সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক কাঁঠালিয়ায় ৮ পিস ইয়াবাসহ কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আটক ও স্থায়ী বহিষ্কার ​নলছিটির সাবেক পিআইও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর ৫ মাসের কারাদণ্ড ১২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কাঁঠালিয়ায় ৬৩ কেজি পলিথিন জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোড়াঘাটের সীমানার ৫০০ মিটার ভিতরে পলাশবাড়ী সীমানা পলক স্থাপনের চেষ্টা এলাকায় ক্ষোভ উপজেলা প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় পরিবেশ ও শব্দ দূষণবিরোধী মোবাইল কোর্ট: ১২ হাজার টাকা জরিমানা দর্শনা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে পালানোর সময় এক যুবক আটক বোর্ড চ্যালেঞ্জে পাস চার ছাত্রী: তেঁতুলিয়ার বোয়ালমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

বাকেরগঞ্জে সুমির উদ্দক্তা হওয়ার পিছনের গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ৬৮৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৃধা জুয়েল
ভুমিকা:আমি নুসরাত জাহান সুমি,
মূলগল্প:
আমি একেবারেই নতুন ও ছোট আকারের একজন নারী উদ্যোক্তা, আমি নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন মেয়ে, আমরা দুই ভাই বোন,আমার বাবা সামান্য চাকুরি করেন।ছোট বেলার স্বপ্ন ছিল একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হবো,
কিন্তু বাবার আর্থিক অবস্থা বেশি ভাল না থাকায় ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায় এবং লেখা পড়া ওখনেই শেষ হয়ে যায়।কিন্তু স্বপ্নটাতো আজও শেষ হয়নি। আমার শশুর বাড়িতে থেকে অনেক চেষ্টা করেছি আমার লেখাপড়া শুরু করার, কিন্তু আমি ব্যর্থ হই।তবে আশা ছারিনি,আমার স্বামির সাথে সংসার জীবন বেশ ভালো এবং আনন্দে কাটছিল,এর মধ্যে আমার ঘরে দুটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়, আমার ছোট ছেলে হবার পরে আমার স্বামি নেশায় আসক্ত হয়ে যায় এবং আমার সংসারে অভাব অনটন শুরু হয়ে যায়।২০০৮ সালে আমি সখের কারনে সেলাই কাজ শিখেছিলাম, এখন এই সেলাই কাজটাকেই আমার অবলম্বন হিসেবে বেছে নিলাম,আমার কাজ এবং আয় দুটোই বারতে চলেছে এবং পাশাপাশি আমার স্বামির নেশাও বারছে,
টাকার জন্য আমার উপরে প্রেশার করা শুরু করছে, বাবার বাড়ি থেকে আমি প্রতিনিয়ত টাকা আনতে শুরু করলাম,এরপর ওর অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়ে যায়,নেশা করে আমার উপরে শারিরীক নির্যাতন শুরু করে,এমন কি হাতের কাছে ধারালো কিছু পেলে নিজেকেও আঘাত করে,এ অবস্থায় আমি অসহায় হয়ে পরি,আমার বাবাও আমাকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়,তখন আমি একেবারেই নিরুপায়। অনেক চিন্তা ভাবনা করে আমি আমার বাবার বাড়িতে এসে উঠলাম,তখন আমাদের এখানে একটি দাতা সংস্থা আছে যার নাম ”ওয়েভ ফাউন্ডেশন”
ওখান থেকে একটি ভোকেশনাল ট্রনিং গ্রহন করি এবং ঐ সংস্থার মাধ্যমে একটি চাকুরি পাই মাত্র ৫০০০/টাকা বেতনে ওখানে কিছুদিন চাকুরি করি, তারপরে দেখলাম চাকুরি করা অনেক কষ্টকর,ভেবে দেখলাম আমি নিজেই তো বেশ কিছু হাতের কাজ শিখেছি তাহলে আমি কেন ব্যাবসা করতে পারবো না ?
ইতি মধ্যে আমি আমার চাকুরির প্রতিষ্ঠানে গার্মেন্টস এর মেশিন গুলাও চালাতে শিখেছি,কিন্তু আমার কাছে কোন মুলধন ছিলনা,তখন আমি আবার ঐ
“ওয়েভ ফাউন্ডেশনের” সহায়তায় একটি উদ্দোক্তা প্রশিক্ষণ গ্রহন করি।
তার পরে ওনারা আমাকে ২৫,০০০/
টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করে,এবং গ্রামিন ব্যংক থেকে ৩০,০০০/টাকা লোন নিয়ে মোট ৫৫,০০০টাকা দিয়ে আমার ব্যাবসা শুরু করলাম,ব্যাবসা শুরু করার পর পারিবারিক ও সামাজিক বাধা আসে প্রচুর কিন্তু আমি পিছিয়ে যাইনি, এমনকি বড় বড় নেতারাও আমার ব্যাবসার সামনে বাধা হয়ে দাড়ায়,তবুও মনে সাহশ নিয়ে এগিয়ে চলেছি, এখন আমার প্রতিষ্ঠানে মোট ৭ জন বেতন ভুক্ত ছেলে মেয়ে কাজ করে।এবং আমার তৈরি পোশাক বেশ কিছু সংখক দোকানে পাইকারি বিক্রি করছি।
উপসংহার:
আমি আমার জীবন থেকে অনুভব করতে পেরেছি যে বেকারত্ব একটা অসুখ,তাই কাজ করা সুরু করেছি
যদিও অনেক ছোট আকারে, তবে স্বপ্ন অনেক বড়,আর এই স্বপ্ন পুরনের জন্য গড়ে তুলেছি “স্বপ্ন সিঁড়ি” নামে নারী কল্যাণ সমিতি ও স্বপ্নসিরি গার্মেন্টস,লেডিস ফ্যাশন পয়েন্টস্, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল,এখানে মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ও রুচিসম্মত ডিজাইনের পোশাক তৈরি করি সম্পুর্ণ নিজের হাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাকেরগঞ্জে সুমির উদ্দক্তা হওয়ার পিছনের গল্প

আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

মৃধা জুয়েল
ভুমিকা:আমি নুসরাত জাহান সুমি,
মূলগল্প:
আমি একেবারেই নতুন ও ছোট আকারের একজন নারী উদ্যোক্তা, আমি নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন মেয়ে, আমরা দুই ভাই বোন,আমার বাবা সামান্য চাকুরি করেন।ছোট বেলার স্বপ্ন ছিল একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হবো,
কিন্তু বাবার আর্থিক অবস্থা বেশি ভাল না থাকায় ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায় এবং লেখা পড়া ওখনেই শেষ হয়ে যায়।কিন্তু স্বপ্নটাতো আজও শেষ হয়নি। আমার শশুর বাড়িতে থেকে অনেক চেষ্টা করেছি আমার লেখাপড়া শুরু করার, কিন্তু আমি ব্যর্থ হই।তবে আশা ছারিনি,আমার স্বামির সাথে সংসার জীবন বেশ ভালো এবং আনন্দে কাটছিল,এর মধ্যে আমার ঘরে দুটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়, আমার ছোট ছেলে হবার পরে আমার স্বামি নেশায় আসক্ত হয়ে যায় এবং আমার সংসারে অভাব অনটন শুরু হয়ে যায়।২০০৮ সালে আমি সখের কারনে সেলাই কাজ শিখেছিলাম, এখন এই সেলাই কাজটাকেই আমার অবলম্বন হিসেবে বেছে নিলাম,আমার কাজ এবং আয় দুটোই বারতে চলেছে এবং পাশাপাশি আমার স্বামির নেশাও বারছে,
টাকার জন্য আমার উপরে প্রেশার করা শুরু করছে, বাবার বাড়ি থেকে আমি প্রতিনিয়ত টাকা আনতে শুরু করলাম,এরপর ওর অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়ে যায়,নেশা করে আমার উপরে শারিরীক নির্যাতন শুরু করে,এমন কি হাতের কাছে ধারালো কিছু পেলে নিজেকেও আঘাত করে,এ অবস্থায় আমি অসহায় হয়ে পরি,আমার বাবাও আমাকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়,তখন আমি একেবারেই নিরুপায়। অনেক চিন্তা ভাবনা করে আমি আমার বাবার বাড়িতে এসে উঠলাম,তখন আমাদের এখানে একটি দাতা সংস্থা আছে যার নাম ”ওয়েভ ফাউন্ডেশন”
ওখান থেকে একটি ভোকেশনাল ট্রনিং গ্রহন করি এবং ঐ সংস্থার মাধ্যমে একটি চাকুরি পাই মাত্র ৫০০০/টাকা বেতনে ওখানে কিছুদিন চাকুরি করি, তারপরে দেখলাম চাকুরি করা অনেক কষ্টকর,ভেবে দেখলাম আমি নিজেই তো বেশ কিছু হাতের কাজ শিখেছি তাহলে আমি কেন ব্যাবসা করতে পারবো না ?
ইতি মধ্যে আমি আমার চাকুরির প্রতিষ্ঠানে গার্মেন্টস এর মেশিন গুলাও চালাতে শিখেছি,কিন্তু আমার কাছে কোন মুলধন ছিলনা,তখন আমি আবার ঐ
“ওয়েভ ফাউন্ডেশনের” সহায়তায় একটি উদ্দোক্তা প্রশিক্ষণ গ্রহন করি।
তার পরে ওনারা আমাকে ২৫,০০০/
টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করে,এবং গ্রামিন ব্যংক থেকে ৩০,০০০/টাকা লোন নিয়ে মোট ৫৫,০০০টাকা দিয়ে আমার ব্যাবসা শুরু করলাম,ব্যাবসা শুরু করার পর পারিবারিক ও সামাজিক বাধা আসে প্রচুর কিন্তু আমি পিছিয়ে যাইনি, এমনকি বড় বড় নেতারাও আমার ব্যাবসার সামনে বাধা হয়ে দাড়ায়,তবুও মনে সাহশ নিয়ে এগিয়ে চলেছি, এখন আমার প্রতিষ্ঠানে মোট ৭ জন বেতন ভুক্ত ছেলে মেয়ে কাজ করে।এবং আমার তৈরি পোশাক বেশ কিছু সংখক দোকানে পাইকারি বিক্রি করছি।
উপসংহার:
আমি আমার জীবন থেকে অনুভব করতে পেরেছি যে বেকারত্ব একটা অসুখ,তাই কাজ করা সুরু করেছি
যদিও অনেক ছোট আকারে, তবে স্বপ্ন অনেক বড়,আর এই স্বপ্ন পুরনের জন্য গড়ে তুলেছি “স্বপ্ন সিঁড়ি” নামে নারী কল্যাণ সমিতি ও স্বপ্নসিরি গার্মেন্টস,লেডিস ফ্যাশন পয়েন্টস্, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল,এখানে মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ও রুচিসম্মত ডিজাইনের পোশাক তৈরি করি সম্পুর্ণ নিজের হাতে।