সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে বাজেটে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা : অর্থমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ ১৮১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতেই ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত রেমিটেন্স বিনা ডকুমেন্টে দেশে পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া, নির্ধারিত হারে কর দিয়ে বিদেশে থাকা সম্পদও বৈধ করার সুযোগ থাকছে বাজেটে। অর্থ পাচারকারী ও বিদেশে অবৈধ সম্পদের মালিকদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। দেশে বিদ্যমান ডলার সংকট মেটানো এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পদক্ষেপ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ৫ হাজার ডলার বা ৫ লাখ টাকা পর্ন্ত বিনা ডকুমেন্টে দেশে আনার যে সার্কুলার বাংলাদেশ ব্যাংক জারি করেছে, তা বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য করা হয়েছে। ‘যারা পাচার করা টাকা দেশে রেমিটেন্স আকারে পাঠাবেন, তাদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। যেসব টাকা বিভিন্ন সময় দেশ থেকে বিদেশে চলে গেছে, এতে সেসব টাকা ফেরত আসবে বলে আশা করছি।’ জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময় এ ধরনের ট্যাক্স এমনেস্টি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া এ ধরনের সুযোগ দিয়েছিল। সেখানে অনেক টাকা ফেরত এসেছে। যারা টাকা পাচার করেছে কিংবা বিদেশে অবৈধ সম্পদ করেছে, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত ভালো একটি সুযোগ। তারা এটা কাজে লাগাতে আগ্রহী হবে।
‘আমরা চাচ্ছি যেসব টাকা বিভিন্ন সময় দেশ থেকে পাচার হয়েছে, সেগুলো দেশে ফেরত আসুক। দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আদালত থেকে বিভিন্ন সময় আমরা অর্থপাচারের বিভিন্ন তথ্য পাই এবং তা ফেরত আনার নির্দেশনা পাই। সেসব নির্দেশনার আলোকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে বিদেশে থাকা সম্পদ ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ বাজেটে রাখার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তবে বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। দেশ থেকে কি পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, সে তথ্য জানাতে পারেননি অর্থমন্ত্রী।
ডলার সংকট মোকাবিলায় অর্থ পাচারকারীদের এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, অফকোর্স দেশে ডলার সংকট রয়েছে, আমাদের ডলার দরকার। কিন্তু যে রকম সংকট বলা হচ্ছে, ওই রকম নয়। আমাদের রিজার্ভ গুড ফর এনাফ। আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় আমাদের রিজার্ভ ভালো।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে এ ধরনের ক্রাইসিস হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলাস পণ্য আমদানিতে সিকিউরিটি মানি বা এলসি মার্জিন বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, আমদানি নিরুৎসাহিত করতে রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো শুল্ক-কর বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, দাম বাড়লে কারও না কারও ওপর এর প্রভাব পরে। তবে এই ইমপ্যাক্ট যাতে কম পড়ে, সেজন্যই আমরা কনজ্যুমারদের সঙ্গে শেয়ার করে নিচ্ছি।
সারাবিশ্বেই ‘আপস এন্ড ডাউন’ পরিস্থিতি চলমান জানিয়ে কামাল বলেন, আগামী বাজেটের মাধ্যমে আমাদের মূল কাজ হবে বিভিন্ন পলিসির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা। এ দু’টি নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হচ্ছে, যুক্তরাজ্যেও ৩৮ বছরের সর্বোচ্চ। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ সবারই একই অবস্থা।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, দেশের মানুষ যাতে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্যই ঈদে এক কোটি পরিবারকে ডাল, তেল, চিনি কম মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে বাজেটে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা : অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতেই ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত রেমিটেন্স বিনা ডকুমেন্টে দেশে পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া, নির্ধারিত হারে কর দিয়ে বিদেশে থাকা সম্পদও বৈধ করার সুযোগ থাকছে বাজেটে। অর্থ পাচারকারী ও বিদেশে অবৈধ সম্পদের মালিকদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। দেশে বিদ্যমান ডলার সংকট মেটানো এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পদক্ষেপ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ৫ হাজার ডলার বা ৫ লাখ টাকা পর্ন্ত বিনা ডকুমেন্টে দেশে আনার যে সার্কুলার বাংলাদেশ ব্যাংক জারি করেছে, তা বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য করা হয়েছে। ‘যারা পাচার করা টাকা দেশে রেমিটেন্স আকারে পাঠাবেন, তাদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। যেসব টাকা বিভিন্ন সময় দেশ থেকে বিদেশে চলে গেছে, এতে সেসব টাকা ফেরত আসবে বলে আশা করছি।’ জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময় এ ধরনের ট্যাক্স এমনেস্টি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া এ ধরনের সুযোগ দিয়েছিল। সেখানে অনেক টাকা ফেরত এসেছে। যারা টাকা পাচার করেছে কিংবা বিদেশে অবৈধ সম্পদ করেছে, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত ভালো একটি সুযোগ। তারা এটা কাজে লাগাতে আগ্রহী হবে।
‘আমরা চাচ্ছি যেসব টাকা বিভিন্ন সময় দেশ থেকে পাচার হয়েছে, সেগুলো দেশে ফেরত আসুক। দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আদালত থেকে বিভিন্ন সময় আমরা অর্থপাচারের বিভিন্ন তথ্য পাই এবং তা ফেরত আনার নির্দেশনা পাই। সেসব নির্দেশনার আলোকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে বিদেশে থাকা সম্পদ ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ বাজেটে রাখার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তবে বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। দেশ থেকে কি পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, সে তথ্য জানাতে পারেননি অর্থমন্ত্রী।
ডলার সংকট মোকাবিলায় অর্থ পাচারকারীদের এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, অফকোর্স দেশে ডলার সংকট রয়েছে, আমাদের ডলার দরকার। কিন্তু যে রকম সংকট বলা হচ্ছে, ওই রকম নয়। আমাদের রিজার্ভ গুড ফর এনাফ। আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় আমাদের রিজার্ভ ভালো।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে এ ধরনের ক্রাইসিস হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলাস পণ্য আমদানিতে সিকিউরিটি মানি বা এলসি মার্জিন বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, আমদানি নিরুৎসাহিত করতে রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো শুল্ক-কর বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, দাম বাড়লে কারও না কারও ওপর এর প্রভাব পরে। তবে এই ইমপ্যাক্ট যাতে কম পড়ে, সেজন্যই আমরা কনজ্যুমারদের সঙ্গে শেয়ার করে নিচ্ছি।
সারাবিশ্বেই ‘আপস এন্ড ডাউন’ পরিস্থিতি চলমান জানিয়ে কামাল বলেন, আগামী বাজেটের মাধ্যমে আমাদের মূল কাজ হবে বিভিন্ন পলিসির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা। এ দু’টি নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হচ্ছে, যুক্তরাজ্যেও ৩৮ বছরের সর্বোচ্চ। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ সবারই একই অবস্থা।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, দেশের মানুষ যাতে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্যই ঈদে এক কোটি পরিবারকে ডাল, তেল, চিনি কম মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।’