সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সাবের হোসেন এর হাত থেকে বাঁচতে চায় ঝালকাঠির দুটি গ্রামের নিরীহ মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:ঝালকাঠি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাসন্ডা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ সাবের হোসেন এর হাত থেকে মুক্তি চায় ঝালকাঠি সদরের দুটি ইউনিয়নের দুই গ্রামের নিরীহ লোকজন। ১৯ এপ্রিল বিকেল ৫ টায় পরমহল গ্রামে দুই গ্রামের অসহায় গ্রামবাসী কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সহজ সরল অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা জানায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ সাবের হোসেন এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তার করে বসতভিটা, নাল ও ফসলী , রবিশস্যের জমি, পুকুর জলাশয়, কবরস্থান,গাছপালা জবরদখল করে নিয়ে যায়। তারা জানায় ভূমি দস্যু সাবের হোসেন হাওলাদার নামের পিছনে শেখ লাগিয়ে শেখ সাবের হোসেন নাম ধারণ করেন।

তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের বেতলোচ ও পার্শ্ববর্তী নবগ্রাম ইউনিয়নের পরমহল গ্রামের ২০/২৫ টি পরিবারের জমি জাল দলিল , ভয় ভীতি প্রদর্শন , স্বল্পমূল্যে জমিয়ে লিখিয়ে নেওয়া, ও জবরদখল সহ লাখ লাখ টাকা গাছ কেটে নিয়ে তাদেরকে পথে বসিয়েছে।

তারা অভিযোগে আরো জানান সাবের হোসেন পরমহল গ্রামের দুই শত বছরের একটি প্রাচীন মসজিদের ১ লাখ ৮২ টাকার গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ সর্দারের ছেলে মোঃ মাসুদ সরদার সহ ১৪ জন ওয়ারিশের ৭৪ শতাংশ জমি ও জবর দখল এবং ৩লাখ ৬১ হাজার টাকার গাছ কেটে নিয়ে যায়। মোহাম্মদ নাসির মির্জার ৪ শতাংশের বাগান ও জমি জবরদখল করে। জিয়া ও এরশাদ হাওলাদারের ১৩ শতাংশ জমি দখল করে নেয়।
বাসন্ডা ইউনিয়নের আব্দুল লতিফ মাস্টারের ২১ শতাংশ বাগান ও নাল জমি, সলিম হাওলাদারের ৩৩ শতাংশ নাল জমি, এবং ৩০ শতাংশ রবি কৃষির জমি, নজরুল মৃধার ৯ শতাংশ বসত ও নাল জমি, বিধবা হোসনেয়ারা বেগম বাঁশির ২ লাখ টাকা মূল্যের ১১ টি বৃহৎ গাছ, ও ১২ শতাংশ বসতভিটা, সাবের হোসেনের ভাতিজা মোহাম্মদ কালামের ১৬ শতাংশ বসতভিটা, মজিবুর হাওলাদারের ৫ শতাংশ বসতভিটা, জবর দখল করে তিনি ভোগ করেন। এছাড়াও আরো অনেক অসহায় নিরীহ লোকদের সম্পদ ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা আরো জানান তৎকালীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকায় তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। তার বিরুদ্ধে কোন কথা বললে বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হতো। শুধু তাই নয়, জীবননাশের হুমকি সহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখানো হতো।
গত ৫ আগস্ট এর পর তিনি আত্মগোপনে গেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকে শসা জমিতে গিয়ে বসবাস করে। কিন্তু ঐ সকল জমিতে কোন গাছ পালা কর্তন করতে গেলে সাবের হোসেন তার সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে তা বন্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয় ভীতি দেখান।
অসহায় গ্রামবাসীরা বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর প্রতিকার চেয়েছেন।

শেখ সাবের হোসেন জানান তাদের অভিযোগ মিথ্যা, আমাকে হয়রানি করার জন্য এই ভিত্তিহীন অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কাগজ ছাড়া জমির মালিক হওয়া যায় না জমির কাগজ আমার কাছে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সাবের হোসেন এর হাত থেকে বাঁচতে চায় ঝালকাঠির দুটি গ্রামের নিরীহ মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:ঝালকাঠি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাসন্ডা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ সাবের হোসেন এর হাত থেকে মুক্তি চায় ঝালকাঠি সদরের দুটি ইউনিয়নের দুই গ্রামের নিরীহ লোকজন। ১৯ এপ্রিল বিকেল ৫ টায় পরমহল গ্রামে দুই গ্রামের অসহায় গ্রামবাসী কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সহজ সরল অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা জানায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ সাবের হোসেন এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তার করে বসতভিটা, নাল ও ফসলী , রবিশস্যের জমি, পুকুর জলাশয়, কবরস্থান,গাছপালা জবরদখল করে নিয়ে যায়। তারা জানায় ভূমি দস্যু সাবের হোসেন হাওলাদার নামের পিছনে শেখ লাগিয়ে শেখ সাবের হোসেন নাম ধারণ করেন।

তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের বেতলোচ ও পার্শ্ববর্তী নবগ্রাম ইউনিয়নের পরমহল গ্রামের ২০/২৫ টি পরিবারের জমি জাল দলিল , ভয় ভীতি প্রদর্শন , স্বল্পমূল্যে জমিয়ে লিখিয়ে নেওয়া, ও জবরদখল সহ লাখ লাখ টাকা গাছ কেটে নিয়ে তাদেরকে পথে বসিয়েছে।

তারা অভিযোগে আরো জানান সাবের হোসেন পরমহল গ্রামের দুই শত বছরের একটি প্রাচীন মসজিদের ১ লাখ ৮২ টাকার গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ সর্দারের ছেলে মোঃ মাসুদ সরদার সহ ১৪ জন ওয়ারিশের ৭৪ শতাংশ জমি ও জবর দখল এবং ৩লাখ ৬১ হাজার টাকার গাছ কেটে নিয়ে যায়। মোহাম্মদ নাসির মির্জার ৪ শতাংশের বাগান ও জমি জবরদখল করে। জিয়া ও এরশাদ হাওলাদারের ১৩ শতাংশ জমি দখল করে নেয়।
বাসন্ডা ইউনিয়নের আব্দুল লতিফ মাস্টারের ২১ শতাংশ বাগান ও নাল জমি, সলিম হাওলাদারের ৩৩ শতাংশ নাল জমি, এবং ৩০ শতাংশ রবি কৃষির জমি, নজরুল মৃধার ৯ শতাংশ বসত ও নাল জমি, বিধবা হোসনেয়ারা বেগম বাঁশির ২ লাখ টাকা মূল্যের ১১ টি বৃহৎ গাছ, ও ১২ শতাংশ বসতভিটা, সাবের হোসেনের ভাতিজা মোহাম্মদ কালামের ১৬ শতাংশ বসতভিটা, মজিবুর হাওলাদারের ৫ শতাংশ বসতভিটা, জবর দখল করে তিনি ভোগ করেন। এছাড়াও আরো অনেক অসহায় নিরীহ লোকদের সম্পদ ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা আরো জানান তৎকালীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকায় তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। তার বিরুদ্ধে কোন কথা বললে বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হতো। শুধু তাই নয়, জীবননাশের হুমকি সহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখানো হতো।
গত ৫ আগস্ট এর পর তিনি আত্মগোপনে গেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকে শসা জমিতে গিয়ে বসবাস করে। কিন্তু ঐ সকল জমিতে কোন গাছ পালা কর্তন করতে গেলে সাবের হোসেন তার সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে তা বন্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয় ভীতি দেখান।
অসহায় গ্রামবাসীরা বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর প্রতিকার চেয়েছেন।

শেখ সাবের হোসেন জানান তাদের অভিযোগ মিথ্যা, আমাকে হয়রানি করার জন্য এই ভিত্তিহীন অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কাগজ ছাড়া জমির মালিক হওয়া যায় না জমির কাগজ আমার কাছে রয়েছে।