চুয়াডাঙ্গা জেলার নিকাহ রেজিষ্টার/কাজীগণের সাথে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সংক্রান্তে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ মার্চ ২০২১ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
অদ্য ১৩.০৩.২০২০ খ্রিঃ তারিখ রোজ শনিবার সকাল ১১.০০ ঘটিকায় পুলিশ অফিস সম্মেলন কক্ষে জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা সভাপতিত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলার নিকাহ রেজিষ্টার/ কাজীগণের সাথে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সংক্রান্তে পুলিশ অফিস সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় জনাব আবু তারেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), জনাব কনক কুমার দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এবং জনাব মোঃ মারুফ হোসেন, ডিআইও-১, জেলা বিশেষ শাখা, চুয়াডাঙ্গাসহ নিকাহ রেজিষ্টার জেলা সমিতির আমন্ত্রিত মোট ৫৬ জন উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার মহোদয়ের অনুমতিক্রমে জনাব আবু তারেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন)সহ জনাব কাজী মোঃ শামছুল হক সভাপতি নিকাহ রেজিষ্টার জেলা সমিতি চুয়াডাঙ্গা ও যুগ্ন মহাসচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং কাজী মোঃ আব্দুল হক আব্বাছী, সহ-সভাপতি জেলা কমিটি প্রমুখ তাদের বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সংক্রান্তে বক্তব্য ও মতামত প্রদান করেন।
সভাপতি বক্তব্যঃ জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা সভাপতির বক্তব্যে নিকাহ রেজিষ্টার/কাজীগণের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা সকলেই হেদায়েতের পথের পথপ্রদর্শক। আপনারা সকলকে পথ দেখান। আপনারা যদি বাল্য বিবাহ না পড়ান তাহলে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বাল্য বিবাহ অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব হবে। আসুন আমরা সকলেই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সবার নিজ নিজ স্থান থেকে সোচ্চার হই। তিনি পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহার আলোকে এবং দেশের প্রচলিত আইনের ব্যাখ্যা প্রদানসহ উপস্থিত কাজীগণকে বাল্য বিবাহ নিরোধে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
সভায় সর্বস্মতিক্রমে নিম্ন বর্ণিত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ ঃ
০১। বিবাহ কার্য সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন/জাতীয় পরিচয়পত্র ও এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট দেখতে হবে।
০২। কোন অবস্থায় বাল্য বিবাহ করানো যাবে না।
০৩। ধর্মীয় অনুশাসন সকলকে মেনে চলতে হবে, কোন অবস্থাতেই নারীর অবমূল্যায়ণ করা যাবে না।
০৪। নারী ও শিশু আইন মোতাবেক ১৮ বছরের কম বয়সী সকলেই শিশু হিসেবে গণ্য হবে।
০৫। ছেলেদের ক্ষেত্রে বিবাহের বয়স কমপক্ষে ২১ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে বিবাহের বয়স ১৮।
০৬। বাল্য বিবাহ করানোর ক্ষেত্রে যদি কেউ বল প্রয়োগ করে তাহলে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা/সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ’কে অবহিত করতে হবে।
০৭। সুনাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় আইন সকলকে মেনে চলতে হবে।
০৮। ধর্মীয় বিধি-বিধানগুলো বিকৃতি করে নিজের পক্ষে প্রয়োগ করা যাবে না।
০৯। কাজী সমিতি অঙ্গিকার করেন মুজিববর্ষে কোন বাল্য বিবাহ হবে না।
১০। বিবাহ কার্য সম্পন্ন করবেন পবিত্র কোরআন এর আইন অনুসারে।
১১। বাল্য বিবাহ রোধে পাড়া/মহল্লায় কাজীগণ ছোট ছোট সমাবেশের আয়োজন করবেন।
১২। ইমামবৃন্দ মসজিদে খুৎবায় বাল্য বিবাহের কুফল সর্ম্পকে আলোচনা করবেন।
১৩। প্রত্যেকে স্ব স্ব দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় বিবাহ রেজিষ্ট্রি করবেন। কেউ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার বাইরে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করবেন না।
১৪। কোন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করবেন।
সভায় আর কোন আলোচ্য বিষয় না থাকায় সভাপতি মহোদয় বাল্য বিবাহ রোধে সহযোগীতা কামনা করেন এবং সভায় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।























