১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, মঙ্গলবার, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোটারদের জারজসন্তান আখ্যা দিয়েছেন। বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ১৩ফেব্রæয়ারী (শুক্রবার) সন্ধ্যায় উত্তমপুর বাজারে একটি সভায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথাটি বলেন। এমন কুরুচিপুর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা জামায়াতে ইসলামী। সোমবার বিকেলে প্রেরিত জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিটি নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ ফরিদুল হক।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য দেখা যায়। সেখানে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন শব্দ (জারজ সন্তান) ব্যবহার করে তাদেরকে চিহ্নিত করার আহ্বান জানানোর বক্তব্যটি আমাদের দৃষ্টি গোচর হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কালকাঠি জেলা আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. ফরিদুল হক তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা দিয়েছে। পছন্দের দলকে ভোট দেওয়া নাগরিকের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অধিকার। এই অধিকার চর্চাকে কেন্দ্র করে কাউকে কাউকে ভোট দেওয়ার কারণে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা বা তার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা চরম ধৃষ্টতা। সরাসরি সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিরোধী। আমরা লক্ষ করছি যে ইতোমধ্যেই উক্ত আসনের বিভিন্ন এলাকার শতশত ভোটার তার সমর্থকদের শারীরীক ও মৌখিক হুমকী ও আক্রমণের শিকার হয়ে বসতবাড়ি ত্যাগ করেছেন। সচেতন নাগরিক সমাজ তার এহেনো আচরণ ফ্যাসিবাদের নতুন সংস্করণ মনে করেন। একজন সংসদ সদস্য এলাকার সকল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কোনো নাগরিকের অধিকার আছে তার পছন্দমতো দলকে ভোট দেওয়ার। তার ভাষা হওয়া উচিত সংযত এবং শিক্ষণীয়। রাজনীতিতে মতাদর্শের পার্থক্য থাকবেই, কিন্তু তার বহিঃপ্রকাশ হতে হবে যুক্তি ও মার্জিত ভাষায়। অশালীন ভাষা ব্যবহার করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষ কিংবা ভিন্ন মতের লোকদের উপর আক্রমণ করে এই ধরণের বক্তব্য দেওয়া সমাজে ঘৃণা এবং বিভাজন তৈরি করে। এটি কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা ও একজন সংসদ সদস্যের আচরণ হতে পারে না।
আমরা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসাথে, সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ভবিষ্যতে এ ধরনের উসকানিমূলক ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি।
এবিষয়ে ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বক্তব্যটি অস্বীকার করে বলেন, ওই বক্তব্য আমার না, সম্ভবত ওটা এআই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট) দিয়ে করা।