১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রমজান উপলক্ষে সৌদি আরবের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের জন্য প্রেরিত খেজুর বিতরণকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। বিশেষ করে একজন সংসদ সদস্যের ফেসবুক লাইভে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সৌদি আরবের প্রধান মানবিক সহায়তা সংস্থা King Salman Humanitarian Aid and Relief Center (KSRelief) বাংলাদেশ সরকারকে উপহার হিসেবে ১২ হাজার ৫০০ প্যাকেট খেজুর প্রদান করে। বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এসব খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে বরিশাল জেলায় মোট ২৩৪ প্যাকেট খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব খেজুর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় অসহায়, দুস্থ ও এতিমখানাগুলোতে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কিছু তথ্য অনুযায়ী বলা হয়, প্রতিটি জেলা বা সংসদীয় আসনে নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক সংসদ সদস্য বিষয়টি গোপন রেখেছেন। একজন সংসদ সদস্যের ফেসবুক লাইভে এমন বক্তব্য উঠে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, এ ধরনের খেজুর প্রাপ্তির বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি ধারণা করেন, পাইলটিং আকারে কিছু জায়গায় বা কিছু উপজেলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের মাধ্যমে এসব সহায়তা পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌদি আরবের উপহার হিসেবে প্রাপ্ত এসব খেজুর মূলত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেগুলো এলাকার অসহায়, দুস্থ ও এতিমখানাগুলোতে বিতরণ করা হয়।
তবে একজন সংসদ সদস্যের ফেসবুক লাইভে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাবুগঞ্জ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও পড়েছে। অনেকেই বিষয়টি সঠিকভাবে না বুঝে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের দায়ী করছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, সৌদি আরবের সহায়তায় প্রাপ্ত খেজুর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই তা বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছাবে। পরে তালিকা অনুযায়ী এলাকার অসহায়, দুস্থ ও বিভিন্ন এতিমখানায় খেজুর বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির অবকাশ নেই এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় খেজুর বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।