সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

গৌরনদীর খাদ্যকারখানায় শিশুশ্রম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই-চানাচুর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫ ২০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গৌরনদী(বরিশাল)প্রতিনিধিঃ-

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জমজমাট হয়ে উঠেছে লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর উৎপাদন। কিন্তু উৎসবমুখর এই সময়ে জনসাধারণের চাহিদাকে পুঁজি করে একাধিক খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত কারখানায় চলছে অস্বাস্থ্যকর ও নিয়ম বহির্ভূত উৎপাদন কার্যক্রম। জনস্বাস্থ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায় উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। গৌরনদী উপজেলার সুন্দরদী গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেবি ফুড প্রডাক্টস নামে একটি কারখানায় লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর তৈরির কাজে ব্যস্ত কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু পরিবেশ যেন কোনোভাবেই খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়। মেঝেতে পড়ে থাকা কাঁচামালের উপর ধুলাবালি জমে আছে, মাছির উপদ্রব সর্বত্র। নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নেই কর্মীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা। সবমিলিয়ে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির ছবি চোখে পড়ে। এ কারখানায় কাজ করছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর সাব্বির, যাকে দেখা যায় গরম তেলে চানাচুর ভাজতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, এখানে নিয়মিতভাবে শিশুদের দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রম করানো হয়, তাও নামমাত্র মজুরিতে। এই অবস্থা শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের সরাসরি লঙ্ঘন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চানাচুর তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বাদাম, ঝুঁকিপূর্ণ রং এবং রাসায়নিক সংরক্ষণকারী। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদের তথ্য দেয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো—বিনা বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ে। প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অনুমোদন, তবুও বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে গৌরনদী ও আশপাশের বাজারে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, আগে কারখানার সেমাই-চানাচুর কিনতাম। কিন্তু এখন দেখে খেতে ভয় হয়। যেভাবে বানায়, তাতে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
এ বিষয় জানতে চাইলে সাংবাদিকের সাথে চারাও হয়ে কারখানার মালিক কৃষ্ণ পালের ছেলে পলাশ পাল বলেন আপনি যা লেখার লিখতে পারেন প্রতি বছর দু-চারটা নিউজ হয়। ইউএনও থেকে শুরু করে থানার ওসিসহ বরিশালের সবাই জানে আমার কারখানার কথা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

গৌরনদীর খাদ্যকারখানায় শিশুশ্রম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই-চানাচুর

আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

গৌরনদী(বরিশাল)প্রতিনিধিঃ-

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জমজমাট হয়ে উঠেছে লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর উৎপাদন। কিন্তু উৎসবমুখর এই সময়ে জনসাধারণের চাহিদাকে পুঁজি করে একাধিক খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত কারখানায় চলছে অস্বাস্থ্যকর ও নিয়ম বহির্ভূত উৎপাদন কার্যক্রম। জনস্বাস্থ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায় উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। গৌরনদী উপজেলার সুন্দরদী গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেবি ফুড প্রডাক্টস নামে একটি কারখানায় লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর তৈরির কাজে ব্যস্ত কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু পরিবেশ যেন কোনোভাবেই খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়। মেঝেতে পড়ে থাকা কাঁচামালের উপর ধুলাবালি জমে আছে, মাছির উপদ্রব সর্বত্র। নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নেই কর্মীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা। সবমিলিয়ে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির ছবি চোখে পড়ে। এ কারখানায় কাজ করছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর সাব্বির, যাকে দেখা যায় গরম তেলে চানাচুর ভাজতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, এখানে নিয়মিতভাবে শিশুদের দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রম করানো হয়, তাও নামমাত্র মজুরিতে। এই অবস্থা শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের সরাসরি লঙ্ঘন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চানাচুর তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বাদাম, ঝুঁকিপূর্ণ রং এবং রাসায়নিক সংরক্ষণকারী। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদের তথ্য দেয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো—বিনা বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ে। প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অনুমোদন, তবুও বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে গৌরনদী ও আশপাশের বাজারে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, আগে কারখানার সেমাই-চানাচুর কিনতাম। কিন্তু এখন দেখে খেতে ভয় হয়। যেভাবে বানায়, তাতে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
এ বিষয় জানতে চাইলে সাংবাদিকের সাথে চারাও হয়ে কারখানার মালিক কৃষ্ণ পালের ছেলে পলাশ পাল বলেন আপনি যা লেখার লিখতে পারেন প্রতি বছর দু-চারটা নিউজ হয়। ইউএনও থেকে শুরু করে থানার ওসিসহ বরিশালের সবাই জানে আমার কারখানার কথা।