ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার স্বরূপকাঠী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওয়াহিদের মৃত্যুতে ব্যারিস্টার সাইফের শোক জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রিপন। দর্শনা সীমান্তে ঘাস কাটতে যাওয়া বাংলাদেশি যুবককে ধরে পুলিশকে দিলো বিএসএফ বরিশাল কারাভ্যন্তরে মাদকের বিস্তার নারী বন্দির কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার বিরামপুর ৩নং খানপুর ইউনিয়নে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন বিজয়নগর উপজেলায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার খুলনা- বরিশালে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক উজিরপুরে তিন কেজি গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্রসহ নারী গ্রেপ্তার

বানারীপাড়ায় হামে সন্তান হারানো পরিবারে ঈদের আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন,
বিশেষ প্রতিনিধি: মাত্র ৮ মাস ১৭ দিন বয়সে হাম কেড়ে নিল অনিন্দ্য সুন্দর ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু মোঃ আব্দুর রহমানের জীবন। এ যেন ফোটার আগে অঙ্কুরে ঝড়ে পড়া এক ফুল।বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাছ রং গ্রামের ট্রলিগাড়ি চালক মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বাবু ও গৃহিণী আসমার দুই মেয়ের পরে ঘর আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিল ছেলে আব্দুর রহমান। আদরের ধন ছেলেকে ঘিরে নানা স্বপ্ন দেখতেন তারা। ছেলে বড় হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। ভালো চাকরি করে বাবা-মায়ের দরিদ্র সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ এনে দেবে। মরণব্যাধি হামে ছেলেকে ঘিরে তাদের সব স্বপ্ন মুহুর্তে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে গেছে। ১৯ দিন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরেও কোন উন্নতি হয়নি হামে আক্রান্ত শিশু আব্দুর রহমানের। সেখানের চিকিৎসকরা আইসিউসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য পরিবারকে পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে তারা নিতে পারেননি। নিরূপায় হয়ে গত ১৬ মে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে ২৩ মে সকালে সে মারা যায়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে জানাজা শেষে বাড়ির আঙিনায় তাকে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। বুকের ধন ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা পাগলপ্রায়। গোটা পরিবারে বইছে শোকের মাতম। বাবা-মা বার বার ছুটে যান সন্তানের কবরের কাছে। তাদের কান্না-আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পবিত্র ঈদ-উল আজহার দিন আব্দুর রহমানের কবরের কাছে বাবা-মা ও ছোট্ট দুইবোনসহ স্বজনরা চোখের জলে বুক ভাসিয়েছেন।ঘরের সামনে উঠোনে ছেলেকে দাফন করেও মমতাময়ী মা আসমার দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। নিকষ কালো অন্ধকার কবরে তার নাড়ি ছেড়া ধন এতটুকু ছেলে কিভাবে একা থাকবে, সেই চিন্তায় কবর থেকে তার মরদেহ তুলে ঘরের মেঝেতে দাফন করতে চান তিনি। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে দুই বোন ৮ বছর বয়সী নূসরাত ও সাড়ে তিন বছরের স্নেহার কান্না থামছে না। প্রিয় ভাইকে তারা খুঁজছে, বার বার ভাইয়ের কবরের কাছে তারা ছুটে যাচ্ছে। ভাইকে ঘিরে তাদের স্বপ্ন ছিল বড় হলে একসঙ্গে খেলবে, স্কুলে যাবে, চকলেট কিনে খাবে। তাদের অবুঝ মনের এ স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। হামে আক্রান্ত আব্দুর রহমানকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পরে তার সাড়ে তিন বছর বয়সী বোন স্নেহাও হামে আক্রান্ত হয়। বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার পরে স্নেহা এখন কিছুটা সুস্থ। এদিকে
দুই ছেলের ঘরে তিন নাতনীর পরে জন্ম নেওয়া এক মাত্র নাতি আব্দুর রহমানকে হারিয়ে দাদি শাহিনুর সাথি পাগলপ্রায়। দু”চোখে তার কান্নার সাঁতার। তিনি বলেন, আমার বড় ছেলের এক মেয়ে ও ছোট ছেলের দুই মেয়ের পরে বংশের প্রদীপ হয়ে জন্ম নেয় আব্দুর রহমান। নাতির মৃত্যুর খবরে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছি। আল্লাহ্ ওকে না নিয়ে আমাকে কেন মৃত্যু দিল না। এই শোক সইবার নয়।
কান্না ভেজা কন্ঠে মৃত আব্দুর রহমানের বাবা রিয়াজুল ইসলাম বাবু বলেন, দুই মেয়ের পরে আল্লাহ্ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দিয়েছিলেন। ছেলেকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখেছি। হামে আক্রান্ত হওয়ার পরে তাকে সুস্থ করে তুলতে ধারদেনা করে যথাসাধ্য চেষ্টা করেও বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছি। টাকার অভাবে ঢাকায় নিয়ে তাকে আরও উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। এক পর্যায়ে ছোট মেয়েটিও হামে আক্রান্ত হয়। এখনও সে পরিপূর্ণ সুস্থ হয়নি। তাকে নিয়েও দুঃশ্চিন্তা। সঠিক সময় হামের টিকা দিতে পারলে হয়তো আজ এ পরিণতি হতো না। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী পৃথিবীতে মনে হয় আর কিছু নেই। ছেলেকে হারানোর বেদনা আমাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। সবার কাছে আমার মৃত ছেলের জন্য দোয়া চাই।
এদিকে হামে আক্রান্ত হয়ে বানারীপাড়া উপজেলায় ৭ মাস বয়সী সাফওয়ান, ,৪ মাস বয়সী তাবাসসুম ও ৯ মাস বয়সী রাকিব নামের আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুকের ধন প্রিয় সন্তান হারিয়ে এসব পরিবারে এখনও বইছে শোকের মাতম। তাদের পরিবারে ছিলনা কোরবানি ঈদের কোনও আনন্দ। কবরের কাছে গিয়ে কান্না-আফসোসে কেটেছে বাবা-মায়ের ঈদের দিন। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বানারীপাড়ায় হামে সন্তান হারানো পরিবারে ঈদের আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে

আপডেট সময় : ১২:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

রাহাদ সুমন,
বিশেষ প্রতিনিধি: মাত্র ৮ মাস ১৭ দিন বয়সে হাম কেড়ে নিল অনিন্দ্য সুন্দর ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু মোঃ আব্দুর রহমানের জীবন। এ যেন ফোটার আগে অঙ্কুরে ঝড়ে পড়া এক ফুল।বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাছ রং গ্রামের ট্রলিগাড়ি চালক মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বাবু ও গৃহিণী আসমার দুই মেয়ের পরে ঘর আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিল ছেলে আব্দুর রহমান। আদরের ধন ছেলেকে ঘিরে নানা স্বপ্ন দেখতেন তারা। ছেলে বড় হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। ভালো চাকরি করে বাবা-মায়ের দরিদ্র সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ এনে দেবে। মরণব্যাধি হামে ছেলেকে ঘিরে তাদের সব স্বপ্ন মুহুর্তে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে গেছে। ১৯ দিন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরেও কোন উন্নতি হয়নি হামে আক্রান্ত শিশু আব্দুর রহমানের। সেখানের চিকিৎসকরা আইসিউসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য পরিবারকে পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে তারা নিতে পারেননি। নিরূপায় হয়ে গত ১৬ মে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে ২৩ মে সকালে সে মারা যায়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে জানাজা শেষে বাড়ির আঙিনায় তাকে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। বুকের ধন ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা পাগলপ্রায়। গোটা পরিবারে বইছে শোকের মাতম। বাবা-মা বার বার ছুটে যান সন্তানের কবরের কাছে। তাদের কান্না-আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পবিত্র ঈদ-উল আজহার দিন আব্দুর রহমানের কবরের কাছে বাবা-মা ও ছোট্ট দুইবোনসহ স্বজনরা চোখের জলে বুক ভাসিয়েছেন।ঘরের সামনে উঠোনে ছেলেকে দাফন করেও মমতাময়ী মা আসমার দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। নিকষ কালো অন্ধকার কবরে তার নাড়ি ছেড়া ধন এতটুকু ছেলে কিভাবে একা থাকবে, সেই চিন্তায় কবর থেকে তার মরদেহ তুলে ঘরের মেঝেতে দাফন করতে চান তিনি। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে দুই বোন ৮ বছর বয়সী নূসরাত ও সাড়ে তিন বছরের স্নেহার কান্না থামছে না। প্রিয় ভাইকে তারা খুঁজছে, বার বার ভাইয়ের কবরের কাছে তারা ছুটে যাচ্ছে। ভাইকে ঘিরে তাদের স্বপ্ন ছিল বড় হলে একসঙ্গে খেলবে, স্কুলে যাবে, চকলেট কিনে খাবে। তাদের অবুঝ মনের এ স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। হামে আক্রান্ত আব্দুর রহমানকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পরে তার সাড়ে তিন বছর বয়সী বোন স্নেহাও হামে আক্রান্ত হয়। বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার পরে স্নেহা এখন কিছুটা সুস্থ। এদিকে
দুই ছেলের ঘরে তিন নাতনীর পরে জন্ম নেওয়া এক মাত্র নাতি আব্দুর রহমানকে হারিয়ে দাদি শাহিনুর সাথি পাগলপ্রায়। দু”চোখে তার কান্নার সাঁতার। তিনি বলেন, আমার বড় ছেলের এক মেয়ে ও ছোট ছেলের দুই মেয়ের পরে বংশের প্রদীপ হয়ে জন্ম নেয় আব্দুর রহমান। নাতির মৃত্যুর খবরে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছি। আল্লাহ্ ওকে না নিয়ে আমাকে কেন মৃত্যু দিল না। এই শোক সইবার নয়।
কান্না ভেজা কন্ঠে মৃত আব্দুর রহমানের বাবা রিয়াজুল ইসলাম বাবু বলেন, দুই মেয়ের পরে আল্লাহ্ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দিয়েছিলেন। ছেলেকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখেছি। হামে আক্রান্ত হওয়ার পরে তাকে সুস্থ করে তুলতে ধারদেনা করে যথাসাধ্য চেষ্টা করেও বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছি। টাকার অভাবে ঢাকায় নিয়ে তাকে আরও উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। এক পর্যায়ে ছোট মেয়েটিও হামে আক্রান্ত হয়। এখনও সে পরিপূর্ণ সুস্থ হয়নি। তাকে নিয়েও দুঃশ্চিন্তা। সঠিক সময় হামের টিকা দিতে পারলে হয়তো আজ এ পরিণতি হতো না। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী পৃথিবীতে মনে হয় আর কিছু নেই। ছেলেকে হারানোর বেদনা আমাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। সবার কাছে আমার মৃত ছেলের জন্য দোয়া চাই।
এদিকে হামে আক্রান্ত হয়ে বানারীপাড়া উপজেলায় ৭ মাস বয়সী সাফওয়ান, ,৪ মাস বয়সী তাবাসসুম ও ৯ মাস বয়সী রাকিব নামের আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুকের ধন প্রিয় সন্তান হারিয়ে এসব পরিবারে এখনও বইছে শোকের মাতম। তাদের পরিবারে ছিলনা কোরবানি ঈদের কোনও আনন্দ। কবরের কাছে গিয়ে কান্না-আফসোসে কেটেছে বাবা-মায়ের ঈদের দিন। ###