সংবাদ শিরোনাম ::
কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা,

রাণীশংকৈলে গরু ব্যবসায়ী তৈয়ব আলী হত্যার রহস্য উন্মোচন; আটক- ৫

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ২২ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল গোগরের গরু ব্যবসায়ী তৈয়ব আলী হত্যা মামলার রহস্য উম্মোচন করে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রানীশংকৈল থানা পুলিশ ।

২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাণীশংকৈল থানায় পীরগঞ্জ ও রাীণশংকৈলের দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার তৌহি- উদ- দৌলা লুপম প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন তৈয়ব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুল আনাম ডন, এ এস আই আহসান হাবীব, ভিকটিম মৃত তৈয়ব আলীর স্ত্রী ছবি আকতার, তাঁর সন্তানেরা ও সাংবাদিকবৃন্দ।

প্রেস ব্রিফিং মতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তৈয়ব আলী হত্যার সাথে জড়িত গোগর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৩), একই গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের ছেলে সাব্বির (২০), খলিলুর রহমানের ছেলে সাগর আলী (১৯) , মোস্তফা আলমের ছেলে জুয়েল রানা( ১৬), এবং মতিউর রহমান মতির ছেলে শাহনেওয়াজ (১৯) কে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে হত্যার আলামত সহ পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

আসামীদের ব্যপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের সম্পৃক্ততা ও হত্যাকান্ডের সত্যতা স্বীকার করে। পরে ৫ জন আসামীই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্য়বিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আদালতের প্রদত্ত স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে আসামীরা বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভিকটিম মৃত তৈয়ব আলী( ৪০) গরু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য উপজেলার কাতিহার হাট যায়। হাটে গরু ক্রয় বিক্রয় করে ঐদিনই বিকালে গোগর চৌরাস্তা বাজারে অপর ১টি গরু নগদ ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে। আসামীরা ভিকটিম মৃত তৈয়ব আলীর কাছে গরু বিক্রয়ের মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আছে বলে জানতে পারে।

মাগরিবের নামাজের পর চৌরাস্তা দরমিয়ানের মিলের চাতালে উক্ত টাকা ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে, রাত্রি আনুমানিক ১১টায় গোগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম কাঁচা রাস্তার বাঁশঝাড়ে সকলে মিলিত হয়, পরে ৩ জন আসামী হত্যাকান্ডের স্থান পিছলাপুকুর এলাকায় আগেই চলে যায়।

২ জন আসামী ভিকটিম মৃত তৈয়ব আলীকে কৌশলে সেখানে বাঁশঝাড়ের গম ক্ষেতের কাছে নিয়ে গিয়ে আটক করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বের করতে বলে। ভিকটিম তার টাকা গোগর বাজারে এক দোকানদারের কাছে রেখে এসেছে বললে, আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

এসময় তৈয়ব বলে, তোমরা আমার এলাকার ছেলে হয়ে এরকম করছো আমি তোমাদের অভিভাবক ও লোকজনকে বলে দিবো এবং মামলা করবো। এ কথা শুনামাত্রই আসামীরা তৈয়ব আলীর মাথার পিছনে, বুকের মাঝখানে, বাম চোখের কোনে, উপুর্যপরি অস্ত্রদিয়ে আঘাত করে তৈয়ব আলীকে হত্যা করে।

পরে মৃতদেহ টেনে নিয়ে দরিমানের পতিত জমির উত্তর পূর্ব কোনে গর্ত করে লাশ পুতে দেয় এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র পিছলাপুকুরে ফেলে দেয়। এসময় মৃত তৈয়ব আলীর কাছে আসামীরা নগদ ৭ হাজার টাকা পায় এবং সে টাকা তাঁরা সকলে ভাগ করে নেয় ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আসামী রবিউল নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত মৃত তৈয়ব আলীর স্ত্রী ছবি আকতার বলেন, আমার এলাকাতেই আসামীদের বাড়ি আমার চোখের সামনে ওদের দেখে আমি বেঁচে থাকতে পারবো না, তাই আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যাকারী আসামীদের আমি সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদন্ড) চাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাণীশংকৈলে গরু ব্যবসায়ী তৈয়ব আলী হত্যার রহস্য উন্মোচন; আটক- ৫

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ২২ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল গোগরের গরু ব্যবসায়ী তৈয়ব আলী হত্যা মামলার রহস্য উম্মোচন করে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রানীশংকৈল থানা পুলিশ ।

২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাণীশংকৈল থানায় পীরগঞ্জ ও রাীণশংকৈলের দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার তৌহি- উদ- দৌলা লুপম প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন তৈয়ব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুল আনাম ডন, এ এস আই আহসান হাবীব, ভিকটিম মৃত তৈয়ব আলীর স্ত্রী ছবি আকতার, তাঁর সন্তানেরা ও সাংবাদিকবৃন্দ।

প্রেস ব্রিফিং মতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তৈয়ব আলী হত্যার সাথে জড়িত গোগর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৩), একই গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের ছেলে সাব্বির (২০), খলিলুর রহমানের ছেলে সাগর আলী (১৯) , মোস্তফা আলমের ছেলে জুয়েল রানা( ১৬), এবং মতিউর রহমান মতির ছেলে শাহনেওয়াজ (১৯) কে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে হত্যার আলামত সহ পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

আসামীদের ব্যপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের সম্পৃক্ততা ও হত্যাকান্ডের সত্যতা স্বীকার করে। পরে ৫ জন আসামীই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্য়বিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আদালতের প্রদত্ত স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে আসামীরা বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভিকটিম মৃত তৈয়ব আলী( ৪০) গরু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য উপজেলার কাতিহার হাট যায়। হাটে গরু ক্রয় বিক্রয় করে ঐদিনই বিকালে গোগর চৌরাস্তা বাজারে অপর ১টি গরু নগদ ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে। আসামীরা ভিকটিম মৃত তৈয়ব আলীর কাছে গরু বিক্রয়ের মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আছে বলে জানতে পারে।

মাগরিবের নামাজের পর চৌরাস্তা দরমিয়ানের মিলের চাতালে উক্ত টাকা ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে, রাত্রি আনুমানিক ১১টায় গোগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম কাঁচা রাস্তার বাঁশঝাড়ে সকলে মিলিত হয়, পরে ৩ জন আসামী হত্যাকান্ডের স্থান পিছলাপুকুর এলাকায় আগেই চলে যায়।

২ জন আসামী ভিকটিম মৃত তৈয়ব আলীকে কৌশলে সেখানে বাঁশঝাড়ের গম ক্ষেতের কাছে নিয়ে গিয়ে আটক করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বের করতে বলে। ভিকটিম তার টাকা গোগর বাজারে এক দোকানদারের কাছে রেখে এসেছে বললে, আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

এসময় তৈয়ব বলে, তোমরা আমার এলাকার ছেলে হয়ে এরকম করছো আমি তোমাদের অভিভাবক ও লোকজনকে বলে দিবো এবং মামলা করবো। এ কথা শুনামাত্রই আসামীরা তৈয়ব আলীর মাথার পিছনে, বুকের মাঝখানে, বাম চোখের কোনে, উপুর্যপরি অস্ত্রদিয়ে আঘাত করে তৈয়ব আলীকে হত্যা করে।

পরে মৃতদেহ টেনে নিয়ে দরিমানের পতিত জমির উত্তর পূর্ব কোনে গর্ত করে লাশ পুতে দেয় এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র পিছলাপুকুরে ফেলে দেয়। এসময় মৃত তৈয়ব আলীর কাছে আসামীরা নগদ ৭ হাজার টাকা পায় এবং সে টাকা তাঁরা সকলে ভাগ করে নেয় ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আসামী রবিউল নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত মৃত তৈয়ব আলীর স্ত্রী ছবি আকতার বলেন, আমার এলাকাতেই আসামীদের বাড়ি আমার চোখের সামনে ওদের দেখে আমি বেঁচে থাকতে পারবো না, তাই আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যাকারী আসামীদের আমি সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদন্ড) চাই।