সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠি জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির শপথগ্রহণ সম্পন্ন বাবুগঞ্জে নিখোঁজের এক মাসেও সন্ধান মেলেনি গৃহবধূ আসমার। খুলনায় ৩ হাজার ৯৫৮ ইয়াবাসহ মোরেলগঞ্জের দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৪ রাজাপুরে ২২ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি আটক চড়া দামে পচা মাছ বিক্রি।  রুপাতলী বাজারে বেপরোয়া মাছ ব্যবসায়ীরা  বরিশালে বাজারের জায়গা নিয়ে ভাই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ স্বভাব নিয়ে রফিকুল ইসলাম জামালের কঠোর সমালোচনা ও ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল বরিশালে স্বাস্থ্য বিভাগের মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত: টিকাদান ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা জোর দেওয়ার তাগিদ টানা বর্ষনে বেহাল বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক জীবননগর বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

আগৈলঝাড়ার বাশাইল ঐতিহ্যবাহী জারি গানের আসর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২ ১২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বি এম মনির হোসেনঃ-

আবহমান গ্রাম বাংলায় জারি গানের আসর ছিল বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে, আধুনিকতার ছোঁয়াতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামের মানুষের আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ জারি গান । ‘জারিথ ফারসি শব্দ। অর্থ ক্রন্দন, বিলাপ বা প্রচার করা।বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাশাইল গ্রামের কালেখা মাজারে জমেছিল জারি গানের আসর।মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছোট বাশাইল গ্রামের কয়েকশত মানুষ জারি গান শুনে আনন্দে মেতে উঠেছিল। পাশাপাশি জারি গানকে কেন্দ্র করে এখানে গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলা হরেক রকম দোকানপাট বসে। অনুষ্ঠানের দুইজন শিল্পী জারি গান পরিবেশন করেন তাহারা হলেন পারভেজ দেওয়ান ও দিবামনি দেওয়ান।জারিতে দুটি দল থাকে। প্রতিটি দলে একজন করে মূল গায়ক বা বয়াতি থাকে। তার সঙ্গে দোহার থাকে দুই থেকে চারজন এবং বাদক থাকে কমপক্ষে চারজন। অবশ্য বেশির ভাগ বয়াতি নিজেও একজন বাদকের কাজ করে। গান পরিবেশনের সময় বয়াতি দোতারা, সারিন্দা, বেহালা বা ডুগডুগি বাজায়, আর যন্ত্রীরা বাজায় ঢোলক, একতারা, দোতারা, সারিন্দা, বেহালা, বাঁশি, ঘুঙুর, খঞ্জনি, হারমোনিয়াম, কাঁসা ইত্যাদি। বয়াতি প্রথমে দর্শক-শ্রোতাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে ধুয়া গান ধরে এবং দোহাররা তা সমবেত কণ্ঠে গায়।দুই জারিয়াল দলের মধ্যে প্রশ্নোত্তরমূলক যে গান গাওয়া হয় তা সাধারণত তিনটি পর্বে বিভক্ত, যথা—বন্দনা, গোষ্ঠগান ও মূল জারি গান। মূল গায়কই সব কিছু শুরু করে এবং দোহাররা তার চতুর্দিকে বসে তাকে সাহায্য করে। বয়াতি দোহারদের চারদিকে হাঁটে এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে গান পরিবেশন করে।জারি গানে মেয়ে-পুরুষ, জীবাত্মা-পরমাত্মা, রাম-হনুমান, গুরু-শিষ্য, শরিয়ত-মারেফত, আদম-শয়তান, গণতন্ত্র-রাজতন্ত্র, সুফি-মোল্লা ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিযোগিতা হয়। এসব বিষয় অবলম্বনে দুই দল জারিয়াল প্রশ্নোত্তর আকারে গান পরিবেশন করে। গানের শেষদিকে দুই দল মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উপস্থিত বুদ্ধি মতো প্রশ্নোত্তর কাটাকাটি করে, যাকে বলা হয় ‘জোটকথ। এ অংশটি মূলত কবিগানেরই অনুরূপ।পুরুষদের মতো মেয়েদেরও জারিয়াল দল আছে। এখানে জারি গানের পাশাপাশি জারি নৃত্যেরও প্রচলন আছে। গুরুসদয় দত্তের একটি প্রবন্ধে এরূপ জারি নৃত্যের সচিত্র বর্ণনা পাওয়া যায়। নৃত্যসহকারে পরিবেশিত এই জারি গানে আসামের বহু উৎসবের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
জারি গান পরিবেশনায় ঝিনাইদহের পাগলা কানাই ছিলেন প্রবাদতুল্য। এ ছাড়া আবদুল মালেক দেওয়ান, আবদুল খালেক দেওয়ান, আবদুল গণি বয়াতি, দারোগ আলী বয়াতি, সাই আলী বয়াতি, আব্বাস আলী ভাসান, মোহাম্মদ আলী আকবর মিয়া প্রমুখের নামও উল্লেখযোগ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আগৈলঝাড়ার বাশাইল ঐতিহ্যবাহী জারি গানের আসর

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২

বি এম মনির হোসেনঃ-

আবহমান গ্রাম বাংলায় জারি গানের আসর ছিল বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে, আধুনিকতার ছোঁয়াতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামের মানুষের আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ জারি গান । ‘জারিথ ফারসি শব্দ। অর্থ ক্রন্দন, বিলাপ বা প্রচার করা।বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাশাইল গ্রামের কালেখা মাজারে জমেছিল জারি গানের আসর।মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছোট বাশাইল গ্রামের কয়েকশত মানুষ জারি গান শুনে আনন্দে মেতে উঠেছিল। পাশাপাশি জারি গানকে কেন্দ্র করে এখানে গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলা হরেক রকম দোকানপাট বসে। অনুষ্ঠানের দুইজন শিল্পী জারি গান পরিবেশন করেন তাহারা হলেন পারভেজ দেওয়ান ও দিবামনি দেওয়ান।জারিতে দুটি দল থাকে। প্রতিটি দলে একজন করে মূল গায়ক বা বয়াতি থাকে। তার সঙ্গে দোহার থাকে দুই থেকে চারজন এবং বাদক থাকে কমপক্ষে চারজন। অবশ্য বেশির ভাগ বয়াতি নিজেও একজন বাদকের কাজ করে। গান পরিবেশনের সময় বয়াতি দোতারা, সারিন্দা, বেহালা বা ডুগডুগি বাজায়, আর যন্ত্রীরা বাজায় ঢোলক, একতারা, দোতারা, সারিন্দা, বেহালা, বাঁশি, ঘুঙুর, খঞ্জনি, হারমোনিয়াম, কাঁসা ইত্যাদি। বয়াতি প্রথমে দর্শক-শ্রোতাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে ধুয়া গান ধরে এবং দোহাররা তা সমবেত কণ্ঠে গায়।দুই জারিয়াল দলের মধ্যে প্রশ্নোত্তরমূলক যে গান গাওয়া হয় তা সাধারণত তিনটি পর্বে বিভক্ত, যথা—বন্দনা, গোষ্ঠগান ও মূল জারি গান। মূল গায়কই সব কিছু শুরু করে এবং দোহাররা তার চতুর্দিকে বসে তাকে সাহায্য করে। বয়াতি দোহারদের চারদিকে হাঁটে এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে গান পরিবেশন করে।জারি গানে মেয়ে-পুরুষ, জীবাত্মা-পরমাত্মা, রাম-হনুমান, গুরু-শিষ্য, শরিয়ত-মারেফত, আদম-শয়তান, গণতন্ত্র-রাজতন্ত্র, সুফি-মোল্লা ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিযোগিতা হয়। এসব বিষয় অবলম্বনে দুই দল জারিয়াল প্রশ্নোত্তর আকারে গান পরিবেশন করে। গানের শেষদিকে দুই দল মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উপস্থিত বুদ্ধি মতো প্রশ্নোত্তর কাটাকাটি করে, যাকে বলা হয় ‘জোটকথ। এ অংশটি মূলত কবিগানেরই অনুরূপ।পুরুষদের মতো মেয়েদেরও জারিয়াল দল আছে। এখানে জারি গানের পাশাপাশি জারি নৃত্যেরও প্রচলন আছে। গুরুসদয় দত্তের একটি প্রবন্ধে এরূপ জারি নৃত্যের সচিত্র বর্ণনা পাওয়া যায়। নৃত্যসহকারে পরিবেশিত এই জারি গানে আসামের বহু উৎসবের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
জারি গান পরিবেশনায় ঝিনাইদহের পাগলা কানাই ছিলেন প্রবাদতুল্য। এ ছাড়া আবদুল মালেক দেওয়ান, আবদুল খালেক দেওয়ান, আবদুল গণি বয়াতি, দারোগ আলী বয়াতি, সাই আলী বয়াতি, আব্বাস আলী ভাসান, মোহাম্মদ আলী আকবর মিয়া প্রমুখের নামও উল্লেখযোগ্য।