সংবাদ শিরোনাম ::
দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

স্ত্রীকে হত্যা করে দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে পালালো স্বামী!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক:: শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে পাষণ্ড স্বামীই বাঁচতে দিল না গৃহবধূ নাহিদা আক্তার সুমিকে (২০)। তাকে হত্যা করে শিশু কন্যা আন্নী (৭) ও তুন্নিকে (২) নিয়ে পালিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই।

মীরসরাইয়ে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর থেকে স্বামী ওমর ফারুক, শ্বশুর আকতার হোসেনসহ বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে মীরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের ওমর ফারুকের সঙ্গে একই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের চত্তরুয়া সরকার তালুর গ্রামের প্রবাসী নুরুল আফছারের মেয়ে নাহিদা সুলতানা সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে ৭ বছর ও ২ বছর বয়সের দুটি মেয়ে রয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তারা বেশ কিছুদিন ধরে কদমতলা এলাকার নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

নিহত সুমির মা পপি আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর কয়েক মাস ভালো চললেও পরে বিভিন্ন সময় ঠুকনো কারণে আমার মেয়েকে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি মারধর করত। তাদের পারিবারিক কলহ নিয়ে একাধিক বার বৈঠকও হয়েছিল। আমার মেয়ের সঙ্গে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে জামাতা তাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় চলে এসেছিল।

সেই ঘটনার জের ধরেই রাতেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ওমর ফারুক। পরে ভোররাতে নিজের মাইক্রোবাসে করে স্ত্রীকে কমফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা না করে কৌশলে উত্তর দেয়। ঘটনা বুঝতে পেরে মাইক্রোবাস নিয়ে ভোরবেলায় বাসার সামনে এসে স্ত্রীর লাশ গাড়িতেই রেখে দুই কন্যা, বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যায়।

সুমির মা অশ্রুসিক্ত নয়নে আরও বলেন, আমার সুমিকে ওরা বাঁচতে দিল না। আমার মেয়ের খুনিদের শাস্তি চাই।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে দুপুরে কদমতলা এলাকার নিজাম উদ্দিনের বাড়ি থেকে নিহত নাহিদা আক্তার সুমির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সুমির স্বামী, শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্ত্রীকে হত্যা করে দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে পালালো স্বামী!

আপডেট সময় : ০৯:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:: শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে পাষণ্ড স্বামীই বাঁচতে দিল না গৃহবধূ নাহিদা আক্তার সুমিকে (২০)। তাকে হত্যা করে শিশু কন্যা আন্নী (৭) ও তুন্নিকে (২) নিয়ে পালিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই।

মীরসরাইয়ে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর থেকে স্বামী ওমর ফারুক, শ্বশুর আকতার হোসেনসহ বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে মীরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের ওমর ফারুকের সঙ্গে একই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের চত্তরুয়া সরকার তালুর গ্রামের প্রবাসী নুরুল আফছারের মেয়ে নাহিদা সুলতানা সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে ৭ বছর ও ২ বছর বয়সের দুটি মেয়ে রয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তারা বেশ কিছুদিন ধরে কদমতলা এলাকার নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

নিহত সুমির মা পপি আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর কয়েক মাস ভালো চললেও পরে বিভিন্ন সময় ঠুকনো কারণে আমার মেয়েকে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি মারধর করত। তাদের পারিবারিক কলহ নিয়ে একাধিক বার বৈঠকও হয়েছিল। আমার মেয়ের সঙ্গে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে জামাতা তাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় চলে এসেছিল।

সেই ঘটনার জের ধরেই রাতেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ওমর ফারুক। পরে ভোররাতে নিজের মাইক্রোবাসে করে স্ত্রীকে কমফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা না করে কৌশলে উত্তর দেয়। ঘটনা বুঝতে পেরে মাইক্রোবাস নিয়ে ভোরবেলায় বাসার সামনে এসে স্ত্রীর লাশ গাড়িতেই রেখে দুই কন্যা, বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যায়।

সুমির মা অশ্রুসিক্ত নয়নে আরও বলেন, আমার সুমিকে ওরা বাঁচতে দিল না। আমার মেয়ের খুনিদের শাস্তি চাই।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে দুপুরে কদমতলা এলাকার নিজাম উদ্দিনের বাড়ি থেকে নিহত নাহিদা আক্তার সুমির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সুমির স্বামী, শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।