ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজন শিকদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, স্বস্তি যাত্রীদের ঘোড়াঘাটে দেউলী ঘাটে ব্রিজ নির্মাণে মন্ত্রী-এমপিদের শুধুই আশ্বাস ভাঙ্গা ব্রিজ ১০ গ্রামের মানুষের এখন মরণ ফাঁদ জীবননগর সীমান্তে ৪টি স্বর্ণের বার ও ৪ টুকরা স্বর্ণসহ এক পাচারকারী গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার স্বরূপকাঠী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওয়াহিদের মৃত্যুতে ব্যারিস্টার সাইফের শোক জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রিপন। দর্শনা সীমান্তে ঘাস কাটতে যাওয়া বাংলাদেশি যুবককে ধরে পুলিশকে দিলো বিএসএফ বরিশাল কারাভ্যন্তরে মাদকের বিস্তার নারী বন্দির কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার বিরামপুর ৩নং খানপুর ইউনিয়নে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন বিজয়নগর উপজেলায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

বিবেককে নাড়া দেওয়া এক নির্মম বাস্তবতা,উচ্চশিক্ষার আলোয় যখন অবহেলায় হারায়”মা”

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

​সমাজ যখন সাফল্যের নতুন চূড়া স্পর্শ করছে, ঠিক তখনই কোনো এক কোণে আমাদের নৈতিকতার দেয়ালগুলো ধসে পড়ছে তাসের ঘরের মতো। সম্প্রতি ঢাকার মিরপুরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের তথাকথিত ‘সফলতা’ আর ‘উচ্চশিক্ষার’ মুখে এক বিরাট চড় মেরে গেল।

​নিজের গর্ভধারিণী মায়ের মৃত্যুর খবর ছেলেরা জানতেন না। তাও একদিন বা দুদিন নয়, বেশ কয়েকদিন পর ঘর থেকে যখন লাশের পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল, তখন পুলিশ এসে সেই গলিত লাশ উদ্ধার করে। আর এই হতভাগ্য মায়ের সন্তানেরা কে? একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (সচিব) এবং অন্যজন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটের শিক্ষক!

​শুনতে অবিশ্বাস্য এবং চরম নির্মম মনে হলেও, এটাই আজ আমাদের সমাজের এক কুৎসিত বাস্তবতার গল্প।

​আমরা সন্তানদের বড় করি দেশের সেরা বিদ্যাপীঠে পড়ার জন্য। দিন-রাত এক করে তাদের প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে বাবা-মায়ের যে ত্যাগ, তার শেষ পরিণতি কি তবে এই নিঃসঙ্গতা?

একজন মানুষ সচিব হতে পারেন, দেশের সবচেয়ে মেধারী শিক্ষক হতে পারেন; কিন্তু যদি তিনি মায়ের খোঁজ নেওয়ার মতো ন্যূনতম মানবিকতা না শেখেন, তবে সেই শিক্ষার মূল্য কোথায়? প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি আমাদের ক্যারিয়ার গড়তে শেখায়, কিন্তু ‘মানুষ’ হতে শেখায় না।

“ব্যস্ততা” আজ আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় খুনি। যে মা নিজের জীবনের সমস্ত সময় বিলিয়ে দিলেন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য, সেই সন্তানের কাছে আজ মায়ের জন্য সপ্তাহে অন্তত কয়েকটা মিনিট সময় নেই? আলাদা থাকার অর্থ এই নয় যে, খোঁজ নেওয়ার সম্পর্কটাও আলাদা হয়ে যাবে।

​যে সন্তান মায়ের জ্যান্ত শরীরের খোঁজ রাখে না, তার কাছে মায়ের গলিত লাশের দুর্গন্ধ পৌঁছাতে তো সময় লাগবেই।

​এই ঘটনা কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের জন্য এক চপেটাঘাত। এখান থেকে আমাদের কিছু বিষয় গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত।

বাবা-মা দূরে থাকলে প্রতিদিন অন্তত একবার তাদের গলার আওয়াজ শুনুন। কোনো অজুহাতই যেন এই নিয়মের দেয়াল হতে না পারে।

ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোই সফলতার একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। দিনশেষে আপনি একজন ভালো সন্তান বা ভালো মানুষ হতে পারলেন কি না, সেটাই আসল পরিচয়।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

​মায়ের সেই পচে যাওয়া দেহটি হয়তো বুয়েটের ক্লাসরুমে বা সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কোনো প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু তা আমাদের সমাজের বিবেককে আজ আজীবনের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।

​সময় থাকতে জাগুন। বৃদ্ধ বাবা-মাকে টাকা-পয়সা বা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নয়, একটুখানি সময় আর ভালোবাসা দিন। কারণ, তারা চলে যাওয়ার পর আফসোস করার মতো সময়টুকু হয়তো প্রকৃতি আপনাকে নাও দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিবেককে নাড়া দেওয়া এক নির্মম বাস্তবতা,উচ্চশিক্ষার আলোয় যখন অবহেলায় হারায়”মা”

আপডেট সময় : ০১:০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আজকের ক্রাইম ডেক্স

​সমাজ যখন সাফল্যের নতুন চূড়া স্পর্শ করছে, ঠিক তখনই কোনো এক কোণে আমাদের নৈতিকতার দেয়ালগুলো ধসে পড়ছে তাসের ঘরের মতো। সম্প্রতি ঢাকার মিরপুরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের তথাকথিত ‘সফলতা’ আর ‘উচ্চশিক্ষার’ মুখে এক বিরাট চড় মেরে গেল।

​নিজের গর্ভধারিণী মায়ের মৃত্যুর খবর ছেলেরা জানতেন না। তাও একদিন বা দুদিন নয়, বেশ কয়েকদিন পর ঘর থেকে যখন লাশের পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল, তখন পুলিশ এসে সেই গলিত লাশ উদ্ধার করে। আর এই হতভাগ্য মায়ের সন্তানেরা কে? একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (সচিব) এবং অন্যজন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটের শিক্ষক!

​শুনতে অবিশ্বাস্য এবং চরম নির্মম মনে হলেও, এটাই আজ আমাদের সমাজের এক কুৎসিত বাস্তবতার গল্প।

​আমরা সন্তানদের বড় করি দেশের সেরা বিদ্যাপীঠে পড়ার জন্য। দিন-রাত এক করে তাদের প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে বাবা-মায়ের যে ত্যাগ, তার শেষ পরিণতি কি তবে এই নিঃসঙ্গতা?

একজন মানুষ সচিব হতে পারেন, দেশের সবচেয়ে মেধারী শিক্ষক হতে পারেন; কিন্তু যদি তিনি মায়ের খোঁজ নেওয়ার মতো ন্যূনতম মানবিকতা না শেখেন, তবে সেই শিক্ষার মূল্য কোথায়? প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি আমাদের ক্যারিয়ার গড়তে শেখায়, কিন্তু ‘মানুষ’ হতে শেখায় না।

“ব্যস্ততা” আজ আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় খুনি। যে মা নিজের জীবনের সমস্ত সময় বিলিয়ে দিলেন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য, সেই সন্তানের কাছে আজ মায়ের জন্য সপ্তাহে অন্তত কয়েকটা মিনিট সময় নেই? আলাদা থাকার অর্থ এই নয় যে, খোঁজ নেওয়ার সম্পর্কটাও আলাদা হয়ে যাবে।

​যে সন্তান মায়ের জ্যান্ত শরীরের খোঁজ রাখে না, তার কাছে মায়ের গলিত লাশের দুর্গন্ধ পৌঁছাতে তো সময় লাগবেই।

​এই ঘটনা কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের জন্য এক চপেটাঘাত। এখান থেকে আমাদের কিছু বিষয় গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত।

বাবা-মা দূরে থাকলে প্রতিদিন অন্তত একবার তাদের গলার আওয়াজ শুনুন। কোনো অজুহাতই যেন এই নিয়মের দেয়াল হতে না পারে।

ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোই সফলতার একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। দিনশেষে আপনি একজন ভালো সন্তান বা ভালো মানুষ হতে পারলেন কি না, সেটাই আসল পরিচয়।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

​মায়ের সেই পচে যাওয়া দেহটি হয়তো বুয়েটের ক্লাসরুমে বা সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কোনো প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু তা আমাদের সমাজের বিবেককে আজ আজীবনের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।

​সময় থাকতে জাগুন। বৃদ্ধ বাবা-মাকে টাকা-পয়সা বা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নয়, একটুখানি সময় আর ভালোবাসা দিন। কারণ, তারা চলে যাওয়ার পর আফসোস করার মতো সময়টুকু হয়তো প্রকৃতি আপনাকে নাও দিতে পারে।