২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, ৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, সোমবার, ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যর সাথে জেলা শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দর সৌজন্যে সাক্ষাৎ বিরামপুরে মাদকের রমরমা ব্যবসা প্রকাশ্য কেনাবেচায় উদ্বিগ্ন পরিবার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন নগরীতে সমালোচনার ঝড়, অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তা সহ ২৫ জনার বিরুদ্ধে মামলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার চাঁদাবাজি মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে-তথ্যমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গার দু’টি কারখানায় অভিযানে তেল-ডালডায় মরা পঁচা ইঁদুর ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে জরিমানা কুয়াকাটা একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে চান বিএনপি নেতা ও নবাগত সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন. শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন, পোড়া কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন মেঘনায় অভিযানে ছয় জেলে আটক, জরিমানা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে-তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
বিরামপুরে মাদকের রমরমা ব্যবসা প্রকাশ্য কেনাবেচায় উদ্বিগ্ন পরিবার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিরামপুরে মাদকের রমরমা ব্যবসা প্রকাশ্য কেনাবেচায় উদ্বিগ্ন পরিবার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্যের প্রকাশ্য সরবরাহ ও কেনাবেচা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিতভাবে মাদকের আসর বসছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার কেডিসি রোডে অন্তত ৫ থেকে ৬টি স্পটে নিয়মিত মাদকের লেনদেন হয়। এছাড়া সারগোডাউনের পশ্চিম ও উত্তর পাশ, কলাবাগান, গরুহাটি, ঘাটপাড় ব্রিজ এলাকা, মামুদপুর, থানার পেছনের লিচুবাগান আদিবাসী পাড়া, শান্তিনগর, মির্জাপুর, শিমুলতলি ও ঘোড়াঘাট রেলঘুমটি সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় অসাধু চক্রের আনাগোনা বেড়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কৌশলে কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে মাদকের জালে জড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সের যুবকদের মধ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। অনেক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। চোখের সামনে তারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কার্যকর কোনো অভিযান দেখতে পাচ্ছি না।”
সচেতন মহল বলছে, মাদক ব্যবসা শুধু ব্যক্তি বা পরিবার নয়, পুরো সমাজব্যবস্থাকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক সহিংসতাসহ নানা সামাজিক অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব স্পষ্ট। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ইতোমধ্যে ছোটখাটো অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা বন্ধ না হয়ে উল্টো আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমন প্রকাশ্য মাদক বাণিজ্য চলতে পারে?
সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে চিহ্নিত স্পটগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, যুব সমাজকে সচেতন করতে সামাজিক উদ্যোগ এবং পরিবারভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা—মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে প্রশাসন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। উঠতি প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019