সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘জেলা পরিষদ মেধাবৃত্তি-২০২৬’ প্রদান বানারীপাড়ায় জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনাসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠিত ব্যক্তি অর্থায়নে সড়কের সংস্কার করলেন রাজন শিকদার বাবুগঞ্জে জুলাই শহীদ দিবস পালিত, শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া। খাল দখলমুক্ত করতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার ​ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার দর্শনার হাজীদের বার্ষিক মিলন মেলা অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সংলগ্ন ৫৪ নদী পলিথিনের দখলে সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত দেড় যুগেও সংস্কার হয়নি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক

​ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

​ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি :
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

​ঝালকাঠির সামগ্রিক উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার একটি বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ক বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, অতীতে ঝালকাঠির উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পিরোজপুরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় জেলাটি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন থেকে ঝালকাঠির জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, যার মাধ্যমে জেলার গ্রামগঞ্জে সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।
​বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উন্নয়ন ও সহায়তা বিতরণ-সংক্রান্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
​ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিশোধের রাজনীতিতে নয়, উন্নয়ন ও সুশাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। গত ১৭ বছরের জুলুম ও নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি বিএনপি করবে না। আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

সভায় ঝালকাঠির উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান:
​ ঝালকাঠিতে দেশের প্রথম ‘কালচারাল ভিলেজ’ বা সাংস্কৃতিক পল্লী নির্মাণের জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে।
​স্পোর্টস কমপ্লেক্স: তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশ ও মাদক থেকে দূরে রাখতে আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
​স্বাস্থ্যসেবা: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালকে দ্রুত ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
​অবকাঠামো ও পরিবেশ: গাবখান চ্যানেলের সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং কেওড়া ইউনিয়নের সারেঙ্গল বাজার নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে জেলায় ৩০ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
​তিনি প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ঝালকাঠি’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য ঝালকাঠি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
​সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আককাস সিকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’, কৃষকদের মাঝে বীজ ও কৃষি উপকরণ এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

​ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

​ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

আপডেট সময় : ১২:৫৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

​ঝালকাঠির সামগ্রিক উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার একটি বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ক বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, অতীতে ঝালকাঠির উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পিরোজপুরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় জেলাটি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন থেকে ঝালকাঠির জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, যার মাধ্যমে জেলার গ্রামগঞ্জে সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।
​বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উন্নয়ন ও সহায়তা বিতরণ-সংক্রান্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
​ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিশোধের রাজনীতিতে নয়, উন্নয়ন ও সুশাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। গত ১৭ বছরের জুলুম ও নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি বিএনপি করবে না। আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

সভায় ঝালকাঠির উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান:
​ ঝালকাঠিতে দেশের প্রথম ‘কালচারাল ভিলেজ’ বা সাংস্কৃতিক পল্লী নির্মাণের জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে।
​স্পোর্টস কমপ্লেক্স: তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশ ও মাদক থেকে দূরে রাখতে আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
​স্বাস্থ্যসেবা: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালকে দ্রুত ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
​অবকাঠামো ও পরিবেশ: গাবখান চ্যানেলের সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং কেওড়া ইউনিয়নের সারেঙ্গল বাজার নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে জেলায় ৩০ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
​তিনি প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ঝালকাঠি’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য ঝালকাঠি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
​সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আককাস সিকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’, কৃষকদের মাঝে বীজ ও কৃষি উপকরণ এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।