সংবাদ শিরোনাম ::
উজিরপুরে সড়কের পাইলিংয়ে জিও ব্যাগের বদলে পাটের বস্তায় মাটি! বরিশাল কাউনিয়ায় পুলিশের অভিযান: ৪০ পিস ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ৪ বরিশালে ডিবির সাঁড়াশি অভিযান: ইয়াবা-গাঁজা ও অস্ত্রসহ আটক ৭ ​ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে বহিরাগত দিয়ে এক্স-রে করানোর অভিযোগ, টেকনোলজিস্টকে শোকজ ঝালকাঠিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের পাল্টাপাল্টি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ঝালকাঠি রেড ক্রিসেন্টের নবগঠিত এডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে নৌকায় ভাসমান বেদে জেলেদের তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াবহ ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইউএনও ঝালকাঠিতে নৌযান শুমারি-২০২৬ উদ্বোধন উপলক্ষে র‍্যালি কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার

উজিরপুরে সড়কের পাইলিংয়ে জিও ব্যাগের বদলে পাটের বস্তায় মাটি!

উজিরপুরে সড়কের পাইলিংয়ে জিও ব্যাগের বদলে পাটের বস্তায় মাটি!

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। নির্মিত সড়কটি রক্ষায় পাইলিংয়ের কাজে জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তায় মাটি ভরে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সড়ক রক্ষার কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক রক্ষার পাইলিংয়ের কাজ করছে। কিন্তু কাজে নির্ধারিত জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তায় মাটি ভরে ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানির সংস্পর্শে থাকলে পাটের বস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এভাবে পাইলিং কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক রক্ষার কাজে নির্ধারিত উপকরণের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তা ব্যবহার করা হলে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিআরডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকি ও দায়িত্ব পালনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তা ব্যবহারের অনুমোদন আছে কি না? আর অনুমোদন না থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর তদারকির মধ্যেই এমন কাজ কীভাবে চলছে?

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানিতে পাটের বস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে গেলে পাইলি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি ফের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগও বাড়তে পারে। এছাড়াও
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে পাথর ও বিটুমিন উঠে গেছে। অথচ সড়কটিতে ভারী যানবাহনের তেমন চলাচলও নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ-পাথর উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। এবং অনেক জায়গায় রাস্তা দেবেও গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিআরডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে।”

এলাকাবাসী দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে পাইলিংয়ে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই এবং প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

উজিরপুরে সড়কের পাইলিংয়ে জিও ব্যাগের বদলে পাটের বস্তায় মাটি!

উজিরপুরে সড়কের পাইলিংয়ে জিও ব্যাগের বদলে পাটের বস্তায় মাটি!

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। নির্মিত সড়কটি রক্ষায় পাইলিংয়ের কাজে জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তায় মাটি ভরে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সড়ক রক্ষার কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক রক্ষার পাইলিংয়ের কাজ করছে। কিন্তু কাজে নির্ধারিত জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তায় মাটি ভরে ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানির সংস্পর্শে থাকলে পাটের বস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এভাবে পাইলিং কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক রক্ষার কাজে নির্ধারিত উপকরণের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তা ব্যবহার করা হলে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিআরডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকি ও দায়িত্ব পালনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জিও ব্যাগের পরিবর্তে পুরোনো পাটের বস্তা ব্যবহারের অনুমোদন আছে কি না? আর অনুমোদন না থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর তদারকির মধ্যেই এমন কাজ কীভাবে চলছে?

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানিতে পাটের বস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে গেলে পাইলি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি ফের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগও বাড়তে পারে। এছাড়াও
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে পাথর ও বিটুমিন উঠে গেছে। অথচ সড়কটিতে ভারী যানবাহনের তেমন চলাচলও নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ-পাথর উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। এবং অনেক জায়গায় রাস্তা দেবেও গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিআরডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে।”

এলাকাবাসী দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে পাইলিংয়ে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই এবং প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।