ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ
- আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বাল্যবিবাহের প্রবণতা। কোন ক্রমেই থামানো যাচ্ছে না অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের বাল্যয বিয়ে।
প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে।
ফলে কিশোরীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে গোপনে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার আগেই সম্পন্ন হয়ে যায়। আবার কোথাও খবর পাওয়ার পর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করার উদ্যোগ নেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ দারিদ্র্য, পারিবারিক অসচেতনতা, সামাজিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা এবং মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের ভুল ধারণা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া কিশোরীদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন তারা।
বাল্যবিবাহের কারণে একজন কিশোরীর স্বাভাবিক শৈশব ও শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়ে যায়। অল্প বয়সে বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার ফলে তার মানসিক ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যায়।
স্থানীয় অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, মেয়েকে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করানোর খরচ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক চাপের কারণে কেউ কেউ অল্প বয়সেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে সচেতন মহলের দাবি, এসব সমস্যার সমাধান বাল্যবিবাহ নয়; বরং কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং পরিবারকে সরকারি ও সামাজিক সহায়তার আওতায় আনা জরুরি।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, শিক্ষক, ইমাম, কাজী ও সামাজিক সংগঠনগুলো দায়িত্ব পালন করছেন না। সংগঠনগুলো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে অবশ্যই বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে । কিন্তু তারা তা না করে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে।
তাই সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সহ এই সংগঠনগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
তাদের মতে, কোনো এলাকায় বাল্যবিবাহের আয়োজন হচ্ছেএমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানানো এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের আইনগত পরিণতি সম্পর্কে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে জানাতে,নিয়মিত,উঠান,বৈঠক,বিদ্যালয় ভিত্তিক প্রচার ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়াতে হবে।
সচেতন মহল বলছে, বাল্যবিবাহ বন্ধে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বা বিয়ে বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। যে পরিবারগুলো বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কিশোরীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দরিদ্র পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা, উপবৃত্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘোড়াঘাট উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে উঠবে।
সচেতন নাগরিকদের অভিমত,একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা মানে শুধু একটি বিয়ে বন্ধ করা নয়; একটি কিশোরীর শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।’
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বন্ধ ও আইনগত ব্যবস্থা—বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার করণীয় সম্পর্কে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা, ২০১৮ রয়েছে।
বাংলাদেশের আইনে ২১ বছরের কম বয়সী পুরুষ এবং ১৮ বছরের কম বয়সী নারী বিয়ে করলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। বয়স প্রমাণে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ বা আইনসম্মত অন্যান্য দলিল গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউ এন ও) এরবিশেষ করণীয় হৃলো বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া লিখিত মৌখিক বা অন্ যে কন মাধ্যমে খবর পেলেও ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে মোবাইল কোড পরিচালনা এবং আয়নায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।
বর কনে অভিভাবক কাজী পুরোহিত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়স যাচাই করা এবং বিয়ে বন্ধ করা দায়িত্।
বাল্যবিবাহ আয়োজন বা সম্পাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
উপজেলা বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটির কার্যক্রম সমন্বয়ের করা । বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ পুলিশ শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষক সমাজসেবা কর্মকর্তা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সহ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বন্ধ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিওয়ানো এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কর্তার করণীয় সম্পর্কে বাল্যবিবাহ আইন 2017 এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৮ প্রয়োগ করা।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার স্মরণীয় হচ্ছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাও বাল্যবিবাহের খবর পেলে আইনগত আইন অনুযায়ী বিবাহ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গুলো হল বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা কিছু হৃদয় সনাক্ত করা পরিবারকে বাল্যবিবাহ ক্ষতি ও সম্পর্কে আইন সম্পর্কে সচেতন করা ।
ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির ব্যর্থতার কার্যক্রম সমন্বয় ও সদরদী করা উথান বৈঠক সভা প্রধান বৈঠক সভা প্রশিক্ষণ প্রচার প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করসংবাদ পেলে ইউএনও, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত অবহিত করে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া।ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা।বাল্যবিবাহের কারণ ও ঘটনাগুলোর তথ্য সংরক্ষণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।
বাল্যবিবাহ আয়োজন সম্পাদন সহায়তা বা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ব্যক্তির অবহেলার পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগত অপরাধ হতে পারে এবং আইনটিতে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আশঙ্কা জনক ভাবে বেড়েছে বাল্যবিবাহর প্রবণতা
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রুবানা তানজিন বলেন,বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এটি শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, একটি কিশোরীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়ার অন্যতম কারণ। ঘোড়াঘাট উপজেলায় কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হচ্ছে—এমন খবর পাওয়া গেলে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত অভিভাবক, বরপক্ষ কিংবা সহায়তাকারী কেউই আইনের আওতার বাইরে থাকবে না।
আমরা চাই, মেয়েরা অল্প বয়সে বিয়ে না করে লেখাপড়া চালিয়ে যাক এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। এজন্য শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না; জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, কাজী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক—সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
ঘোড়াঘাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেনবাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে। একটি মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে গেলে তার শিক্ষা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই কোনো অভিভাবক যেন সামাজিক চাপ, দারিদ্র্য কিংবা ভুল ধারণার কারণে সন্তানের বাল্যবিবাহ না দেন—সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
ঘোড়াঘাট উপজেলার কোনো এলাকায় বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো
র জন্য আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো—ঘোড়াঘাটের প্রতিটি কিশোরীর নিরাপদ শৈশব, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।”






















