সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ! ৮টি স্থান দুর্ঘটনাপ্রবণ, বাড়ছে প্রাণহানি; গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে সড়ক বিভাগ,ইউএনও ওসির কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবী ঘোড়াঘাটে শিশুর পায়ুপথে বাতাস রক্তারক্ত জখম দোকান মালিক গ্রেফতার ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিরামপুরে নানা কর্মসূচিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন দর্শনায় ক্যাডেট একাডেমিতে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বিএসএফের গুলিতে জীবননগরে বাংলাদেশি আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আটক ঘোড়াঘাটে মাদকবিরোধী উন্মুক্ত সভা, ৩০ সদস্যের কমিটি গঠন চাঁদপুরে ২৪ ঘণ্টায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭৪, আটক ১৯ কিশোর ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী মাসুক স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০২৩ ৫১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। পরে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দেশের জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দোয়া করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি : ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। পরে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দেশের জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দোয়া করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি : ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও অঞ্চলটিতে অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত ও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানান। তিনি ভয়াবহ এই যুদ্ধ, নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ও অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধে ভূমিকা রাখতে বিশ্বনেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান। খবর বাসসের।

সৌদি আরব সফররত প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার জেদ্দার একটি হোটেলে ‘ইসলামে নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং সৌদি সরকার এই সম্মেলন আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের পক্ষে আমার ভূমিকা অব্যাহত রাখব।

গাজায় নিরীহ নারী ও শিশুদের ওপর ইসরাইলি নৃশংসতার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নৃশংসতা ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় অমানবিক নির্যাতনের শিকার দুই লাখ নারীর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাগুলো আমাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার বাবা-মা এবং নারী-শিশুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এ নৃশংসতা মিয়ানমারের হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতনের দৃশ্যই ফুটিয়ে তুলছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা নৃশংসতার শিকার হলে ২০১৭ সালের আগস্টে আমাদের সীমান্তে আশ্রয় চেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী মুসলিম নারীদের জন্য এক গুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শগুলো হলো প্রথমত, ফিলিস্তিনে অবিলম্বে সংঘাতের অবসান এবং সেখানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর অপরাধের বিচার।

দ্বিতীয়ত, সব অপরাধ, সহিংসতা, বৈষম্য ও নারীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়াকে ‘না’ বলা।

তৃতীয়ত, এসডিজি-৫ পূরণের লক্ষ্যে লিঙ্গ সমতা অর্জন ও নারীদের ক্ষমতায়নের দিকে যথাযথ মনোযোগ প্রদান।

চতুর্থত, মুসলিম নারীরা যেন স্বাধীনভাবে জনসমক্ষে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিতকরণ।

তিনি আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও মূল স্রোতে নারীদের ভূমিকার উজ্জ্বল উদাহরণ বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এ-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওআইসি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে এই বহুলপ্রতীক্ষিত ইস্যুগুলোতে সংলাপ প্রত্যাশিত।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে এর সম্ভাবনা উপলব্ধি করে খুব তাড়াতাড়ি ওআইসির নারী উন্নয়ন সংস্থায় (ডব্লিউডিও) যোগ দেয়। তিনি বলেন, ডব্লিউডিও এর যাত্রা শুরু করেছে এবং আমি আশা করি, ইসলামকে আরও ভালোভাবে বোঝার মাধ্যমে আজকের চাহিদাগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এ ম্যান্ডেটকে প্রসারিত করা যেতে পারে। আর তবেই আমরা একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বিশ্বের স্বপ্ন দেখতে পারি। আমি এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সাফল্য কামনা করছি। শেখ হাসিনা এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসলামে নারীর মর্যাদা তুলে ধরার জন্য সৌদি আরব ও ওআইসিকে ধন্যবাদ জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। পরে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দেশের জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দোয়া করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি : ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। পরে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দেশের জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দোয়া করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি : ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও অঞ্চলটিতে অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত ও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানান। তিনি ভয়াবহ এই যুদ্ধ, নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ও অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধে ভূমিকা রাখতে বিশ্বনেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান। খবর বাসসের।

সৌদি আরব সফররত প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার জেদ্দার একটি হোটেলে ‘ইসলামে নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং সৌদি সরকার এই সম্মেলন আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের পক্ষে আমার ভূমিকা অব্যাহত রাখব।

গাজায় নিরীহ নারী ও শিশুদের ওপর ইসরাইলি নৃশংসতার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নৃশংসতা ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় অমানবিক নির্যাতনের শিকার দুই লাখ নারীর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাগুলো আমাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার বাবা-মা এবং নারী-শিশুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এ নৃশংসতা মিয়ানমারের হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতনের দৃশ্যই ফুটিয়ে তুলছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা নৃশংসতার শিকার হলে ২০১৭ সালের আগস্টে আমাদের সীমান্তে আশ্রয় চেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী মুসলিম নারীদের জন্য এক গুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শগুলো হলো প্রথমত, ফিলিস্তিনে অবিলম্বে সংঘাতের অবসান এবং সেখানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর অপরাধের বিচার।

দ্বিতীয়ত, সব অপরাধ, সহিংসতা, বৈষম্য ও নারীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়াকে ‘না’ বলা।

তৃতীয়ত, এসডিজি-৫ পূরণের লক্ষ্যে লিঙ্গ সমতা অর্জন ও নারীদের ক্ষমতায়নের দিকে যথাযথ মনোযোগ প্রদান।

চতুর্থত, মুসলিম নারীরা যেন স্বাধীনভাবে জনসমক্ষে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিতকরণ।

তিনি আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও মূল স্রোতে নারীদের ভূমিকার উজ্জ্বল উদাহরণ বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এ-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওআইসি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে এই বহুলপ্রতীক্ষিত ইস্যুগুলোতে সংলাপ প্রত্যাশিত।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে এর সম্ভাবনা উপলব্ধি করে খুব তাড়াতাড়ি ওআইসির নারী উন্নয়ন সংস্থায় (ডব্লিউডিও) যোগ দেয়। তিনি বলেন, ডব্লিউডিও এর যাত্রা শুরু করেছে এবং আমি আশা করি, ইসলামকে আরও ভালোভাবে বোঝার মাধ্যমে আজকের চাহিদাগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এ ম্যান্ডেটকে প্রসারিত করা যেতে পারে। আর তবেই আমরা একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বিশ্বের স্বপ্ন দেখতে পারি। আমি এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সাফল্য কামনা করছি। শেখ হাসিনা এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসলামে নারীর মর্যাদা তুলে ধরার জন্য সৌদি আরব ও ওআইসিকে ধন্যবাদ জানান।