ভালুকায় সড়কে গণমানুষের ঢল; কোরোনা’ র চেয়ে বড আতংক চাকুরী হারানোর.’ ভয়!
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ ১৫৮৩ বার পড়া হয়েছে

শরীফ হোসেন জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ ঃ—ময়মনসিংহের ভালুকায় করোনা আতংকের চেয়ে চাকুরী হারানো’র শংকা তাদের কাছে অনেক বেশী ভয়ের। সরকারী অফিস গুলো’র ছুটি বর্ধিত করা হলেও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী গুলোর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষনা নেই। বিজিএমইএ ৪এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষনার পরও অনেক কারখানা বন্ধ করা হয়নি। ভালুকা হামিদ টেক্সটাইল মিলে বুধবার(১এপ্রিল) শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে কারখানা বন্ধের ব্যাবস্থা করে। একই ২৮মার্চ হবিরবাড়ীর আমতলী এলাকার কটন মিল ও সিডষ্টোর এলাকার ক্রিস্টাল মার্টিনের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে ছুটি আদায় করেছিল। ছুটি’র নির্দেশনা থাকলেও সব ফ্যাক্টরী তা অনুসরন করেনি।
শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে ছুটি চাইলে অনুপস্থিত দেখিয়ে বেতন কর্তন ক্ষেত্র বিশেষ চাকুরীচ্যুতি করা হতো। ফলে ৪এপ্রিলের পুর্ব ঘোষিত ছুটি মোতাবেক কাজে যোগদান না করলে ছাঁটাই তালিকায় অর্ন্তভুক্তির শংকা রয়েছে শ্রমিকদের। এ দায় থেকেই সড়কে প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্বেও রাস্তায় নেমে আসে তারা। মহাসড়ক অনেকটা অঘোষিত ’লক ডাউন’ থাকায় গনপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় কিভাবে গন্তব্যে পৌঁছুতে হবে তা অনিশ্চিত। এরপরও সড়কে মানুষের ঢল। অনেকটা বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো। পায়ে হেঁটেই রওনা হয়েছে তারা। কেউ ঢাকা কেউ গাজীপুর কেউ বা অন্যত্র সবার চিন্তা একটাই। ফলে সরকারী ঘোষনা ও সামাজিক দুরত্ব হয়ে পড়েছে অসহায়। শুক্রবার বিকেলে সড়কে মানুষের বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার দেখে হতবাক হয়ে যায় স্থানীয়রা। প্রথমে বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষনের মধ্যে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে উঠে এরা অধিকাংশই কারখানা শ্রমিক। হাইওয়ে পুলিশ প্রথম দিকে ব্যারিকেট দেয়ার চেষ্ঠা চালিয়ে এক পর্যায়ে নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। জনতার ঢল রোধ করা দু:সাধ্য হয়ে পড়ে। ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাক,লড়ি,অটোবাইক থামিয়ে যাত্রীদের নামানো হলেও ব্রিজের ওপারে নিজেরাই অনির্ধারিত ষ্টেশন গড়ে তোলে।
এ দিকে শুক্রবার বিকেলে সড়কে এসে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। এ সময় পুলিশের সাথে তাঁর বচসা’র একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে ঘুরছে। ভিডিওটিতে দেখা যায় উপজেলা চেয়ারম্যান হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তার সাথে রাগান্বিত হয়ে উচ্চস্বরে কথা বলছেন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে নিন্দা জ্ঞাপন করছেন। যদিও হাইওয়ে পুলিশ তা বার বার অস্বীকার করে যাচ্ছে। ভিডিওটিতে আরো দেখা যায় পুলিশের উপস্থিতিতেই ভুক্তভুগীরা টাকা দেয়ার কথা অভিযোগ করে যাচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উপ্তপ্তের মধ্যেই হাইওয়ে পুলিশকে কৌশলে সটকে পড়তে। সামাজিক দুরত্ব সৃষ্টি ও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক গনজমায়েত যখন নিষিদ্ধ তখন ভোগান্তির মধ্যে পড়ে যাত্রীরা একত্রিত হওয়ায় সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা চলছে। মন্তব্য চলছে সমন্বয়হীনতার। সরকারের পক্ষ থেকে কারখানা মালিকদের সাথে ছুটির বিষয়ে সমন্বয় না ঘটায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেই মন্তব্য সবার। সচেতন মহলের অভিমত ১১এপ্রিল পর্যন্ত সরকারী ছুটি বর্ধিত করা হলেও কারখানার ছুটি বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষনা নেই। যার সুযোগ নিচ্ছে ফ্যাক্টরী গুলো। এ অবস্থায় সামাজিক দুরত্ব সৃষ্টি কিংবা করোনা মোকাবেলায় সচেতনতা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। লাখ লাখ শ্রমিককে রাস্তা বের করে দিয়ে জনগনকে ঘরমুখো করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে এ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ’বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেঁরো’ বলে অভিহিত করছেন। অর্থনীতি অবশ্যই মানুষের জীবনের চেয়ে মুল্যবান নয় এ বিষয়েও কথা উঠছে। বিষয়টিকে কিভাবে দেখবেন কর্তৃপক্ষ সে অপেক্ষায় সবাই।


























