২৫ মে ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, সোমবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের ক্রাইম ডেক্স
একটা অবৈধ হোটেল রক্ষায় কলাপাড়া উপজেলায় মডেল মসজিদ আসল ডিজাইনে নির্মাণ হচ্ছে না। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা বাধা হয়ে দাড়িয়েছেন। তাদের কারণে কয়েক দফা পরিবর্তন করা হয়েছে মসজিদের ডিজাইন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কলাপাড়া শহরের চৌরাস্তা সংলগ্ন নদীর পাশের খাস জমি দখল করে খান হোটেল নির্মান করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত। এই হোটেলে নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হত। হোটেলে অনৈতিক কাজ, শালিস বাণিজ্যসহ নানা কুকর্ম চলে।
ফ্যাসিবাদের আমলে মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে হোটেলটি রক্ষা করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন তালুকদার। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের কাজে বাধা এবং মসজিদ নির্মাণের নির্ধারিত স্থান থেকে উত্তরে চাকামইয়া ব্রিজ পর্যন্ত খাস যায়গায় দৃষ্টিনন্দন পার্ক ও মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের কাজ আটকে দেন। এই দুষ্ট চক্রের কারণে কয়েক বছর বন্ধ থাকে মসজিদের নির্মাণ কাজ।
ফ্যাসিবাদের পতনের পর কেরামতের নির্যাতনের শিকার কিছু লোক ক্ষুব্ধ হয়ে হোটেলটিতে হামলা চালিয়ে বন্ধ করে দেন। ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির শীর্ষনেতা শিশু হাজীকে ম্যানেজ করেন কেরামত। শিশু হাজী হুমকি দিয়ে বলেন, হোটেল খোলা থাকবে। কেউ টু শব্দ করলে তাকে দেখে নিবো। আর কেউ হোটেলের দিকে তাকানোর সাহস পায়নি। শিশু হাজী হোটেল দেখে রাখার দায়িত্ব দেন মামুন সিকদার, মোস্তাফিজ তালুকদার ও রিয়াজ তালুকদারকে। বর্তমানে এরাই কেরামতের আশ্রয়দাতা। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মসজিদের জায়গায় হোটেলের রাস্তা নির্মাণ করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের ‘ডামি’ নির্বাচনের আগে কেরামতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওতে কেরামত বলেছেন, “ কল্লা পারাইয়া ধইরা নৌকায় ভোট নিমু।”
স্থানীয়দের দাবি, মসজিদটি প্রথম যে ডিজাইনে নির্মাণের প্লান ছিল সেভাবে নির্মাণ করতে হবে। প্রয়োজনে আরও নান্দনিক করতে অবৈধ হোটেল ভেঙে ফুলের বাগান, পার্ক বা মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজ তালুকদার বলেন, কেরামত’র মতো খারাপ চরিত্রের কোনো লোক নাই। নেতা নিজে আমাকে ফোন করে খুলে দিতে বলেছেন। এক পয়সার সুবিধা আমরা নেই নাই। নেতার নাম জানতে চাইলে তিনি বর্তমান এমপির কথা বলেন।