০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন, ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, শুক্রবার, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের কৃতি সন্তান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন ২০০৮ সালের বহুল আলোচিত তারেক জিয়ার এক জামিন শুনানিকে ঘিরে নিজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, সেদিন যদি আইনের আলোকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত না নিতাম, হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে গড়াতো।
২০০৮ সালে আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর জামিন শুনানি নিয়ে আদালত কক্ষে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ ও অদৃশ্য চাপ এমনটাই দাবি করেন তিনি। ওপরে থেকে বার্তা ছিল, কোনোভাবেই জামিন নয়। কিন্তু বিচারকের শপথ আমাকে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে, বলেন সাবেক এই বিচারপতি।
তিনি জানান, সহকর্মীদের মধ্যেও শঙ্কা ছিল। তবে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট জামিন পাওয়ার আইনগত অধিকার থাকলে বিচারক হিসেবে তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
২০০৪ সালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলার তদন্ত-সংক্রান্ত দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত ছিল। ওই ঘটনায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা-সহ বহু নেতাকর্মী আহত হন। তদন্ত চলাকালে রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, একটি পক্ষ চেয়েছিল বিএনপি ও তারেক রহমানকে সরাসরি জড়াতে। কিন্তু আমি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণকে প্রাধান্য দিয়েছি।
স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে বড় ছেলের মতো স্নেহ করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া একাধিকবার স্নেহভরে তাকে উৎসাহমূলক কথা বলেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদালতে আমি কখনো ব্যক্তি বা আবেগকে প্রাধান্য দিইনি,আইনই ছিল একমাত্র বিবেচ্য।
জামিন সিদ্ধান্তের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় নিজেকে বঞ্চিত মনে করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন । জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রধান বিচারপতি হওয়ার সুযোগ পাননি এমন অভিযোগ তুললেও তার বক্তব্যে ক্ষোভের চেয়ে দৃঢ়তাই বেশি। আমি যা করেছি, শপথ রক্ষার জন্যই করেছি,বলেন তিনি।
১৯৫২ সালে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন জয়নুল আবেদীন। পরে চুয়াডাঙ্গা ভি.জে. স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। কুষ্টিয়া থেকে আইএসসি শেষ করে খুলনার দৌলতপুর বিএল কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী আইনবিদদের প্রতিষ্ঠান Lincoln’s Inn থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন।
১৯৯৬ সালের জুনে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। দীর্ঘ বিচারিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলার দায়িত্ব পালন করে আপিল বিভাগে উন্নীত হন।
২০০৮ সালের সেই জামিন সিদ্ধান্তই তার কর্মজীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় এ কথা স্বীকার করেন বিচারপতি জয়নুল আবেদীন। তার বক্তব্য, সেদিন আমি শুধু আইনের শপথ রক্ষা করেছি। পাশাপাশি তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করে শুভকামনা জানাতে চান বলেও উল্লেখ করেন। তার প্রত্যাশা প্রতিহিংসা নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা হোক।