ইলিশের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে যাওয়ার প্রধান কারন হিসাবে অবৈধ কাঠের ট্রলিং বোট বন্ধের দাবি
ইলিশের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে যাওয়ার প্রধান কারন হিসাবে অবৈধ কাঠের ট্রলিং বোট বন্ধের দাবি
- আপডেট সময় : ০৮:৫২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ইলিশ মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পরছে ছোট ফাসের ট্রলিং জানে, এতেকরে চাহিদার তুলনায় ইলিশ পাচ্ছেনা জেলেরা।
মহিপুর ও আলিপুর উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাঠের ট্রলিং বোট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলেদের নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম মৃধা। তিনি এসব কাঠের ট্রলিং বন্ধে প্রশাসনের আরও জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা দাবি করেছেন।
রফিকুল ইসলাম মৃধা বলেন, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কাঠের ট্রলিং বোট ব্যবহার করে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ আহরণ করায় ক্ষুদ্র জেলেরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক সময় এসব বোট ছোট জেলেদের মাছ ধরার এলাকায় ঢুকে তাদের জাল ও নৌযানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত ট্রলিং শুধু ক্ষুদ্র জেলেদের জীবিকা নষ্ট করে না; এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন ব্যবস্থার জন্যও হুমকি। বিশেষ করে তলদেশ ঘেঁষে মাছ ধরার ক্ষেত্রে মাছের প্রজননক্ষেত্র ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ছোট ও অপরিণত মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী ধরা পড়লে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, ট্রলিংয়ের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ছোট জেলেদের ব্যবহৃত জাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, নৌযান দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং আয়-রোজগারে বড় ধরনের ক্ষতির সৃষ্টি হচ্ছে।
রফিকুল ইসলাম মৃধা বলেন, “আইন মেনে যারা মাছ ধরছেন, তাদের আমরা কোনোভাবেই হয়রানি চাই না। কিন্তু আইন ভঙ্গ করে যদি কেউ কাঠের ট্রলিং বোট দিয়ে মাছ আহরণ করে এবং এতে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও সামুদ্রিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এছাড়া দেশে ইলিশের দাম সাধারন মানু্ষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার কারনও এই কাঠের ট্রলিং জাল কারন মাছ বড় হওয়ার আগের ধরা পরছে এসব জালে। তাই প্রশাসনকে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান জোরদারের দাবি জানান। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ বোট শনাক্তকরণ এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলেদের এই নেতা বলেন, সাগর ও উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা গেলে শুধু ক্ষুদ্র জেলেরাই নয়, দেশের সামগ্রিক মৎস্য অর্থনীতিও উপকৃত হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধ ও ক্ষতিকর ট্রলিং বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন।






















