সংবাদ শিরোনাম ::
সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

তালতলীতে জোয়ারের ভাসছে মুগডাল,কাঁদছে কৃষক প্রভাবশালী বাঁধ কেটে দেওয়ায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২ ৯৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

(জলিল আহমেদ বরগুনা থেকে)

বরগুনার তালতলীতে নবী হোসেন জোমাদ্দার নামের এক প্রভাবশালী ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে ঘেরে পানি উঠানোর কারনে। কৃষকদের প্রায় ১৭ একর জমির মুগডাল এখন জোয়ারের পানিতে ভাসছে। খেতের পাশে কৃষকরা কান্না করছে।

জানা যায়,উপজেলার খোট্টার চর এলাকায় গত বছর প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি) ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। এই বাঁধ নির্মাণে এই এলাকার কৃষকরা ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখে। এ জন্য কৃষকরা বিভিন্ন এনজিও থেকে ৯ জন কৃষক ঋণ নিয়ে এই বছর ১৭ একর জমিতে মুগডাল চাষ শুরু করেন। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। মুগডাল ফলন ভালো হওয়াতে ঋণ পরিশোধ করে লাভের মুখ দেখ তো কৃষকরা। তবে ঘরে মুগডাল উঠানোর আগেই স্থানীয় প্রভাবশালীর নবী হোসেন জোমাদ্দার তার ব্যক্তিগত ঘেরে মাছ চাষের জন্য ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে নদীর জোয়ারের পানি উঠায়। এতে ঐ এলাকার ৯ জন কৃষকের ১৭ একর জমির মুগডাল পানিতে ভাসতে থাকে। কৃষকরা বলেন, এই জোয়ারের পানিতে মুগডাল তলিয়ে থাকলে গাছ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। মুগডাল চাষে লাভ তো হবেই না উল্টো ঋণ পরিশোধও করতে পারবে না। তবে এই বিষয়ে নবী হোসেন জোমাদ্দারকে কৃষকরা একাধিকবার বাধ কাটতে নিষেধ করলে তিনি বাঁধটি কেটে দেয়। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এসব কৃষকদের। প্রতিদিন যদি এভাবে পানি ওঠানামা করলে ক্ষেতের ফসলের আরো ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

মঙ্গলবার(১৯ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধ কাটে পানি উঠানোর সেই পানিতে মুগডাল গাছ তলিয়ে গেছে। মুগডাল গাছ নিয়ে কৃষকরা কান্না করছে।

এবিষয়ে কৃষক ইসমাইল ও ইব্রাহিম বলেন, বাবা-ছেলে এনজিও ও মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এই মুগডাল চাষ করি। আমরা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরে এই মুগডাল চাষ করি। নবী হোসেনের কারণে ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা পালানোর পথও খুঁজে পাইবো না। তার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিলেও কিছুই করতে পারবো না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানোর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

আরেক কৃষক খলিল মিস্ত্রী কান্না জনিত কন্ঠে বলেন, নিজে অসুস্থ থেকে ও দিনে কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে সেই টাকা দিয়ে এই মুগডাল চাষ করেছি। গায়ের জোরে বাঁধ কেটে ঘেরে পানি উঠানোর কারণে আজ আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমি কি জন্য এতো কষ্ট করলাম। আমি এখন কার কাছে যাবো। কি করবো নিজেই জানি না। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে নবী হোসেন জোমাদ্দার বলেন,আমার রেকর্ডি জমির উপরের বাধ কেটে পানি উঠাইছি। আমার লাখ লাখ টাকার মাছ বাচানোর জন্য পানি উঠাইছি। এতে যদি কোনো কৃষকের ক্ষতি হয় তাতে আমার কিছু করার নেই।

উপজেলা কৃষি অফিসার সি এম রেজাউল করিম বলেন, আমাদের অনুমতি না নিয়েই তিনি বাঁধ কেটেছে। এছাড়া বাঁধ কেটে পানি উঠানোর প্রশ্নেই আসে না। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কৃষকরা যদি কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে চায়। তাহলে সকল ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি) বরগুনা জেলা কর্মকর্তা মো. প্রিন্স মল্লিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের সহকারী প্রকৌশলী দিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখতেছি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তালতলীতে জোয়ারের ভাসছে মুগডাল,কাঁদছে কৃষক প্রভাবশালী বাঁধ কেটে দেওয়ায়

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২

(জলিল আহমেদ বরগুনা থেকে)

বরগুনার তালতলীতে নবী হোসেন জোমাদ্দার নামের এক প্রভাবশালী ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে ঘেরে পানি উঠানোর কারনে। কৃষকদের প্রায় ১৭ একর জমির মুগডাল এখন জোয়ারের পানিতে ভাসছে। খেতের পাশে কৃষকরা কান্না করছে।

জানা যায়,উপজেলার খোট্টার চর এলাকায় গত বছর প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি) ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। এই বাঁধ নির্মাণে এই এলাকার কৃষকরা ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখে। এ জন্য কৃষকরা বিভিন্ন এনজিও থেকে ৯ জন কৃষক ঋণ নিয়ে এই বছর ১৭ একর জমিতে মুগডাল চাষ শুরু করেন। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। মুগডাল ফলন ভালো হওয়াতে ঋণ পরিশোধ করে লাভের মুখ দেখ তো কৃষকরা। তবে ঘরে মুগডাল উঠানোর আগেই স্থানীয় প্রভাবশালীর নবী হোসেন জোমাদ্দার তার ব্যক্তিগত ঘেরে মাছ চাষের জন্য ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে নদীর জোয়ারের পানি উঠায়। এতে ঐ এলাকার ৯ জন কৃষকের ১৭ একর জমির মুগডাল পানিতে ভাসতে থাকে। কৃষকরা বলেন, এই জোয়ারের পানিতে মুগডাল তলিয়ে থাকলে গাছ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। মুগডাল চাষে লাভ তো হবেই না উল্টো ঋণ পরিশোধও করতে পারবে না। তবে এই বিষয়ে নবী হোসেন জোমাদ্দারকে কৃষকরা একাধিকবার বাধ কাটতে নিষেধ করলে তিনি বাঁধটি কেটে দেয়। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এসব কৃষকদের। প্রতিদিন যদি এভাবে পানি ওঠানামা করলে ক্ষেতের ফসলের আরো ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

মঙ্গলবার(১৯ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধ কাটে পানি উঠানোর সেই পানিতে মুগডাল গাছ তলিয়ে গেছে। মুগডাল গাছ নিয়ে কৃষকরা কান্না করছে।

এবিষয়ে কৃষক ইসমাইল ও ইব্রাহিম বলেন, বাবা-ছেলে এনজিও ও মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এই মুগডাল চাষ করি। আমরা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরে এই মুগডাল চাষ করি। নবী হোসেনের কারণে ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা পালানোর পথও খুঁজে পাইবো না। তার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিলেও কিছুই করতে পারবো না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানোর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

আরেক কৃষক খলিল মিস্ত্রী কান্না জনিত কন্ঠে বলেন, নিজে অসুস্থ থেকে ও দিনে কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে সেই টাকা দিয়ে এই মুগডাল চাষ করেছি। গায়ের জোরে বাঁধ কেটে ঘেরে পানি উঠানোর কারণে আজ আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমি কি জন্য এতো কষ্ট করলাম। আমি এখন কার কাছে যাবো। কি করবো নিজেই জানি না। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে নবী হোসেন জোমাদ্দার বলেন,আমার রেকর্ডি জমির উপরের বাধ কেটে পানি উঠাইছি। আমার লাখ লাখ টাকার মাছ বাচানোর জন্য পানি উঠাইছি। এতে যদি কোনো কৃষকের ক্ষতি হয় তাতে আমার কিছু করার নেই।

উপজেলা কৃষি অফিসার সি এম রেজাউল করিম বলেন, আমাদের অনুমতি না নিয়েই তিনি বাঁধ কেটেছে। এছাড়া বাঁধ কেটে পানি উঠানোর প্রশ্নেই আসে না। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কৃষকরা যদি কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে চায়। তাহলে সকল ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি) বরগুনা জেলা কর্মকর্তা মো. প্রিন্স মল্লিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের সহকারী প্রকৌশলী দিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখতেছি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।