সংবাদ শিরোনাম ::
রাজাপুরে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করল সিআইডি বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্নের পর সনদ ও বই বিতরণ ঘোড়াঘাটের কোটি টাকার রানীগঞ্জ হাটসহ প্রতিটি হাটে সড়কের ওপর দোকান! বাবুগঞ্জে ভি-ডব্লিউ-বি কর্মসূচির চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোড়াঘাটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যুবদলের ৫ শতাধিক তাল বীজ রোপন ঘোড়াঘাটে ৪ পদজয়ী ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫২ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা বিরামপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে র‍্যালী ও আলোচনা সভা‎‎ অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস উদযাপন, চালকদের সম্মাননা ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা চুয়াডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলার ১৭ বছর পর দুজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড চুয়াডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলার ১৭ বছর পর দুজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

ঝালকাঠি সরকারি হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ চরম ভোগান্তিতে জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২০ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ প্রায় দুই মাস ধরে, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন অচল পাঁচ মাস ধরে । আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দুই বছর ধরে নষ্ট। এতে জেলার দূরদূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে গরিব অসহায় রোগীদের। অর্থ সংকটের কারণে তারা বাইরে অপারেশন কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারছে না। স্বচ্ছল রোগীরা অন্য ক্লিনিকে অপারেশন করালেও ২-৩ গুণ অর্থ গুণতে হচ্ছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ সুযোগে রোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের অপারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন চিকিৎসক বদলি হয়ে চলে যান। তারা হলেন- ডা. ফকরুল আলম (অ্যানেস্থেসিয়া), গাইনি চিকিৎসক ডা. মৃণাল কান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় ও সার্জারি চিকিৎসক ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার। এদের মধ্যে সার্জারি চিকিৎসক মিতু দেবনাথকে ঝালকাঠিতে পোস্টিং দেয়া হলেও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক পদে নিয়োগ না দেয়ায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে জেলার দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। বাধ্য হয়ে অপারেশনের রোগী নিয়ে স্থানীয় ক্লিনিক, ডায়ানস্টিক সেন্টার এবং বরিশালে চিকিৎসা করাতে স্বজনদের ৪-৫ গুণ বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা করাতে আসা আছিয়া বেগম বলেন, মেয়ে মর্জিনা গর্ভবতী। তাকে গাইনি বিশেষজ্ঞ মৃণাল কান্তি বাবুকে দেখাতাম। দুই মাস পরে আসতে বলেছিলেন। এসে দেখি তিনি নেই, অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। এখানে কোনো অপারেশন হবে না। গরীব মানুষ, বাইরের ক্লিনিকে অপারেশন করাতে অনেক টাকা, এতো টাকা কোথায় পাবো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর হাসপাতালে সিজার করাতে খরচ পরে মাত্র ১ থেকে ২ হাজার টাকা। একই অপারেশন করাতে বাইরে দিতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। সার্জারি অপারেশন করাতে সদর হাসপাতালে খরচ হয় ১ হাজার টাকা। বাহিরে প্রয়োজন হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নষ্ট হয়ে আছে ৫ মাস ধরে। দেড় লাখ টাকা মূল্যের এক্স-রে ফিল্ম কিছুদিন পরেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। মেশিনটি সচল করতে চিঠি চালাচালি করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ সুযোগে বাইরে এক্সরে করাতে ২/৩ গুণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বেসরকারি ক্লিনিক গুলোর বিরুদ্ধে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঝালকাঠি সরকারি হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ চরম ভোগান্তিতে জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২০

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ প্রায় দুই মাস ধরে, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন অচল পাঁচ মাস ধরে । আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দুই বছর ধরে নষ্ট। এতে জেলার দূরদূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে গরিব অসহায় রোগীদের। অর্থ সংকটের কারণে তারা বাইরে অপারেশন কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারছে না। স্বচ্ছল রোগীরা অন্য ক্লিনিকে অপারেশন করালেও ২-৩ গুণ অর্থ গুণতে হচ্ছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ সুযোগে রোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের অপারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন চিকিৎসক বদলি হয়ে চলে যান। তারা হলেন- ডা. ফকরুল আলম (অ্যানেস্থেসিয়া), গাইনি চিকিৎসক ডা. মৃণাল কান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় ও সার্জারি চিকিৎসক ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার। এদের মধ্যে সার্জারি চিকিৎসক মিতু দেবনাথকে ঝালকাঠিতে পোস্টিং দেয়া হলেও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক পদে নিয়োগ না দেয়ায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে জেলার দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। বাধ্য হয়ে অপারেশনের রোগী নিয়ে স্থানীয় ক্লিনিক, ডায়ানস্টিক সেন্টার এবং বরিশালে চিকিৎসা করাতে স্বজনদের ৪-৫ গুণ বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা করাতে আসা আছিয়া বেগম বলেন, মেয়ে মর্জিনা গর্ভবতী। তাকে গাইনি বিশেষজ্ঞ মৃণাল কান্তি বাবুকে দেখাতাম। দুই মাস পরে আসতে বলেছিলেন। এসে দেখি তিনি নেই, অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। এখানে কোনো অপারেশন হবে না। গরীব মানুষ, বাইরের ক্লিনিকে অপারেশন করাতে অনেক টাকা, এতো টাকা কোথায় পাবো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর হাসপাতালে সিজার করাতে খরচ পরে মাত্র ১ থেকে ২ হাজার টাকা। একই অপারেশন করাতে বাইরে দিতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। সার্জারি অপারেশন করাতে সদর হাসপাতালে খরচ হয় ১ হাজার টাকা। বাহিরে প্রয়োজন হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নষ্ট হয়ে আছে ৫ মাস ধরে। দেড় লাখ টাকা মূল্যের এক্স-রে ফিল্ম কিছুদিন পরেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। মেশিনটি সচল করতে চিঠি চালাচালি করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ সুযোগে বাইরে এক্সরে করাতে ২/৩ গুণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বেসরকারি ক্লিনিক গুলোর বিরুদ্ধে।