সংবাদ শিরোনাম ::
পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ড, হাইকমিশনার ও স্ত্রী হাসপাতালে কীর্ত্তিপাশায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল সংবর্ধনা ঘিরে বিএনপিতে অসন্তোষ, হলরুমে তালা চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে গ্যাস, লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও স্মারকলিপি প্রদান ১১দলীয় ঐক্যজোট ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান অভিযোগের ভিত্তিতে ঝালকাঠি খাদ্য গুদাম পরিদর্শন; চালের মান সন্তোষজনক, বললেন এসএম জিয়া উদ্দিন হায়দার বিজয়নগরে জুলাই গণঅদ্ভুত্থান উপলক্ষে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে হাত কড়া পড়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু

বড় বড় সাংবাদিকদের কিনে এসেছি, সব থেমে যাবে : লাকী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

টানা দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে লোক-লজ্জার পর্দা সরিয়ে জনসম্মুখে আসলেন এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকী। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) নরসিংদীতে নিজ উপজেলার দুটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় অংশ নেন তিনি। যেখানে সাংবাদিক প্রবেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িতে ওঠার সময় দাম্ভিকতার সুরে লাকী বলেন, বড় বড় সংবাদিকদের ম্যানেজ করেই এখানে এসেছি। পাছে লোকে কত কিছুই বলে। তাতে কিছু আসে যায় না এই চেয়ারম্যান লাকীর।

এবারের ঈদে সাদেক অ্যাগ্রো থেকে ১২ লাখ টাকার ছাগল বুকিং দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোপের মুখে পড়েন মুশফিকুর রহমান ইফাত। আয়ের উৎস অনুসন্ধানে গিয়ে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। খুলে যায় এক সাধারণ এনবিআর কর্মকর্তার অসাধারণ দুর্নীতির মুখোশ। তবে এক খাসি কেড়ে নিয়েছে মতিউরের দুই পরিবারের হাসি। ঈদের আনন্দ ছিল তাদের পরিবারে। বিপদ আন্দাজ করে ঈদের পরপর মাকে নিয়ে মালয়শিয়া পালিয়ে যান ইফাত।

নিজের ছেলে নয় সতিনের ছেলের ছাগলকাণ্ডে পাগল হয়ে পালিয়ে ঈদ করতে হয়েছে নরসিংদির উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকীকে। এই ঘটনায় স্বামী মতিউরের সঙ্গে লাকীর বেড়েছে দূরত্ব, সম্পর্কে ধরেছে ফাটল। দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করলেও অবশেষে শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে আসলেন প্রকাশ্যে। নিজের উপজেলা পরিষদের দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘ঢাকার ও নরসিংদীর জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের বড় বড় সাংবাদিকদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনেই উপজেলা পরিষদে এসেছেন লাকী। তারা আর কিছু করতে পারবে না। নিউজসহ, সব থেমে যাবে।

ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ
উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেননি লাকীর লোকজন। সভা শেষে কালো রঙের পাজেরো জিপে তিনি উপজেলা থেকে বেরিয়ে যান। রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লাকীর সম্পদের পাহাড় নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। সরকারি কলেজের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হয়ে কীভাবে তিনি এত সম্পদের মালিক হলেন?

স্থানীয়রা জানান, চিহ্নিত রাজাকার আব্দুল কাদিরের নাতনি এই লাকী। তিনি এখন নরসিংদী জেলা আ.লীগের দুর্যোগ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক। রাজাকার পরিবারের সন্তান হয়ে কীভাবে তিনি আ.লীগের রাজনীতিতে জড়িত হলেন তা নিয়েও স্থানীয়দের মাঝে চলছে আলোচনা।

তিতুমীর কলেজের একজন সাধারণ শিক্ষক থেকে রাতারাতি রাজনীতির মাঠে নেমে সাড়া ফেলে দেন লাকী। স্থানীয় প্রভাবশালী এক আ.লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন রায়পুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। নেতার সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি স্বামী মতিউরের অবৈধ টাকার জোরেই রাজনীতির ময়দানে তিনি জায়গা করে নেন বলেই মনে করেন নরসিংদীর মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বড় বড় সাংবাদিকদের কিনে এসেছি, সব থেমে যাবে : লাকী

আপডেট সময় : ১১:০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪

আজকের ক্রাইম ডেক্স

টানা দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে লোক-লজ্জার পর্দা সরিয়ে জনসম্মুখে আসলেন এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকী। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) নরসিংদীতে নিজ উপজেলার দুটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় অংশ নেন তিনি। যেখানে সাংবাদিক প্রবেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িতে ওঠার সময় দাম্ভিকতার সুরে লাকী বলেন, বড় বড় সংবাদিকদের ম্যানেজ করেই এখানে এসেছি। পাছে লোকে কত কিছুই বলে। তাতে কিছু আসে যায় না এই চেয়ারম্যান লাকীর।

এবারের ঈদে সাদেক অ্যাগ্রো থেকে ১২ লাখ টাকার ছাগল বুকিং দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোপের মুখে পড়েন মুশফিকুর রহমান ইফাত। আয়ের উৎস অনুসন্ধানে গিয়ে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। খুলে যায় এক সাধারণ এনবিআর কর্মকর্তার অসাধারণ দুর্নীতির মুখোশ। তবে এক খাসি কেড়ে নিয়েছে মতিউরের দুই পরিবারের হাসি। ঈদের আনন্দ ছিল তাদের পরিবারে। বিপদ আন্দাজ করে ঈদের পরপর মাকে নিয়ে মালয়শিয়া পালিয়ে যান ইফাত।

নিজের ছেলে নয় সতিনের ছেলের ছাগলকাণ্ডে পাগল হয়ে পালিয়ে ঈদ করতে হয়েছে নরসিংদির উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকীকে। এই ঘটনায় স্বামী মতিউরের সঙ্গে লাকীর বেড়েছে দূরত্ব, সম্পর্কে ধরেছে ফাটল। দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করলেও অবশেষে শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে আসলেন প্রকাশ্যে। নিজের উপজেলা পরিষদের দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘ঢাকার ও নরসিংদীর জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের বড় বড় সাংবাদিকদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনেই উপজেলা পরিষদে এসেছেন লাকী। তারা আর কিছু করতে পারবে না। নিউজসহ, সব থেমে যাবে।

ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ
উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেননি লাকীর লোকজন। সভা শেষে কালো রঙের পাজেরো জিপে তিনি উপজেলা থেকে বেরিয়ে যান। রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লাকীর সম্পদের পাহাড় নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। সরকারি কলেজের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হয়ে কীভাবে তিনি এত সম্পদের মালিক হলেন?

স্থানীয়রা জানান, চিহ্নিত রাজাকার আব্দুল কাদিরের নাতনি এই লাকী। তিনি এখন নরসিংদী জেলা আ.লীগের দুর্যোগ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক। রাজাকার পরিবারের সন্তান হয়ে কীভাবে তিনি আ.লীগের রাজনীতিতে জড়িত হলেন তা নিয়েও স্থানীয়দের মাঝে চলছে আলোচনা।

তিতুমীর কলেজের একজন সাধারণ শিক্ষক থেকে রাতারাতি রাজনীতির মাঠে নেমে সাড়া ফেলে দেন লাকী। স্থানীয় প্রভাবশালী এক আ.লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন রায়পুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। নেতার সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি স্বামী মতিউরের অবৈধ টাকার জোরেই রাজনীতির ময়দানে তিনি জায়গা করে নেন বলেই মনে করেন নরসিংদীর মানুষ।