আগৈলঝাড়া শতবর্ষী ভেগাই হালদার একাডেমিতে অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ: ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ০৭:০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের আগৈলঝাড়ার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে চরম বিতর্ক, অব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ক্ষুণ্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও সাবেক আওয়ামী লীগ পন্থী উপজেলা চেয়ারম্যান যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বিরুদ্ধে।
বর্তমানে ওই একাডেমিতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে টেন পর্যন্ত পড়াশুনা করেন প্রায় সাতশোর অধিক শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ১,৪০০-এর বেশি পলিথিন ব্যাগে চাল ও ডাল বিতরণ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই বিতরণের নামে প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ টাকা করে (সর্বমোট প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা) একপ্রকার জোরপূর্বক বা চাপ সৃষ্টি করে আদায় করা হয়েছে। যেখানে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।
বিদ্যালয়টির মূল ভিত্তি ছিল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি। তবে অভিযোগ উঠেছে, অনুষ্ঠানের তবারক রান্নার দায়িত্বে থাকা সিরাজ নামের এক মুসলিম বাবুর্চির সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তাকে ৪-৫ ঘণ্টা খাটিয়ে নিয়ে রাত ১২টায় বিদায় করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (৬ তারিখ) সকালের নির্ধারিত পরীক্ষা কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দুপুর ২টায় নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ায় চরম মানসিক চাপ ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। অভিভাবকরা একে প্রধান শিক্ষকের চরম খামখেয়ালিপনা ও স্বেচ্ছাসারিতা বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে এবং প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে সবকিছু পরিচালনা করছেন।
অর্থ আদায় ও সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি (যতিন স্যার) কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। উল্টো আদি আমলের নিয়মের দোহাই দিয়ে দাম্ভিকতার সুরে বলেন-আমাদের স্কুলের বয়স ১০০ বছরের উপরে, আদি আমলের নিয়ম অনুসারে এখন পর্যন্ত আমরা এই কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা চাইলে নিউজ করতে পারেন।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহবুব বলেন,আমি বিষয়টি শুনেছি এবং সত্যতা যাচাই করছি। শিক্ষার সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে—কোনোভাবেই ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে নিয়মনীতি বহির্ভূত টাকা-পয়সা নেওয়া যাবে না। তদন্তে সরকারি নিয়মের লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠের সুনাম রক্ষার্থে এবং প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী।




















