই এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম গাজীর স্ত্রীর সঙ্গে
আবু তাহেরের অনেক দিন ধরে পরকীয়া প্রেম চলে আসছিলো। শুক্রবার বজ্রপাত সহ
বর্ষণমূখর সাঁেজর বেলায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী ভাটার রাঁধুনি রোজিনা
প্রকৃতির ডাকের কথা বলে ইটের ভাটার পাশে বাথরুমে যায়। কিছুক্ষণ পরে তার
স্বামী নজরুল ইসলাম বাথরুমে গিয়ে স্ত্রীকে আবু তাহেরের সঙ্গে আপত্তিকর
অবস্থায় দেখতে পান । এসময় তাকে দেখে আবু তাহের দম্ভোক্তি করে বলে ‘এভাবে
তোর স্ত্রীর সঙ্গে আমার সবসময় অনৈতিক সম্পর্ক চলতে থাকবে পারলে ঠেকাইস’।
নজরুল ইসলাম এসময় ডাক চিৎকার দিলে তার গ্রুপের শ্রমিক এসে আবু তাহেরকে
লাঠি দিয়ে বেধরক পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলে। পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার
করে তাকে পাশ্ববর্তী পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
নিয়ে যাওয়ার পরে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্বরূপকাঠি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে
পাঠায়। অপরদিকে বানারীপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই দিন রাতে নিহত
আবু তাহেরের পরকীয়া প্রেমিকা রোজিনা,শ্রমিক নজরুল ইসলাম গাজী,মিলন
মোল্লা,শামীম সরদার ও এনছার আলী কে আটক করে। নিহতের ভাই ও একই ইটভাটার
শ্রমিক আবু হানিফ বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারনামীয় আসামী হিসেবে আটককৃত ওই চার শ্রমিককে শনিবার সকালে
বরিশাল জেলহাজতে পাঠানো ও রোজিনাকে জিঙ্গাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া
হয়।বরিশাল সহকারী জেলা পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ,উজিরপুর ও বানারীপাড়া
সার্কেল) আনোয়ার সাঈদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার
আবু তাহেরের লাশ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার চকবড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া
হয়। এদিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ওই ইটভাটায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার শ্রমিকরা জানায় নজরুল গাজীর স্ত্রী রোজিনার
সঙ্গে আবু তাহেরের দীর্ঘ দিন ধরে চলা পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি সবার জানা
ছিলো। কিন্তু ভাটার মালিক রুস্তুম আলী জেনেও এ ব্যপারে কোন ব্যবস্থা
গ্রহণ করেননি। তিনি অনৈতিক এ বিষয়ে নির্লিপ্ত না থেকে পদক্ষেপ নিলে
মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতো না। ###


























