বাবুগঞ্জে বনায়নের ১০ লক্ষাধিক টাকার গাছ কাটার অভিযোগ রনি মোল্লার বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে সামাজিক বনায়নের আওতায় প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৩২টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের ডাব সমিতি থেকে বড় মোল্লাবাড়ি পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের দুই পাশে সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে এসব গাছ রোপণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৫ জুনের পর থেকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফিরোজ মোল্লার ছেলে রনি মোল্লা গাছগুলো কেটে গোপনে বিক্রি করেন।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৫ মে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান সিকদারের উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার বাবুগঞ্জ এলাকার তৎকালীন সমন্বয়কারী আব্দুর রহিমের তত্ত্বাবধানে রাকুদিয়া ডাকঘর থেকে মোল্লাবাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরবর্তীতে জীবনতরী মহিলা সমিতির অধীনে ২০ সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, গাছের মালিকানার ৭০ শতাংশ জীবনতরী মহিলা সমিতির সদস্যদের, ১৫ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদের এবং বাকি ১৫ শতাংশ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার।
সুবিধাভোগীরা জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর নিজেদের অর্থ ব্যয় করে তারা গাছগুলোর পরিচর্যা করেছেন। ছোট চারাগাছ থেকে এগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ ও মূল্যবান মেহগনি গাছে পরিণত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাটা গাছের গোড়া পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৩২টি বড় আকারের মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গাছ কাটার পর বিভিন্ন স্থানে গাছের গোড়া আগাছা ও ঝোপঝাড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
জীবনতরী মহিলা সমিতির সভানেত্রী আলেয়া বেগম লিলি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে গাছগুলোর পরিচর্যা করেছি। আমি এলাকায় না থাকার সুযোগে গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রনি মোল্লা বলেন, “সুবিধাভোগীদের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা ও বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কেউ অবৈধভাবে গাছ কেটে বা বিক্রি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার উপজেলা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।



















