সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

বিরামপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন: ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে, দিশেহারা কৃষকরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর (পিতা: মোঃ বাবু মিয়া)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজস্ব জমির অজুহাতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। এতে এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিন-রাত সমান তালে ট্রাক ও শ্রমিক ব্যবহার করে নির্বিচারে বালু উত্তোলন চলছে। এর ফলে শুধু সংশ্লিষ্ট জমিই নয়, আশপাশের আবাদি জমিগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও জমি দেবে গিয়ে চাষাবাদের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, বছরের পর বছর ধরে চাষাবাদ করা জমি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
পরিবেশ বিপদের মধ্যে, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে ভূমির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সরকারি আইন অনুযায়ী, কৃষিজমি বা যেকোনো ভূমি থেকে অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় এ ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব আইন অমান্য করে অবাধে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, “আমাদের ফসলি জমি রক্ষা করতে হলে এখনই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
এ বিষয়ে এখনো স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে শুধু কৃষি নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিরামপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন: ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে, দিশেহারা কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৫:৫০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর (পিতা: মোঃ বাবু মিয়া)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজস্ব জমির অজুহাতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। এতে এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিন-রাত সমান তালে ট্রাক ও শ্রমিক ব্যবহার করে নির্বিচারে বালু উত্তোলন চলছে। এর ফলে শুধু সংশ্লিষ্ট জমিই নয়, আশপাশের আবাদি জমিগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও জমি দেবে গিয়ে চাষাবাদের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, বছরের পর বছর ধরে চাষাবাদ করা জমি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
পরিবেশ বিপদের মধ্যে, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে ভূমির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সরকারি আইন অনুযায়ী, কৃষিজমি বা যেকোনো ভূমি থেকে অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় এ ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব আইন অমান্য করে অবাধে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, “আমাদের ফসলি জমি রক্ষা করতে হলে এখনই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
এ বিষয়ে এখনো স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে শুধু কৃষি নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।