সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

সুযোগ হারাবেন ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৪৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ তহিরুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিনিধি::-

শেষ মুহূর্তের আলোচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে নিশ্চিত করেছেন দলের নীতিনির্ধারক একাধিক নেতা। তবে সংসদ সদস্য থেকে কেন মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন তাপস? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাপস নিজেই। শনিবার রাজধানীর গ্রিন রোডে রূপায়ন টাওয়ারে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন এমপি হিসেবে ঢাকা-১০ একটি আসনে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জনগণের জন্য কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি আসনে কাজ করায় সামগ্রিক উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না যার কারণে জনগণের ফিডব্যাকও কম। তাই দলের প্রতি নিবেদিত থেকে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন। দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে সেই সুযোগ তৈরি করে দেবেন, এ ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চান। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেই উন্নত বাংলাদেশের উন্নত রাজধানী বিনির্মাণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। সেই বিবেচনা করেই তিনি প্রধানমন্ত্রী সিটি কর্পোরেশনকে দুইভাগে বিভক্ত করলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা দেখছি যে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মানুষ কিন্তু এখনও অবহেলিত। তাদের মৌলিক সুবিধাগুলো এখনও পাচ্ছে না। এই বিষয়গুলো আমাকে হতাশ করেছে এবং পীড়া দিয়েছে। তিনি আরও বলেন যানজট তো আমাদের বড় সমস্যা। প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেলের কাজ শুরু করেছেন। সেটা শেষ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে এখন ঢাকার যানজটের যে পরিস্থিতি এটা তো আসলে অসহনীয় অবস্থা। সেখানে তো দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তখন আবার বলতে হয় প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক সাহেব কিছু পরিকল্পনা নিয়েছিলেন আমি চেষ্টা করবো তার মডেলগুলো অনুসরণ করা এবং সেটাকে যদি আরেকটু সংস্কার করতে হয় সেটা করব।
তাপস বলেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে কোন রাস্তায় কোন যানবাহন চলবে সেটার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে। সেই অনুযায়ী সেই রাস্তাগুলোকে সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে। সেভাবে যদি করা যায় তাহলে দেখবেন পুরান ঢাকা স্বমহিমায়, স্বকীয়তায় তার সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত হবে। আমি চিন্তা করছি এক সময়ে ঐতিহ্যবাহী ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ির বড় প্রচলন ছিল। সেটা যেন সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে সেই পরিকল্পনাও আমাদের নিতে হবে।
তিনি বলেন এখানে প্রথমত তার কাজ হবে সিটি করপোরেশন নাগরিকদের যে সেবাগুলো দিতে বাধ্য, সেগুলো নিশ্চিত করা। এতদিন পরেও আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবাগুলোও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারছি না। সুযোগ পেলে প্রথম কাজই হবে সেবাগুলো নিশ্চিত করা। আজকে ডেঙ্গুতে কেন মানুষ মারা যাবে? মশার এমন উপদ্রব কেনো হবে? ডেঙ্গু কেন একটা এপিডেমিক হিসেবে দেখা দেবে? এই জায়গাগুলো আগে নিশ্চিত করাই হবে তার কাজ। ঢাকা-১০ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন নির্বাচিত হতে পারলে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টাও করবেন তিনি। মানুষের নূ্যনতম চাহিদা কিন্তু খুব বেশি নয়। নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে পারলেই মানুষ খুশি হবে বলে তিনি মনে করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক আমাদের জন্য একটি উদাহরণ। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হলে আনিসুল হকের সফলতার মডেল অনুসরণ করবেন তিনি।
ফজলে নূর তাপস বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে তাপস। তার বড় ভাই শেখ ফজলে শামস পরস আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান।
শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিভিন্ন সূত্র এমনটাই দাবি করেছে। তাপস মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনের জল্পনার অবসান হবে। আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ হারাবেন ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন। এদিকে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামই দলের টিকিট পাচ্ছেন বলে শনিবার নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুযোগ হারাবেন ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন।

আপডেট সময় : ০৬:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯

মোঃ তহিরুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিনিধি::-

শেষ মুহূর্তের আলোচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে নিশ্চিত করেছেন দলের নীতিনির্ধারক একাধিক নেতা। তবে সংসদ সদস্য থেকে কেন মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন তাপস? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাপস নিজেই। শনিবার রাজধানীর গ্রিন রোডে রূপায়ন টাওয়ারে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন এমপি হিসেবে ঢাকা-১০ একটি আসনে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জনগণের জন্য কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি আসনে কাজ করায় সামগ্রিক উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না যার কারণে জনগণের ফিডব্যাকও কম। তাই দলের প্রতি নিবেদিত থেকে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন। দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে সেই সুযোগ তৈরি করে দেবেন, এ ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চান। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেই উন্নত বাংলাদেশের উন্নত রাজধানী বিনির্মাণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। সেই বিবেচনা করেই তিনি প্রধানমন্ত্রী সিটি কর্পোরেশনকে দুইভাগে বিভক্ত করলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা দেখছি যে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মানুষ কিন্তু এখনও অবহেলিত। তাদের মৌলিক সুবিধাগুলো এখনও পাচ্ছে না। এই বিষয়গুলো আমাকে হতাশ করেছে এবং পীড়া দিয়েছে। তিনি আরও বলেন যানজট তো আমাদের বড় সমস্যা। প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেলের কাজ শুরু করেছেন। সেটা শেষ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে এখন ঢাকার যানজটের যে পরিস্থিতি এটা তো আসলে অসহনীয় অবস্থা। সেখানে তো দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তখন আবার বলতে হয় প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক সাহেব কিছু পরিকল্পনা নিয়েছিলেন আমি চেষ্টা করবো তার মডেলগুলো অনুসরণ করা এবং সেটাকে যদি আরেকটু সংস্কার করতে হয় সেটা করব।
তাপস বলেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে কোন রাস্তায় কোন যানবাহন চলবে সেটার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে। সেই অনুযায়ী সেই রাস্তাগুলোকে সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে। সেভাবে যদি করা যায় তাহলে দেখবেন পুরান ঢাকা স্বমহিমায়, স্বকীয়তায় তার সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত হবে। আমি চিন্তা করছি এক সময়ে ঐতিহ্যবাহী ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ির বড় প্রচলন ছিল। সেটা যেন সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে সেই পরিকল্পনাও আমাদের নিতে হবে।
তিনি বলেন এখানে প্রথমত তার কাজ হবে সিটি করপোরেশন নাগরিকদের যে সেবাগুলো দিতে বাধ্য, সেগুলো নিশ্চিত করা। এতদিন পরেও আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবাগুলোও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারছি না। সুযোগ পেলে প্রথম কাজই হবে সেবাগুলো নিশ্চিত করা। আজকে ডেঙ্গুতে কেন মানুষ মারা যাবে? মশার এমন উপদ্রব কেনো হবে? ডেঙ্গু কেন একটা এপিডেমিক হিসেবে দেখা দেবে? এই জায়গাগুলো আগে নিশ্চিত করাই হবে তার কাজ। ঢাকা-১০ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন নির্বাচিত হতে পারলে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টাও করবেন তিনি। মানুষের নূ্যনতম চাহিদা কিন্তু খুব বেশি নয়। নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে পারলেই মানুষ খুশি হবে বলে তিনি মনে করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক আমাদের জন্য একটি উদাহরণ। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হলে আনিসুল হকের সফলতার মডেল অনুসরণ করবেন তিনি।
ফজলে নূর তাপস বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে তাপস। তার বড় ভাই শেখ ফজলে শামস পরস আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান।
শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিভিন্ন সূত্র এমনটাই দাবি করেছে। তাপস মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনের জল্পনার অবসান হবে। আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ হারাবেন ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন। এদিকে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামই দলের টিকিট পাচ্ছেন বলে শনিবার নিশ্চিত হওয়া গেছে।