সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মালেক, জসিম-হেপি ভাইস চেয়ারম্যান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স : বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটালেন চরবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: আবদুল মালেক। তিনি বরিশাল জেলা শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রবিন্দু সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল অঞ্চলের মানুষের উৎসাহ বরাবরাই অন্যরকম। এবারের নির্বাচনে রাজনীতি ও গণমাধ্যমে তুমুল আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের অবাক করে দিয়ে একজন ‘অনালোচিত’ প্রার্থীর বিজয় নিয়ে মানুষের মাঝে উৎসুক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৮ মে) অনুষ্ঠিত প্রথম দফা ‘একতরফা’ নির্বাচনে বরিশাল সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ দিকে, ভোটের আগে রাজনীতি ও ভোটারদের মাঝে যখন আলোচনার ঝড়-সদর আসনের এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম কাকে সমর্থন দিচ্ছেন, সিটি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত কাউন্সিলরদের মাধ্যমে কী করছেন, কিংবা হাসানাত পরিবারের দৃষ্টি কোন দিকে? চায়ের দোকানের এমন সব মুখরোচক আলোচনা স্থান করে দিয়ে বিজয়ী হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি ছিলেন আলোচনার সর্বশেষ নম্বরের প্রার্থী। এটিকে এক ধরনের চমক হিসেবে দেখছেন বরিশালের গর্ব।

চর বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিনি যখন প্রধান শিক্ষক ছিলেন, আমি তার সহকারী শিক্ষক হিসেবে ১০ বছর একত্রে চাকরি করেছি, তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, তিনি ১০০ ভাগ সৎ মানুষ, তার সততায় কোনো ঘাটতি নেই। মো: আবদুল মালেক স্যার বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। বরিশাল সদর উপজেলার শিক্ষকদের কাছে তিনি অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। এই শিক্ষকরা নিভৃতে তার জন্যে কাজ করেছেন।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো চিফ সাঈদ মেমন বলেন, ‘আমি সরাসরি স্যারের ছাত্র ছিলাম, তিনি জনপ্রিয় একজন ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি যে সুনাম ও মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন তার ফলাফল নির্বাচনে পেয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, বরিশালের বহুল আলোচিত সমাজসেবক সালাহউদ্দিন রিপনের আপন চাচা এবং এস.আর সমাজকল্যাণ সংস্থার যাবতীয় মানবিক কাজের ফ্রন্টলাইনে ছিলেন আবদুল মালেক স্যার। এই সংস্থার ফ্রি উপবৃত্তি, ফরম ফিলাপ, দুস্থদের মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা রকম উপকারভোগী মানুষগুলো তাদের কৃতজ্ঞতার প্রতিদান নিভৃতে ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছেন।’

শিক্ষক নেতা মো: আবদুল মালেকের বিজয়ের নেপথ্য নায়ক মনে করা হয় তার আপন ভাতিজা ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনের বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সমাজসেবক সালাহউদ্দিন রিপনকে। তিনি বলেন, ‘বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদরের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি, এবার সুযোগ পেয়ে তারা নিরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আমার চাচাকে বিজয়ী করেছেন।’

নবনির্বাচিত বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবদুল মালেক বলেন, ‘এ বিজয় বরিশাল সদর উপজেলার জনগণের, আমি অতীতেও তাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। ইনশাআল্লাহ।’ বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নির্বাচিত আব্দুল মালেক পেয়েছেন ১৯ হাজার ৭০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩১৪ ভোট।

এছাড়া তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৪১ ভোট, বিএম কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান মধু পেয়েছেন ১১ হাজার ১৭০ ভোট এবং বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি পেয়েছেন সাত হাজার ৮৬৮ ভোট।

অন্যদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো: জসিমউদ্দিন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন মাহিদুর রহমান। এ পদের অপর দুই প্রার্থী হাদিস মীর তৃতীয় ও শহিদ মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ চতুর্থ হয়েছেন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হালিমা বেগম হেপি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হাস প্রতীকের নেহার বেগম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মালেক, জসিম-হেপি ভাইস চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪

আজকের ক্রাইম ডেক্স : বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটালেন চরবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: আবদুল মালেক। তিনি বরিশাল জেলা শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রবিন্দু সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল অঞ্চলের মানুষের উৎসাহ বরাবরাই অন্যরকম। এবারের নির্বাচনে রাজনীতি ও গণমাধ্যমে তুমুল আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের অবাক করে দিয়ে একজন ‘অনালোচিত’ প্রার্থীর বিজয় নিয়ে মানুষের মাঝে উৎসুক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৮ মে) অনুষ্ঠিত প্রথম দফা ‘একতরফা’ নির্বাচনে বরিশাল সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ দিকে, ভোটের আগে রাজনীতি ও ভোটারদের মাঝে যখন আলোচনার ঝড়-সদর আসনের এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম কাকে সমর্থন দিচ্ছেন, সিটি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত কাউন্সিলরদের মাধ্যমে কী করছেন, কিংবা হাসানাত পরিবারের দৃষ্টি কোন দিকে? চায়ের দোকানের এমন সব মুখরোচক আলোচনা স্থান করে দিয়ে বিজয়ী হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি ছিলেন আলোচনার সর্বশেষ নম্বরের প্রার্থী। এটিকে এক ধরনের চমক হিসেবে দেখছেন বরিশালের গর্ব।

চর বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিনি যখন প্রধান শিক্ষক ছিলেন, আমি তার সহকারী শিক্ষক হিসেবে ১০ বছর একত্রে চাকরি করেছি, তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, তিনি ১০০ ভাগ সৎ মানুষ, তার সততায় কোনো ঘাটতি নেই। মো: আবদুল মালেক স্যার বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। বরিশাল সদর উপজেলার শিক্ষকদের কাছে তিনি অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। এই শিক্ষকরা নিভৃতে তার জন্যে কাজ করেছেন।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো চিফ সাঈদ মেমন বলেন, ‘আমি সরাসরি স্যারের ছাত্র ছিলাম, তিনি জনপ্রিয় একজন ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি যে সুনাম ও মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন তার ফলাফল নির্বাচনে পেয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, বরিশালের বহুল আলোচিত সমাজসেবক সালাহউদ্দিন রিপনের আপন চাচা এবং এস.আর সমাজকল্যাণ সংস্থার যাবতীয় মানবিক কাজের ফ্রন্টলাইনে ছিলেন আবদুল মালেক স্যার। এই সংস্থার ফ্রি উপবৃত্তি, ফরম ফিলাপ, দুস্থদের মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা রকম উপকারভোগী মানুষগুলো তাদের কৃতজ্ঞতার প্রতিদান নিভৃতে ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছেন।’

শিক্ষক নেতা মো: আবদুল মালেকের বিজয়ের নেপথ্য নায়ক মনে করা হয় তার আপন ভাতিজা ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনের বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সমাজসেবক সালাহউদ্দিন রিপনকে। তিনি বলেন, ‘বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদরের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি, এবার সুযোগ পেয়ে তারা নিরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আমার চাচাকে বিজয়ী করেছেন।’

নবনির্বাচিত বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবদুল মালেক বলেন, ‘এ বিজয় বরিশাল সদর উপজেলার জনগণের, আমি অতীতেও তাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। ইনশাআল্লাহ।’ বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নির্বাচিত আব্দুল মালেক পেয়েছেন ১৯ হাজার ৭০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩১৪ ভোট।

এছাড়া তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৪১ ভোট, বিএম কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান মধু পেয়েছেন ১১ হাজার ১৭০ ভোট এবং বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি পেয়েছেন সাত হাজার ৮৬৮ ভোট।

অন্যদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো: জসিমউদ্দিন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন মাহিদুর রহমান। এ পদের অপর দুই প্রার্থী হাদিস মীর তৃতীয় ও শহিদ মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ চতুর্থ হয়েছেন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হালিমা বেগম হেপি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হাস প্রতীকের নেহার বেগম।