সংবাদ শিরোনাম ::
ত্যাগী নেতা নান্নুর মূল্যায়ন হয়নি, কর্মীরা হতাশ সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন নিহত পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ড, হাইকমিশনার ও স্ত্রী হাসপাতালে কীর্ত্তিপাশায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল সংবর্ধনা ঘিরে বিএনপিতে অসন্তোষ, হলরুমে তালা চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে গ্যাস, লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও স্মারকলিপি প্রদান ১১দলীয় ঐক্যজোট ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান অভিযোগের ভিত্তিতে ঝালকাঠি খাদ্য গুদাম পরিদর্শন; চালের মান সন্তোষজনক, বললেন এসএম জিয়া উদ্দিন হায়দার বিজয়নগরে জুলাই গণঅদ্ভুত্থান উপলক্ষে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে হাত কড়া পড়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

ত্যাগী নেতা নান্নুর মূল্যায়ন হয়নি, কর্মীরা হতাশ

ত্যাগী নেতা নান্নুর মূল্যায়ন হয়নি, কর্মীরা হতাশ

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু দলীয় সরকারের কোনো পদে বা সংসদ সদস্য হিসেবে স্থান পাননি। স্বৈরাশাসনের ১৬ বছর রাজপথে সংগ্রাম করার পরও বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই রাজপথই তার ঠিকানা রয়ে গেছে।

হাসিনাভিত্তিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সারা দেশে আলোচিত হয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা মাহবুবুল হক নান্নু। আওয়ামী অপশাসনের ১৬ বছর ধরে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ঝালকাঠি-২ আসন থেকে একাধিকবার মনোনয়ন চেয়েও বঞ্চিত হয়েছেন।
কারাবরণ ও মামলা: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার কারাবরণসহ তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ কারাজীবন: মাহবুবুল হক নান্নুর ভাষ্যমতে, ১৯৯৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে তিনি মোট সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশ চাওয়ায় ১৯৯৬ সালে তাকে কারাগারে কারারক্ষীদের দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।

এবিষয়ে নান্নু বলেন নানা প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মুখেও তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি এবং রাজপথ ছেড়ে যাননি। মনোনয়ন না পাওয়া এবং সরকারের কোনো পদে স্থান না পাওয়া নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি মনে করেন, বাংলার মানুষ অপশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছে—এতেই তিনি খুশি।
রাজনৈতিক জীবন ও ছাত্ররাজনীতি।

মাহবুবুল হক নান্নুর বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বীরসেনা গ্রামে। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম কলেজ) সাবেক ভিপি ছিলেন।
রাজনৈতিক হাতেখড়ি: হাইস্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন।

১৯৮৭: বিএম কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর দুই বছর পর তাকে সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৯৯১: সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে কলেজছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং এজিএস নির্বাচিত হন।
১৯৯৩: বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দুবার বরিশাল বিভাগীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির বিভিন্ন পদ: ২০০১: জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ লাভ করেন।
২০০৮: ঝালকাঠি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।
২০১৬: বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক হিসেবে দায়িত্ব পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নান্নুর অনুসারীরা হতাশ হন।
নির্বাচনের পরে তারা আশা করেছিলেন, হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোনো সরকারি পদে নিয়োগ পাবেন নান্নু।
কিন্তু সেটিও না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মনে এই প্রশ্ন জেগেছে যে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের কোনো সঠিক মূল্যায়ন নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ত্যাগী নেতা নান্নুর মূল্যায়ন হয়নি, কর্মীরা হতাশ

ত্যাগী নেতা নান্নুর মূল্যায়ন হয়নি, কর্মীরা হতাশ

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু দলীয় সরকারের কোনো পদে বা সংসদ সদস্য হিসেবে স্থান পাননি। স্বৈরাশাসনের ১৬ বছর রাজপথে সংগ্রাম করার পরও বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই রাজপথই তার ঠিকানা রয়ে গেছে।

হাসিনাভিত্তিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সারা দেশে আলোচিত হয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা মাহবুবুল হক নান্নু। আওয়ামী অপশাসনের ১৬ বছর ধরে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ঝালকাঠি-২ আসন থেকে একাধিকবার মনোনয়ন চেয়েও বঞ্চিত হয়েছেন।
কারাবরণ ও মামলা: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার কারাবরণসহ তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ কারাজীবন: মাহবুবুল হক নান্নুর ভাষ্যমতে, ১৯৯৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে তিনি মোট সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশ চাওয়ায় ১৯৯৬ সালে তাকে কারাগারে কারারক্ষীদের দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।

এবিষয়ে নান্নু বলেন নানা প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মুখেও তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি এবং রাজপথ ছেড়ে যাননি। মনোনয়ন না পাওয়া এবং সরকারের কোনো পদে স্থান না পাওয়া নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি মনে করেন, বাংলার মানুষ অপশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছে—এতেই তিনি খুশি।
রাজনৈতিক জীবন ও ছাত্ররাজনীতি।

মাহবুবুল হক নান্নুর বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বীরসেনা গ্রামে। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম কলেজ) সাবেক ভিপি ছিলেন।
রাজনৈতিক হাতেখড়ি: হাইস্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন।

১৯৮৭: বিএম কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর দুই বছর পর তাকে সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৯৯১: সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে কলেজছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং এজিএস নির্বাচিত হন।
১৯৯৩: বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দুবার বরিশাল বিভাগীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির বিভিন্ন পদ: ২০০১: জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ লাভ করেন।
২০০৮: ঝালকাঠি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।
২০১৬: বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক হিসেবে দায়িত্ব পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নান্নুর অনুসারীরা হতাশ হন।
নির্বাচনের পরে তারা আশা করেছিলেন, হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোনো সরকারি পদে নিয়োগ পাবেন নান্নু।
কিন্তু সেটিও না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মনে এই প্রশ্ন জেগেছে যে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের কোনো সঠিক মূল্যায়ন নেই।