শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

Notice :
প্রকাশ্যে ধূমপান করে তোপের মুখেপড়া এক তরুণীর ভিডিও ভাইরাল।চরমোনাই পীরের ওয়াজ মাহফিল বাতিল।বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যেন পদ্মা সেতু পার না হয় বললেন শাজাহান খান।জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভাতাপ্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার বয়স ৫০–এর নিচে।করোনা আক্রান্ত কনের অভিনব পদ্ধতিতে বিয়ে (ভিডিও)আবাসিক হোটেলে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ।পুলিশে হঠাৎ বড় রদবদল।ইউটিউবে যাত্রা শুরু করছেন মিজানুর রহমান আজহারী।
সর্বশেষ সংবাদ :
মসজিদে মাস্ক না পরায় সংঘর্ষে আহত ১০। সকালে সন্তান জন্ম দিয়ে বিকেলে করোনায় সংবাদকর্মীর মৃত্যু। জীবননগরে মানব সেবা সংগঠনের উদ্যোগে জায়নামাজ ও তসবিহ বিতরণ। ১৪-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন কক্সবাজারে(এপিবিএন)এ নতুন অধিনায়ক এ যোগদান। চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রীর অশ্লীল ভিডিও ধারণ, শিক্ষক গ্রেফতার। ছেলে অর্থলোভে পাগল সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করলেন বাবাকে। প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে সৃষ্ট অন্তঃকলহ স্বাধীনতার প্রশ্নে ভুলে যান জাতীয় চার নেতা। হেফাজত নেতা মাওলানা জুবায়ের গ্রেফতার। উপজেলা চেয়ারম্যানের কিল-ঘুষিতে এক বৃদ্ধের করুণ মৃত্যু। আবর্জনার গাড়িতে নেওয়া হচ্ছে করোনার মৃতদেহ।
বিটিভির দোষ খোঁজা উচিত নয়।

বিটিভির দোষ খোঁজা উচিত নয়।

মোঃ আমিনুল ইসলাম দামুড়হুদা বিশেষ প্রতিনিধি::-

বাংলাদেশ টেলিভিশন খুব সেকেলে ধারার অনুষ্ঠান দেখায়। তারা মূলত সরকারের বন্দনা গায় সরকারের করা তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করে তবে ব্যর্থতার খবর প্রচার করেনা।
এসব কেন করে সেটা সবাই জানে কিন্তু পরে এগুলো কেন করে জানেন?
BTV অধিকাংশ সময় ভাবমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে। যেমন শিশুদের কোরআন শিক্ষার আসর ছোটদের গানের আসর, বাউল ও লোক সঙ্গীত অনুষ্ঠান, আঞ্চলিক অনুষ্ঠান, উপজাতীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা, কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান, মৎস চাষ, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ, বড় দিন, পূজা, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান প্রচার, বয়ষ্কদের স্বাক্ষরতা, কুরআন তেলাওয়াত, বক্তব্য ধর্মী এবং শিক্ষনীয় নাটক ইত্যাদি অনুষ্ঠান প্রচার করে। আচ্ছা আপনার মনে কখনো কি প্রশ্ন জেগেছে, অন্যান্য চ্যানেল গুলো এধরনের অনুষ্ঠান কেনো প্রচার করেনা? হয়তো কালেভদ্রে দুই একবার করে থাকে এমন প্রশ্ন আপনার মনে না জাগাটাই স্বাভাবিক।
১-টেরিস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্ট এবং
২-স্যাটেলাইল ব্রডকাস্ট।
টেরিস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং হল স্যাটেলাইটের সাহায্য ছাড়া টেলিভিশন কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে কতোগুলো সুউচ্চ টাওয়ার স্থাপনের মাধ্যমে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এটা অত্যান্ত ব্যয়বহুল এবং শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের পক্ষেই এই ব্যায় এবং ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। এর জন্য বিশাল বড় জায়গা ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ টেরিস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং সম্প্রচার হলো জাতীয় সম্প্রচার যা শুধু মাত্র বিটিভি করে থাকে তাই বিটিভি ডিসের স্যাটেলাইল সংযোগ ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে সকল স্থান থেকে দেখা যায়। টেরিস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং মূলত কোন বাণিজ্যিক ব্রডকাস্টিং না তাদের কর্তা ব্যক্তিদের তাই লাভ-লোকসানের চিন্তা থাকেনা। সব দায় দায়িত্ব সরকারের! এবং যেহেতু তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান/জাতীয় প্রতিষ্ঠান তাই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি,ঐতিহ্য, কৃষি, উৎসব, নৃতত্ত্ব ইত্যাদি তুলে ধরা তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে পড়ে অর্থাৎ সারা দিনের সকল অনুষ্ঠান গুলোর দ্বারা দেশের সকল প্রান্তের সব ধর্মের, সব বয়সের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের কথা চিন্তা করে প্রচার করা হয়। বিটিভির থাকে নিবন্ধিত Registered এবং তালিকাভুক্ত শিল্পী অভিনেতা সংবাদপাঠক এমন কি বংশীবাদক দোতারা বাদক, বাউল শিল্পী, ভাওয়াইয়া শিল্পী ইত্যাদি। তারা কোন অনুষ্ঠানে অংশ না নিলেও বছর শেষে সন্মানি পান যদিও খুব সামান্য। তারা হন পরীক্ষীত, শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা ব্যাকারণ মেনে গান গাওয়া ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো ইত্যাদি তাদের জানতে হয়। অর্থাৎ সব হতে হবে স্ট্যান্ডার্ড।
মজার তথ্যঃ বিটিভি অধিবেশন শুরু ও শেষে পর্দায় সকল রংয়ের আড়াআড়ি একটি দৃশ্য রংধনুর মতো দেখায়। এখন দেখায় কিনা জানিনা। মনে পড়ে? এবং টু টু টু….বাজতে থাকে! এটাকে বলে লুমিনেন্স প্যাটার্ন। মানে আপনি যাতে এগুলো দেখে আপনার টিভির পর্দায় সঠিক রং নির্ধারণ করতে পারেন ঠিক না থাকলে নির্ধারণ করে নিতে পারেন অথবা আপনার চোখ সঠিক রং চিনতে পারে কিনা অথবা কতো দূরে বসে টিভি দেখলে আসল রং ও দেখার মজা উপভোগ করতে পারবেন তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য। কেননা অনুষ্ঠান শুরু হলে সেখানে অনবরত ছবি ও রং পরিবর্তন হতে থাকবে তাই তারা শুরুতেই প্রকৃত রংয়ের প্যাটার্ন সম্প্রচার করে। আর টু টু টু শব্দটিও তেমনই যারা রেকর্ডিংয়ের কাজ করে তারা যেন বাস (buss) বিট টিউন করে নিতে পারে। এজন্য বিটিভির অনেক টাকা খরচ হয়। এখন হয়তো টেলিভিশন টেকনোলজি অনেক উন্নত হয়েছে তাই প্রচার করেনা। ২-স্যাটেলাইট সস্প্রচারঃ
যারা স্যাটেলাইট ব্যবহার করে তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে তাদের কে বেসরকারি টিভি বা স্যাটেলাইট চ্যানেল বলে। বেসরকারি টিভি চ্যানেল হতে হলেই তাকে বাধ্যতামূলক স্যাটেলাইট সম্প্রচার করতে হবে তারা কোনো ভাবেই টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার করতে পারবে না না না না। এতে সরকারের লোকসান হয়। এটা বে আইনি যেমন- ইটিভি(ETV) করেছিল তাই আইনের আওতায় তাদেরকে বন্ধ করা হয়েছে।
স্যাটেলাইট থেকে একটি ফ্রিকোয়েন্সী ব্যান্ড এবং লিংক ভাড়া নিয়ে আপনার ঘরের বারান্দায় বসে একটি টেলিভিশন চ্যানেল চালাতে পারবেন। তারা শতভাগ বাণিজ্যিক সম্প্রচার করে থাকে অর্থাৎ প্রতিটি সেকেন্ড তাদের অনেক মূল্যবান! কেননা অত্যান্ত উচ্চমূল্যে তারা স্যাটেলাইট লিংক ভাড়া নেয় তাই পর্দার চিপাচাপা উপর নিচে সব জায়গা তারা ভাড়া দিয়ে টাকা কামাতে চায় বা বাধ্য হয় তার পর থাকে লাভ করার চিন্তা! ভবন ভাড়া, ছাদে এন্টেনার জায়গা ভাড়া, টেক্স, বেতন, স্টুডিও সাজানোর খরচ বুদ্ধিজীবি ভাড়া করে আনার খরচ ইত্যাদি! তাদের এখানে চাকুরি হওয়াও সহজ আবার চাকুরি যাওয়া তার চেয়েও সহজ! আচ্ছা এবার বলুন তো একটি বেসরকারি টিভিতে যদি বাতাবী লেবুর চাষ, ছাগল পালন কিংবা ত্রিপিটক পাঠের অনুষ্ঠান প্রচার করে তাহলে কতো শতাংশ দর্শক দেখবে? তার চেয়ে বড় কথা কোন সাবান কোম্পানি বা জুতার কোম্পানি এই অনুষ্ঠান টি কি কিনবে? মানে তাদের বিজ্ঞানের প্রচারের জন্য পয়সা দিবে? মনে হয় দিবেনা। এটাই হলো বিটিভি এবং বেসরকারি টিভির পার্থক্য। বিটিভি চাইলে স্যাটেলাইট সম্প্রচারও করতে পারে তাদের খুশি!
এখন থেকে আশাকরি বিটিভির দোষ খুঁজে বেড়াবেন না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019
Bengali English