২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, শনিবার, ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের কলেজ রোডে সরকারি নাম্বারিং করা চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—রাস্তা উন্নয়নের কথা বলে গাছ কেটে তা আত্মসাৎ করে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি নম্বরিং করা চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলা হয়। পরবর্তীতে গাছগুলো কাটলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছিল বলে একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার দাবি—তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
অন্যদিকে উপজেলা বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাছ কাটার বিষয়টি তারা অবগত আছেন। আবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন—তার উপস্থিতিতেই গাছগুলো একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দুই দপ্তরের বক্তব্যে স্পষ্ট অসংগতি দেখা দিয়েছে, যা জনমনে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সরকারি নম্বরিং করা গাছ কাটতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন। কর্তনের পর গাছ নিলাম বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় লিখিত নথির মাধ্যমে। অনুমতি ও বৈধ রশিদ ছাড়া সরকারি গাছ পরিবহন করা বেআইনি। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ দণ্ডনীয় অপরাধ।
জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। উন্নয়নের আড়ালে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়দের জোর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর ও স্বচ্ছ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।