ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজন শিকদারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, স্বস্তি যাত্রীদের ঘোড়াঘাটে দেউলী ঘাটে ব্রিজ নির্মাণে মন্ত্রী-এমপিদের শুধুই আশ্বাস ভাঙ্গা ব্রিজ ১০ গ্রামের মানুষের এখন মরণ ফাঁদ জীবননগর সীমান্তে ৪টি স্বর্ণের বার ও ৪ টুকরা স্বর্ণসহ এক পাচারকারী গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার স্বরূপকাঠী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওয়াহিদের মৃত্যুতে ব্যারিস্টার সাইফের শোক জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রিপন। দর্শনা সীমান্তে ঘাস কাটতে যাওয়া বাংলাদেশি যুবককে ধরে পুলিশকে দিলো বিএসএফ বরিশাল কারাভ্যন্তরে মাদকের বিস্তার নারী বন্দির কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার বিরামপুর ৩নং খানপুর ইউনিয়নে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন বিজয়নগর উপজেলায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

এতিম পথশিশু খুশিকে জাঁকজমকভাবে বিয়ে দিলেন রংপুরের ডিসি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯ ৭৭২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক পথশিশু এতিম মেয়ের জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে হলো রংপুরে।এসেছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বুধবার গায়ে হলুদের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর পর্যটন মোটেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিয়ে হয় খুশি খাতুনের। এর সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদফতর ও শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (বালিকা)।

মোছা. খুশি খাতুন ছোট বেলা থেকেই মানুষের বাসা বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে ছিলেন। সেখানে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। গৃহকর্তার নির্যাতনে তিনি ওই বাসা থেকে পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে থানায় সোপর্দ করেন। ২০১৪ সালে ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড রংপুর সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় তাকে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (বালিকা) রাখা হয়।

সেখানে ১৮ বছর পূর্ণ হলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় তাকে কারুপণ্য নামে শতরঞ্জি তৈরি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়া হয়। পরে রংপুর নগরীর নিউ সাহেবগঞ্জ এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে মো. লিমন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি ঠিক করে জেলা প্রশাসন। ছেলেটির পেশা রাজমিস্ত্রি।

সবার পছন্দে বিয়েতে রাজি হওয়া নবদম্পত্তি অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তারা একে অপরকে পেয়ে খুশি। এজন্য তারা ডিসি, সমাজসেবা সেবা কর্তৃপক্ষসহ রংপুরের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আরো বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ বংশধর যাতে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

ডিসি আসিব আহসান জানান, মেয়েটি এতিম। তার বাবা-মা নেই। প্রশাসন পাশে আছে এমন ধারণা যেন এতিম মেয়েটির হয় এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে সে অসহায় বোধ করতে না পারে। তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এজন্য তাদের নামে পারিবারিক পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতাও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরো বলেন, পর্যটন মোটলে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিয়ে দেয়ার আর একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আরো যে ২ শতাধিক অনাথ শিশু আছে তাদের নিয়ে আনন্দ করা এবং তাদেরও বোঝানো যে তারা একা নয় আমরা সবাই তাদের পাশে আছি ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

এতিম পথশিশু খুশিকে জাঁকজমকভাবে বিয়ে দিলেন রংপুরের ডিসি

আপডেট সময় : ০১:৫১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯

এক পথশিশু এতিম মেয়ের জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে হলো রংপুরে।এসেছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বুধবার গায়ে হলুদের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর পর্যটন মোটেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিয়ে হয় খুশি খাতুনের। এর সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদফতর ও শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (বালিকা)।

মোছা. খুশি খাতুন ছোট বেলা থেকেই মানুষের বাসা বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে ছিলেন। সেখানে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। গৃহকর্তার নির্যাতনে তিনি ওই বাসা থেকে পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে থানায় সোপর্দ করেন। ২০১৪ সালে ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড রংপুর সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় তাকে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (বালিকা) রাখা হয়।

সেখানে ১৮ বছর পূর্ণ হলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় তাকে কারুপণ্য নামে শতরঞ্জি তৈরি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়া হয়। পরে রংপুর নগরীর নিউ সাহেবগঞ্জ এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে মো. লিমন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি ঠিক করে জেলা প্রশাসন। ছেলেটির পেশা রাজমিস্ত্রি।

সবার পছন্দে বিয়েতে রাজি হওয়া নবদম্পত্তি অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তারা একে অপরকে পেয়ে খুশি। এজন্য তারা ডিসি, সমাজসেবা সেবা কর্তৃপক্ষসহ রংপুরের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আরো বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ বংশধর যাতে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

ডিসি আসিব আহসান জানান, মেয়েটি এতিম। তার বাবা-মা নেই। প্রশাসন পাশে আছে এমন ধারণা যেন এতিম মেয়েটির হয় এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে সে অসহায় বোধ করতে না পারে। তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এজন্য তাদের নামে পারিবারিক পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতাও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরো বলেন, পর্যটন মোটলে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিয়ে দেয়ার আর একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আরো যে ২ শতাধিক অনাথ শিশু আছে তাদের নিয়ে আনন্দ করা এবং তাদেরও বোঝানো যে তারা একা নয় আমরা সবাই তাদের পাশে আছি ।