১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি, শনিবার, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
ঈদের দিন স্ত্রী-সন্তানকে মাংস কিনে খাওয়াতে না পারায় চিরকুট লিখে আত্মহত্যা বানারীপাড়ায় সাকুরা পরিবহনের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলম চাঁদ বৈসাবির রঙ লেগেছে পাহাড়ে হ্রদের জলে ভাসানো হলো রঙ-বেরঙের ফুল দর্শনায় ঈদের দিন মোটরসাইকেলের পাল্লাপাল্লিতে কিশোরের মৃত্যু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলে ইরানের হামলা রাজধানীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাহাড়ি প্রাণের উৎসব বৈসাবি পালিত এলাকায় মসজিদ ছিল না, জমি কিনে মসজিদ বানালেন সবজি বিক্রেতা ঈদের দিন পাহাড়ে ঘুরতে এসে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা, রানওয়েতে পুড়ে মৃত্যু হয় ৫৮৩ জনের
টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ৩ দিন পর দাফন হলো মরদেহ

টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ৩ দিন পর দাফন হলো মরদেহ

আজকের ক্রাইম ডেক্স : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমি বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ভাই-ভাতিজার দ্বন্দ্বে বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা মোতাহার হোসেন মুন্সির (৭৫) মরদেহ তিন দিন পর দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের শাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামে পুলিশি হস্তক্ষেপে মরদেহটি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মোতাহার হোসেন মুন্সী ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে অফিস সহকারী ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি অবসরে যান।

এরপর থেকে স্ত্রী মাসুমা বেগমকে নিয়ে তিনি ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। কিছুদিন আগে মোতাহার হোসেন অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হিয়। তাই ঢাকায় থাকা একখণ্ড জমি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

গত এক সপ্তাহ আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা যান। এর পরদিন মোতাহার হোসেনের মরদেহ দাফনের জন্য পলাশবাড়ী উপজেলার শাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামে আনেন তার স্ত্রী।

পরে ওই মরদেহ দাফনে বাধা দেন মোতাহার হোসেনের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম মুন্সী ও তার ভাতিজা হাবিবসহ পরিবারের কয়েকজন। এসময় তারা মাসুমা বেগমের কাছে মোতাহার আলীর কাছে থাকা জমি বিক্রির দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা কোথায় কোন ব্যাংকে আছে তা জানতে চান।

এ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে মরদেহ নিজ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। স্থানীয়রা চেষ্টা করেও দ্বন্দ্বের নিরসন করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে মরদেহ দাফন না হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পলাশবাড়ী থানা পুলিশ।

পরে তারা বৈঠক করে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাদের উপস্থিতিতে নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা নামাজ শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। ভাই-ভাতিজাদের অভিযোগ, কিছু দিন আগে মোতাহার আলী তার নিজ নামের জমি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা বিক্রি করেন।

সেই টাকা স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রাখেন। পরে মাসুমা বেগম গোপনে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা উত্তোলন করেন। বেতকাপা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সন্তান না থাকায় মোতাহার আলীর ভাই-ভাতিজারা মরদেহ দাফনে আপত্তি জানানোয় মরদেহ বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল।

দেনা-পাওনা এবং সম্পদ বিক্রির প্রায় দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা নিয়ে তার স্ত্রী মাসুমা বেগমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান পরিবারের লোকজন। অবশেষে উভয়কে নিয়ে পারিবারিকভাবে অর্থ সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের সমঝোতা হয়েছে। মোতাহার আলীর স্ত্রী মাসুমা বেগম তার ভাই-ভাতিজাদের ৬০ লাখ টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরই নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তিন দিনেও মরদেহ দাফন হয়নি বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পারিবারিকভাবে সমঝোতা হওয়ায় রাতে মোতাহার হোসেন মুন্সির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019