চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় গার্মেন্টস মালিকের উপর হামলা, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট।
- আপডেট সময় : ১২:০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ মে ২০২১ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে

মো:কামরুজ্জামান দর্শনা থানা প্রতিনিধি।
দর্শনার রেল বাজারে গার্মেন্টস দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখতে নিষেধ করায় গার্মেন্টস মালিককে মারপিঠ,দৌকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে । গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে দর্শনা রেলবাজার কালার্স স্টাইল গার্মেন্টসের সামনে পথ আটকে মোটরসাইকেল রাখে দর্শনা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রবিউল হক সুমনের ভাতিজা আজমপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাগর ( চয়না সাগর)। এ সময় কালার্স স্টাইল গার্মেন্টসের মালিক দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের সালামত হোসেনের ছেলে রায়হান উদ্দিন রানা, সাগর কে (চায়না সাগর ) মোটরসাইকেল সাইডে রাখতে বললে, সাইডে না রেখে উত্তেজিত হয়ে দোকানের ভিতর ছুটে আসে এবং এক পর্যায়ে দোকান মালিক রানাকে ধাক্কা দেয় । এ সময় রানার ছোট ভাই সোহেল রানা তার ভাইকে মারতে দেখে ছুটে আসলে এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এই বিষয়টি দর্শনা থানায় ও রেল বাজার কমিটির নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়।
উভয় পক্ষের বিচারের জন্য দর্শনা থানা সময় নির্ধারণ করে সন্ধ্যা ৭টা । এর আগে দর্শনা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও দর্শনা পৌরসভা প্যানেল মেয়র নিজের ভাতিজা সাগরের (চায়না সাগর ) অন্যায় আড়াল করতে কালার্স স্টাইল গার্মেন্টসের দোকানে এসে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালাগালিজসহ জীবন নাশের হুমকি এবং ব্যবসা বন্ধের প্রত্যয় ব্যক্ত করে । হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্যানেল মেয়র রবিউল হক সুমন তার ক্যাডার বাহিনী পাঠিয়ে কালার্স স্টাইল গার্মেন্টসে দোকান ভর্তি ক্রেতা থাকলেও তার কোনো তোয়াক্কা না করেই হামলা, ভাঙচুর লুটপাট করিয়েছে বলে জানান দোকান মালিক। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের ক্যাডার বাহিনী মালিকের ছোট ভাইকে দোকানের মধ্য থেকে মারপিঠ করতে করতে উঠিয়ে নিয়ে যায়, যা ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও থেকে প্রকাশ পাই।
ছোট ভাই কে মারতে দেখে ছুটে আসে বড় ভাই রানা সে সময় সুমনের ক্যাডার বাহিনী রানার উপরে হামলা করে। পরে তাদেরকে উপস্থিত লোক জন উদ্ধার করে দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ সময় দোকান ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে আনুমানিক নগদ ১ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা লুট করেছে বলে জানান। এই বিষয়ে প্যানেল মেয়র রবিউল হক সুমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রথম দফার ঘটনার কথা জানি যে মীমাংসা করার কথা বলা হয়েছিল। পরে আমার ভাতিজাসহ বেশ কিছু লোক জন গিয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছে আমি তার কিছুই জানি না । তবে প্রথম দফার ঘটনাই আমার ভায়ের ছেলে আহত হয়েছে।
আহত রানা ও সোহেলের কাছে মামলার বিষয় জানতে চাইলে সাংবাদিকদের জানান আজমপুরের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাগর ( চয়না সাগর), কেরু মিল পাড়ার মুজামের ছেলে যুবাইর, ইউনুসের ছেলে তরিকুল,আজমপুরের মহিউদ্দিনের ছেলে ইমন,মোহাম্মদ পুরের পান্নার ছেলে শাওন, নুর নবীর ছেলে রানা, আজাদের ছেলে শাহাদাত, আঃ রবের ছেলে রুমন, প্যানেল মেয়র সুমনসহ হামলাকারিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বিষয়টি দর্শনা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মাহাবুব রহমান (কাজল) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন । এ সময় ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন দর্শনা থানার ওসি তদন্ত মাহাবুবুর রহমান।


























