০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি, সোমবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল : বানারীপাড়া এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় দেয়ায় ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী । ঘটনা সূত্রে জানা যায় ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত তারেক মাসুম একজন কুয়েত প্রবাসী তিনি এক বছর পরে বাড়িতে ছুটিতে আসেন। তিনি তার স্ত্রীর ওয়ারিশ সুত্রে পাওয়া জমি এবং তার ক্রয়র্কিত রেকর্ডিও সম্পত্তিতে গাইড ওয়াল করার জন্য তার ঘরের সামনের কিছু গাছ কেটে ফেলেন আর ঘটনা সূত্রপাত এখান থেকেই ঘটে। সেখানে এসে তার চাচাতো বোন মৃত মালেক মিয়ার কন্যা রানু বেগম এবং তার পরিবার এসে গাছ কাটায় বাধা প্রয়োগ করেন। ঘটনা স্থলে মাসুম বেপারীর স্ত্রী লাকি বেগমের সাথে রানু বেগমের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরবর্তীতে রানু বেগম থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেন। এদিকে মাসুম বেপারী বিষয়টি আগে আচ করতে পেরেছিলেন বিধায় থানায় তিনি আগে ২৩-১১-২৫ তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেন এবং সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় গাছ কেটে ওখানেই রাখা হবে উভয় পক্ষকে থানায় জমির কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে যারা জমি পাবে তাদেরকে গাছ দিয়ে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তর ভিত্তিতে মাসুম বেপারী কাগজ জমা দিলেও রানু বেগমের পরিবার কাগজ জমা দেননি। বিষয়টি কি ভিন্নখাতে রুপ দেওয়ার জন্যই দুই তিন দিন পরে মাসুম বেপারীর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন রানু বেগম। আদালত মামলাটিকে আমলে নিয়ে বানারীপাড়া থানায় এফআইআর করার নির্দেশ দেন। এদিকে মামলার বিষয়টি তদন্তের জন্য স্থানীয় একদল সাংবাদিক ঘটস্থলে যান বিষয়টি জানার জন্য মামলার তিন নম্বর সাক্ষী ফিরোজা বেগম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা এবং ধর্ষণের মত কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি আমাকে ফাঁসানো হয়েছে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকরা জানতে চান তাহলে আপনি মামলার সাক্ষী হলেন কেন তিনি বলেন আমাকে না জানিয়ে এই সাক্ষী করা হয়েছে আমি সাক্ষী দেবো না আমি মিথ্যা সাক্ষী দিতে চাই না এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আমি মাসুমকে বাড়িতে আসতে দেখিনি। মামলার এক নম্বর সাক্ষী রানু বেগমের মা সকিনা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার ঘরের দরজা খোলা ছিল আমি মিথ্যা বলতে পারব না আমার দুচোখে মাসুম কে এখানে আসতে দেখিনি এবং যাইতেও দেখিনি আমি মিথ্যা বলতে পারব না তবে আমার মেয়ের কাছে শুনেছি মাসুম তার সাথে বাজে কিছু করেছে। এখন প্রশ্ন হল মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে রানুর ডাক চিৎকারে সাক্ষীরা ঘরের মধ্যে দৌড়ে এসে মাসুমকে দেখতে পান এবং মাসুম তাদেরকে হুমকি দিয়ে চলে যান এখন কথা হল সাক্ষীরা যখন মাসুমকে দেখেনি তাহলে হুমকি বা কে দিল এবং ধর্ষণ কে করল। এর দ্বারা বোঝা যায় এটি একটি সাজানো নাটক। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাসুম বেপারীর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন। রানু বেগম আমার চেয়ে ১৫ বছরের বড় এবং সে আমার আপন চাচাতো বোন ছোটবেলা থেকে আমাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন। একজন মানুষ জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যে এত নিচে নামতে পারে তা আমার জানা ছিল না। আপনারা এলাকাবাসীর কাছে খবর নিন তাদের মুখ থেকেই শুনুন তাহলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন আসলে কি ঘটনা ঘটেছিল। এদের সম্বন্ধে এখন আমার মন্তব্য করতে রুচিতে বাঁধে। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সব বেরিয়ে আসুক। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে এক ব্যক্তি বলেন রানু একটি বাজে মহিলা এটি একটি মিথ্যে মামলা কারণ মামলায় যখন ঘটনার সময় উল্লেখ করা হয়েছে রানু সহ তার পরিবার এবং আমরা এলাকাবাসী সহ পুলিশ মাসুমের ঘরের সামনে অবস্থান করেছিলাম। এটি একটি মিথ্যা মামলা মাসুমকে ফাঁসানো হয়েছে। এদিকে অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায় ২৪ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত রানু বেগম বানারীপাড়া হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে কর্তব্যরত সেবিকা বলেন রানু বেগম গত ২৪ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত বানারীপাড়া হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি বলেছেন জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাকে পিটানো হয়েছে তবে ধর্ষণের কোন কথা বলেননি তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওষুধ ও সার্টিফিকেট দিয়ে নাম কেটে চলে গেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত সার্টিফিকেট নেন নি। এখানে প্রশ্ন হল রানু যদি ধর্ষন হয়েই থাকেন তাহলে হাসপাতালে কেন বলেননি আর ২৪ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত যদি হাসপাতালে ভর্তি থেকে থাকেন তাহলে ধর্ষণটা হল কখন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইসহাক মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন মামলাটি তদন্ত চলছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত-পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিকটিমকে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে মামলার বাদী রানু বেগম এর কাছে জানতে চেয়ে তার মুঠোফোন ০১৭২২২১৯৯৪০ ফোন করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে সচেতন মহলের দাবি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।