সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়মের সত্যতা, পুনঃতদন্তে প্রশাসন রাজাপুরে বেহাল সড়ক পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন: দুই যুগের দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ চুয়াডাঙ্গায় রাইচ কুকারের সুইচ দেবার কালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু রহমতপুর সমিতি ঢাকা আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে,

সাঁতার কেটে দুটি খাল পার হয়ে তবেই স্কুলে যায় গরিব ঘরের অদম্য শিক্ষার্থী তসলিমা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৯ ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেক্সঃ সাঁতার কেটে দুটি খাল পার হয়ে তবেই স্কুলে যায় গরিব ঘরের অদম্য শিক্ষার্থী তসলিমা।।।বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে স্কুল। সেই স্কুলে যেতে তাকে সাঁতার কেটে পার হতে হয় দুটি খাল। অথচ, তার বয়সের শিক্ষার্থীরা একটু সুযোগ পেলেই স্কুল পালায়। অথবা ছোট-খাটো অজুহাতে কামাই দেয় স্কুল।এই অদম্য শিক্ষার্থীর নাম তসলিমা খাতুন। সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর অনুপনগরে। সম্প্রতি, ভারত ফারাক্কা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় পানি বেড়ে যায় পদ্মা ও মহানন্দা নদীর। এই মহানন্দার দুটি খাল পানিতে ভরে যায়। তাই স্কুলে যেতে তাকে সাঁতার কাটতে হয়।গরিব ঘরে জন্ম তসলিমার। সংসারে আট ভাই-বোন। যে গ্রামে বিদ্যালয়-ছুট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ও বাল্য বিয়ের প্রবণতা রয়েছে সেই গ্রামে থেকে ১৪ বছর বয়সী তসলিমা লেখাপড়ার জন্যে মেনে নিতে পারে যেকোনো কষ্ট। কেননা, সে জানে শিক্ষাই তাকে মুক্তি দিবে সব দুঃখ-দারিদ্র্য থেকে।আড়াই কিলোমিটার দূরে স্কুল। তাই প্রতিদিন আসা-যাওয়ায় তাকে পাঁচ কিলোমিটার চলাচল করতে হয়। পুরো পথ তাকে হাঁটতে ও সাঁতার কাটতে হয়। কিন্তু, এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই তসলিমার।তসলিমা জানায়, বাবা মারা যাওয়ায় আমার বড় ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু, তার আয়ও খুব বেশি না। তার তিন বোনের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে গেলেও তার ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে। তসলিমার৷ ভাষায়, “আমরা গরিব। নিজেরে শিক্ষিত করতে পড়ালেখা করতে চাই। পড়া শেষ করে যাতে চাকরি পাই।”তসলিমার বোন নাসিমা খাতুন বলেন, “আমরা সবাই চাই তসলিমা লেখাপড়া করুক। পড়ালেখা করে সে যেনো তার জীবনে সফল হতে পারে।”অনুপনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মাহতাবউদ্দিন বলেন, “তসলিমাকে কোনোদিন ক্লাস মিস করতে দেখি নাই। খালগুলো পানিতে ভরে গেলেও সে স্কুল ফাঁকি দেয়নি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাঁতার কেটে দুটি খাল পার হয়ে তবেই স্কুলে যায় গরিব ঘরের অদম্য শিক্ষার্থী তসলিমা

আপডেট সময় : ১০:০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৯

অনলাইন ডেক্সঃ সাঁতার কেটে দুটি খাল পার হয়ে তবেই স্কুলে যায় গরিব ঘরের অদম্য শিক্ষার্থী তসলিমা।।।বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে স্কুল। সেই স্কুলে যেতে তাকে সাঁতার কেটে পার হতে হয় দুটি খাল। অথচ, তার বয়সের শিক্ষার্থীরা একটু সুযোগ পেলেই স্কুল পালায়। অথবা ছোট-খাটো অজুহাতে কামাই দেয় স্কুল।এই অদম্য শিক্ষার্থীর নাম তসলিমা খাতুন। সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর অনুপনগরে। সম্প্রতি, ভারত ফারাক্কা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় পানি বেড়ে যায় পদ্মা ও মহানন্দা নদীর। এই মহানন্দার দুটি খাল পানিতে ভরে যায়। তাই স্কুলে যেতে তাকে সাঁতার কাটতে হয়।গরিব ঘরে জন্ম তসলিমার। সংসারে আট ভাই-বোন। যে গ্রামে বিদ্যালয়-ছুট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ও বাল্য বিয়ের প্রবণতা রয়েছে সেই গ্রামে থেকে ১৪ বছর বয়সী তসলিমা লেখাপড়ার জন্যে মেনে নিতে পারে যেকোনো কষ্ট। কেননা, সে জানে শিক্ষাই তাকে মুক্তি দিবে সব দুঃখ-দারিদ্র্য থেকে।আড়াই কিলোমিটার দূরে স্কুল। তাই প্রতিদিন আসা-যাওয়ায় তাকে পাঁচ কিলোমিটার চলাচল করতে হয়। পুরো পথ তাকে হাঁটতে ও সাঁতার কাটতে হয়। কিন্তু, এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই তসলিমার।তসলিমা জানায়, বাবা মারা যাওয়ায় আমার বড় ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু, তার আয়ও খুব বেশি না। তার তিন বোনের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে গেলেও তার ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে। তসলিমার৷ ভাষায়, “আমরা গরিব। নিজেরে শিক্ষিত করতে পড়ালেখা করতে চাই। পড়া শেষ করে যাতে চাকরি পাই।”তসলিমার বোন নাসিমা খাতুন বলেন, “আমরা সবাই চাই তসলিমা লেখাপড়া করুক। পড়ালেখা করে সে যেনো তার জীবনে সফল হতে পারে।”অনুপনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মাহতাবউদ্দিন বলেন, “তসলিমাকে কোনোদিন ক্লাস মিস করতে দেখি নাই। খালগুলো পানিতে ভরে গেলেও সে স্কুল ফাঁকি দেয়নি।”