০৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন, ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, বৃহস্পতিবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মাহমুদ হাসান
রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সেনা হেফাজতে নিহত জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর প্রথম জানাজা পৌর ঈদগা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে,বৃহস্পতিবার দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
বুধবার বেলা ১১ টায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর ঈদগা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি, কেন্দ্র বিএনপির উপকোষাধক্ষ,বিজিএমইএ এর সভাপতি, রাইজিং গ্রুপের এমডি মাহমুদ হাসান খান বাবু,সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ, বিএনপি ও বিভিন্ন দলের নেতা কর্মী এবং হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। এসময় পৌর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিন জানাজার নামাজের ইমামতি করেন।
বৃহস্পতিবার তার মরদেহ জীবননগর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে তার পরিবারে সদস্যরা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে ৩৬ এ ডি রেজিমেন্ট টিটিসি আর্মি ক্যাম্পের, চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত সেনাবাহিনীর একদল সদস্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিকট আসে। এরপর উপজেলা বসতি পাড়ার মৃত আতাউর মাস্টারের ছেলে এবং জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে নিজ ওষুধের দোকান থেকে আটক করে, তাকে নিয়ে পাশের বিএনপি কার্যালয়ের ভিতর নিয়ে যায়। এরপর রাত ১২ টার দিকে সেনা হেফাজতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে । তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করা হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর শুনে চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু সহ শত শত নেতাকর্মী হাসপাতালে সামনে জড়ো হয়ে হত্যাকারী সেনাবাহিনী সদস্যদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে প্রধান ফটকের গেট বন্ধ করে দেয়। এরপর সেনাবাহিনী কয়েক দফা লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে, জনগণের বাধার মুখে ব্যর্থ হয় সেনাবাহিনী। সকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আশ্বাস দেন। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান। বিকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এদিকে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, সেনাবাহিনী সদস্যরা তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দিতে হবে।অন্যদিকে
মঙ্গলবার বিকালে আন্ত:বাহিনীর জনসংযোগ ও পরিদপ্তরের (আই এস পি আর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই ক্যাম্পের কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চ পদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আটক শামসুজ্জামান ডাবলুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি করে একটি ৯ এমএম পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়। এরপর সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর রাত ১২ টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।