সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ! ৮টি স্থান দুর্ঘটনাপ্রবণ, বাড়ছে প্রাণহানি; গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে সড়ক বিভাগ,ইউএনও ওসির কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবী ঘোড়াঘাটে শিশুর পায়ুপথে বাতাস রক্তারক্ত জখম দোকান মালিক গ্রেফতার ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিরামপুরে নানা কর্মসূচিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন দর্শনায় ক্যাডেট একাডেমিতে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বিএসএফের গুলিতে জীবননগরে বাংলাদেশি আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আটক ঘোড়াঘাটে মাদকবিরোধী উন্মুক্ত সভা, ৩০ সদস্যের কমিটি গঠন চাঁদপুরে ২৪ ঘণ্টায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭৪, আটক ১৯ কিশোর ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী মাসুক স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন

মিয়ানমারে আবারও গণহত্যার আশঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ ১৫১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্যের সমাবেশ ঘটাচ্ছে সামরিক সরকার। এমন তথ্য উল্লেখ করে সেখানে বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে।

২০১৬ ও ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংস হামলার আগে সেখানে যেভাবে সৈন্য জড়ো করা হয়েছিল একইভাবে এবার মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সৈন্য জড়ো করা হচ্ছে। জাতিসংঘে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত টম এন্ড্রুস এমন তথ্য জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেয়া প্রতিবেদনে তিনি দেশটিতে আরো রক্তপাত, নিপীড়ন ও নির্যাতনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনে টম অ্যান্ড্রুস বলেন, ‘‘আরো নৃশংস অপরাধ সংগঠিত হওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত থাকা উচিত, যেমনটা মিয়ানমারের ওই অঞ্চলের মানুষও প্রস্তুত রয়েছেন। আমি খুব করে চাই যেন আমার আশঙ্কা ভুল হয়,’’ বলেন টম অ্যান্ড্রুস।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী জোরপূর্বক দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ক্ষমতা দখল করে৷ স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এগারশোর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

গ্রেফতার হয়েছেন আট হাজারের উপরে। অ্যান্ড্রুস জানান, গ্রেফতারকৃতদের উপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে, একারণে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি শিশুরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে অ্যান্ড্রুস বলেন, উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে লাখো সেনা ও ভারি অস্ত্র জড়ো করার তথ্য তিনি পেয়েছেন।

যার প্রেক্ষিতে সেখানে জান্তা সরকারের সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ‘‘এই তথ্যগুলো ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর চালানো গণহত্যার আক্রমণের পূর্বের সামরিক সমাবেশের ভীতিকর কৌশলের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়,’’ বলেন টম অ্যান্ড্রুস।
উল্লেখ্য নিরাপত্তা বাহিনীর দমনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালে রাখাইন থেকে অন্তত সাত লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

প্রতিবেদনে তিনি সামরিক জান্তাকে অর্থ, অস্ত্র ও বৈধতা না দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান৷ এই চাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী পাঁচ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে সম্প্রতি মুক্তি দিয়েছে জান্তা সরকার।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান এর সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে না এমন সিদ্ধান্তের কয়েকদিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়৷ তবে অ্যান্ড্রুস জানিয়েছেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের কাউকে কাউকে ‘আবার গ্রেফতার করা হয়েছে’।
সূত্র: ডয়চে ভেলে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মিয়ানমারে আবারও গণহত্যার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০২:৫০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১

অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্যের সমাবেশ ঘটাচ্ছে সামরিক সরকার। এমন তথ্য উল্লেখ করে সেখানে বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে।

২০১৬ ও ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংস হামলার আগে সেখানে যেভাবে সৈন্য জড়ো করা হয়েছিল একইভাবে এবার মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সৈন্য জড়ো করা হচ্ছে। জাতিসংঘে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত টম এন্ড্রুস এমন তথ্য জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেয়া প্রতিবেদনে তিনি দেশটিতে আরো রক্তপাত, নিপীড়ন ও নির্যাতনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনে টম অ্যান্ড্রুস বলেন, ‘‘আরো নৃশংস অপরাধ সংগঠিত হওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত থাকা উচিত, যেমনটা মিয়ানমারের ওই অঞ্চলের মানুষও প্রস্তুত রয়েছেন। আমি খুব করে চাই যেন আমার আশঙ্কা ভুল হয়,’’ বলেন টম অ্যান্ড্রুস।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী জোরপূর্বক দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ক্ষমতা দখল করে৷ স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এগারশোর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

গ্রেফতার হয়েছেন আট হাজারের উপরে। অ্যান্ড্রুস জানান, গ্রেফতারকৃতদের উপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে, একারণে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি শিশুরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে অ্যান্ড্রুস বলেন, উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে লাখো সেনা ও ভারি অস্ত্র জড়ো করার তথ্য তিনি পেয়েছেন।

যার প্রেক্ষিতে সেখানে জান্তা সরকারের সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ‘‘এই তথ্যগুলো ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর চালানো গণহত্যার আক্রমণের পূর্বের সামরিক সমাবেশের ভীতিকর কৌশলের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়,’’ বলেন টম অ্যান্ড্রুস।
উল্লেখ্য নিরাপত্তা বাহিনীর দমনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালে রাখাইন থেকে অন্তত সাত লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

প্রতিবেদনে তিনি সামরিক জান্তাকে অর্থ, অস্ত্র ও বৈধতা না দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান৷ এই চাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী পাঁচ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে সম্প্রতি মুক্তি দিয়েছে জান্তা সরকার।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান এর সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে না এমন সিদ্ধান্তের কয়েকদিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়৷ তবে অ্যান্ড্রুস জানিয়েছেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের কাউকে কাউকে ‘আবার গ্রেফতার করা হয়েছে’।
সূত্র: ডয়চে ভেলে