সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বোর্ড ও বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়েছেন । আজকের ক্রাইম নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ৩০২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক::প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বোর্ড ও বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়ে বিচার বিভাগ এবং মেডিকেল বোর্ডের প্রতি একটা ভয়-ভীতি দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কথায় সরাসরি বুঝা যায় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি দেশের প্রধান নির্বাহী হয়ে যেমন বক্তব্য দিচ্ছেন, এটা আমরা মনে করি বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল এবং আদালত অবমাননারও শামিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্যে পরিষ্কার যে তিনি এবং তার সরকার চান না খালেদা জিয়া মুক্ত হন। কিন্তু এই মুক্তি চাওয়া কোন করুণার ব্যাপার না। এটা তার আইনগত প্রাপ্য। তাকে একমাত্র রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যই এ কাজগুলো করা হচ্ছে। যেটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আদালত অবমাননার শামিল। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন। তার এসব বক্তব্যে বুঝা যায় তিনি মেডিকেল বোর্ড এবং বিচারবিভাগকে ভয় দেখিয়েছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একদিকে সাবেক প্রধান বিচারপতির নামে চার্জশিট এবং আরেক দিকে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য এতে আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি এটা বিচার বিভাগ এবং ডাক্তারদের উপর চরম একটা থ্রেড।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা দেয়া হয়েছে। কারণ আমরা যতটুকু জানি গতকাল রাতেই মেডিকেল বোর্ড চূড়ান্ত হয়েছিল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন আজ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ছিল। কিন্তু তার প্রাপ্য জামিন আজও তিনি পেলেন না। বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলরকে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে একটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ শুনানির দিনেও সেটা দেয়া হয়নি। আর অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই কোর্ট শুনানির জন্য আরো এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিয়েছে। সে কারণে আদালতের সিদ্ধান্ত পুরো জাতি আজ শুধু হতাশই হয়নি, চরম বিক্ষুব্ধ হয়েছে।’

খালেদা জিয়াকে জামিন না দিয়ে তার উপর অত্যাচার করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় যখন সাজা দেয়া হয়েছিল, তখন থেকে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া দরকার সেটাও তাকে দেয়া হচ্ছে না। মামলার যে প্রচলিত নিয়ম সে নিয়ম অনুযায়ী তিনি সাত দিনের মধ্যে জামিন পাওয়ার কথা। কিন্তু আজ বিশ মাস হয়ে যাওয়ার পরও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। তার সঙ্গে একটা সাধারণ নাগরিকের মতোও আচরণ করা হচ্ছে না। উল্টো তার ওপর অন্যায়, অত্যাচার নির্যাতন করা হচ্ছে।’

বিএসএমএমইউ’র মেডিকেল বোর্ড আদালতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার রিপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত অবমাননা হয়েছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আজ বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করার কথা ছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর নতুন একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। চারজন চিকিৎসকের সমন্বয় এ বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। আজ সে রিপোর্ট দেয়ারও কথা ছিল। কিন্তু মেডিকেল বোর্ড এ রিপোর্ট আদালতে দাখিল করতে ব্যর্থ হয়। আমরা মনে করি তারা আদালত অবমাননা করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বোর্ড ও বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়েছেন । আজকের ক্রাইম নিউজ

আপডেট সময় : ০১:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক::প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বোর্ড ও বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়ে বিচার বিভাগ এবং মেডিকেল বোর্ডের প্রতি একটা ভয়-ভীতি দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কথায় সরাসরি বুঝা যায় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি দেশের প্রধান নির্বাহী হয়ে যেমন বক্তব্য দিচ্ছেন, এটা আমরা মনে করি বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল এবং আদালত অবমাননারও শামিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্যে পরিষ্কার যে তিনি এবং তার সরকার চান না খালেদা জিয়া মুক্ত হন। কিন্তু এই মুক্তি চাওয়া কোন করুণার ব্যাপার না। এটা তার আইনগত প্রাপ্য। তাকে একমাত্র রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যই এ কাজগুলো করা হচ্ছে। যেটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আদালত অবমাননার শামিল। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন। তার এসব বক্তব্যে বুঝা যায় তিনি মেডিকেল বোর্ড এবং বিচারবিভাগকে ভয় দেখিয়েছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একদিকে সাবেক প্রধান বিচারপতির নামে চার্জশিট এবং আরেক দিকে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য এতে আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি এটা বিচার বিভাগ এবং ডাক্তারদের উপর চরম একটা থ্রেড।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা দেয়া হয়েছে। কারণ আমরা যতটুকু জানি গতকাল রাতেই মেডিকেল বোর্ড চূড়ান্ত হয়েছিল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন আজ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ছিল। কিন্তু তার প্রাপ্য জামিন আজও তিনি পেলেন না। বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলরকে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে একটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ শুনানির দিনেও সেটা দেয়া হয়নি। আর অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই কোর্ট শুনানির জন্য আরো এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিয়েছে। সে কারণে আদালতের সিদ্ধান্ত পুরো জাতি আজ শুধু হতাশই হয়নি, চরম বিক্ষুব্ধ হয়েছে।’

খালেদা জিয়াকে জামিন না দিয়ে তার উপর অত্যাচার করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় যখন সাজা দেয়া হয়েছিল, তখন থেকে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া দরকার সেটাও তাকে দেয়া হচ্ছে না। মামলার যে প্রচলিত নিয়ম সে নিয়ম অনুযায়ী তিনি সাত দিনের মধ্যে জামিন পাওয়ার কথা। কিন্তু আজ বিশ মাস হয়ে যাওয়ার পরও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। তার সঙ্গে একটা সাধারণ নাগরিকের মতোও আচরণ করা হচ্ছে না। উল্টো তার ওপর অন্যায়, অত্যাচার নির্যাতন করা হচ্ছে।’

বিএসএমএমইউ’র মেডিকেল বোর্ড আদালতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার রিপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত অবমাননা হয়েছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আজ বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করার কথা ছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর নতুন একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। চারজন চিকিৎসকের সমন্বয় এ বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। আজ সে রিপোর্ট দেয়ারও কথা ছিল। কিন্তু মেডিকেল বোর্ড এ রিপোর্ট আদালতে দাখিল করতে ব্যর্থ হয়। আমরা মনে করি তারা আদালত অবমাননা করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।