সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পাশাপাশি সাংবাদিকতা: বিরামপুরে শিক্ষা ও জনসেবায় চরম অবহেলার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় শিক্ষকতা ও অন্যান্য সরকারি চাকরির পাশাপাশি সাংবাদিকতায় জড়িত থাকার প্রবণতা নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বশীল পেশায় নিয়োজিত অনেকেই সমান্তরালে সাংবাদিকতায় সক্রিয় হয়ে পড়ায় তাদের মূল দায়িত্ব পালনে দেখা দিচ্ছে চরম অবহেলা—যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা ও জনসেবায়।
সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, অনেক শিক্ষক ও সরকারি চাকরিজীবী নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সাংবাদিকতার কাজে সময় ব্যয় করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সময়োপযোগী ও মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, পাঠদানের মান নিম্নমুখী হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছে, এভাবে চলতে থাকলে দেশ গড়ার মূল ভিত্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
একইভাবে সরকারি চাকরিজীবীরা যখন জনসেবার পরিবর্তে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবা পেতে দেরি, হয়রানি এবং অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে, যা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষক বা সরকারি কর্মচারীদের সাংবাদিকতায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও বিরামপুর উপজেলায় এ নিয়ম অমান্য করে অনেকেই দ্বৈত পেশায় জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসার ও পৌর কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার অভিযোগ দাখিল করা হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, আইন প্রয়োগে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ধরে রাখতে শিক্ষকদের শতভাগ মনোযোগ অত্যন্ত জরুরি। একজন শিক্ষক যদি তার নির্ধারিত সময় শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করেন, তবে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এ প্রেক্ষাপটে এলাকাবাসী দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিশেষ করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি তাদের আকুল আবেদন—সরকারি বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে শিক্ষক ও চাকরিজীবীদের নিজ নিজ দায়িত্বে শতভাগ নিশ্চিত করা হোক এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
শিক্ষা ও জনসেবা—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে। এখনই প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পাশাপাশি সাংবাদিকতা: বিরামপুরে শিক্ষা ও জনসেবায় চরম অবহেলার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:০০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় শিক্ষকতা ও অন্যান্য সরকারি চাকরির পাশাপাশি সাংবাদিকতায় জড়িত থাকার প্রবণতা নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বশীল পেশায় নিয়োজিত অনেকেই সমান্তরালে সাংবাদিকতায় সক্রিয় হয়ে পড়ায় তাদের মূল দায়িত্ব পালনে দেখা দিচ্ছে চরম অবহেলা—যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা ও জনসেবায়।
সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, অনেক শিক্ষক ও সরকারি চাকরিজীবী নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সাংবাদিকতার কাজে সময় ব্যয় করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সময়োপযোগী ও মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, পাঠদানের মান নিম্নমুখী হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছে, এভাবে চলতে থাকলে দেশ গড়ার মূল ভিত্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
একইভাবে সরকারি চাকরিজীবীরা যখন জনসেবার পরিবর্তে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবা পেতে দেরি, হয়রানি এবং অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে, যা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষক বা সরকারি কর্মচারীদের সাংবাদিকতায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও বিরামপুর উপজেলায় এ নিয়ম অমান্য করে অনেকেই দ্বৈত পেশায় জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসার ও পৌর কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিকবার অভিযোগ দাখিল করা হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, আইন প্রয়োগে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ধরে রাখতে শিক্ষকদের শতভাগ মনোযোগ অত্যন্ত জরুরি। একজন শিক্ষক যদি তার নির্ধারিত সময় শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করেন, তবে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এ প্রেক্ষাপটে এলাকাবাসী দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিশেষ করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি তাদের আকুল আবেদন—সরকারি বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে শিক্ষক ও চাকরিজীবীদের নিজ নিজ দায়িত্বে শতভাগ নিশ্চিত করা হোক এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
শিক্ষা ও জনসেবা—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে। এখনই প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ।