সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

নদী ভাঙ্গনে বিলীনের পথে বাবুগঞ্জের রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়ক : শতাধীক পরিবারের নির্ঘুম রাত্রী যাপন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে নদীর তীরবর্তী নিন্মাঞ্চল ও চরাঞ্চল।
পানির প্রবল ঢেউয়ে অসময়ে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। জোয়ারের পানি কমতে থাকায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎকন্ঠায় ও নির্ঘুম দিন কাটাচ্ছেন নদী পারের মানুষ।

উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের শতাধীক পরিবার সুগন্ধার ভাঙন আতংকে রাত পার করছেন।
উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ন রহমতপুর- মীরগঞ্জ সড়কসহ ক্ষুদ্রকাঠী গ্রাম ও বাবুগঞ্জ বাজার সুগন্ধা নদীর ভাঙনে আশংকায়। শনিবার ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নদী পারের গাছপালা কেটে সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর ভাঙন পূর্ব ক্ষুদ্রকাঠীর দিঘির পাড় (বটতলা) এলাকার ৩০ গজের মধ্যে এসে পরায় শতভাগ ঝুঁকির কবলে পরেছে রহমতপুর মীরগঞ্জ সড়কটি। সুগন্ধার মুল নদী থেকে ওই এলাকায় ভাঙন প্রায় ১ শত ফুট ভিতরে প্রবেশ করেছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই সড়কটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ এই চার টি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এই সড়কটি দিয়ে জেলা শহর, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করছেন।

অভিজ্ঞরা বলছেন জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার সময় এসব গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আরাফাত হোসেন ফরিদ বলেন, ভাঙন রোধে অতি দ্রুত কার্যকারি ব্যবস্থা না নিলে ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের বাকি অংশ ও জনগুরুত্বপূর্ণ রহমতপুর মীরগঞ্জ সড়ক বিলীন হয়ে যাবে।

ভাঙন কবলিত আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, সুগন্ধার ভাঙনে ইতিমধ্যে আমার বাড়ি তিনবার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আবার ভাঙন বাড়ি ছুয়েছে। এইবার ভাঙলে আমার শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও চলে যাবে। আমার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবেনা।
সেলিম হাওলাদার বলেন, সরকারের পক্ষে থেকে অনেকেই দেখে গেছে। কেউ এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ভুমিকা নিতে পারে নি। ভাঙনে বিলীন হওয়ার পর সহানুভূতি দেখাতে আসবে!

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন বলেন, বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের সুগন্ধা নদী সংলগ্ন অংশের ভাঙন রোধে আধা কিলোমিটার এলাকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা বলেন দীঘির পাড়সহ বর্তমান ভাঙন কবলিত এলাকাটি ওই আধা কিলোমিটারের বাহিরে।

বরিশাল -৩ (বাবুগঞ্জ -মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, রহমতপুর -মীরগঞ্জ সড়ক ও ক্ষুদ্রকাঠী গ্রাম রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহাদয়ের সাথে কথা বলে ভাঙন রোধে অতি দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নদী ভাঙ্গনে বিলীনের পথে বাবুগঞ্জের রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়ক : শতাধীক পরিবারের নির্ঘুম রাত্রী যাপন

আপডেট সময় : ০১:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে নদীর তীরবর্তী নিন্মাঞ্চল ও চরাঞ্চল।
পানির প্রবল ঢেউয়ে অসময়ে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। জোয়ারের পানি কমতে থাকায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎকন্ঠায় ও নির্ঘুম দিন কাটাচ্ছেন নদী পারের মানুষ।

উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের শতাধীক পরিবার সুগন্ধার ভাঙন আতংকে রাত পার করছেন।
উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ন রহমতপুর- মীরগঞ্জ সড়কসহ ক্ষুদ্রকাঠী গ্রাম ও বাবুগঞ্জ বাজার সুগন্ধা নদীর ভাঙনে আশংকায়। শনিবার ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নদী পারের গাছপালা কেটে সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর ভাঙন পূর্ব ক্ষুদ্রকাঠীর দিঘির পাড় (বটতলা) এলাকার ৩০ গজের মধ্যে এসে পরায় শতভাগ ঝুঁকির কবলে পরেছে রহমতপুর মীরগঞ্জ সড়কটি। সুগন্ধার মুল নদী থেকে ওই এলাকায় ভাঙন প্রায় ১ শত ফুট ভিতরে প্রবেশ করেছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই সড়কটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ এই চার টি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এই সড়কটি দিয়ে জেলা শহর, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করছেন।

অভিজ্ঞরা বলছেন জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার সময় এসব গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আরাফাত হোসেন ফরিদ বলেন, ভাঙন রোধে অতি দ্রুত কার্যকারি ব্যবস্থা না নিলে ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের বাকি অংশ ও জনগুরুত্বপূর্ণ রহমতপুর মীরগঞ্জ সড়ক বিলীন হয়ে যাবে।

ভাঙন কবলিত আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, সুগন্ধার ভাঙনে ইতিমধ্যে আমার বাড়ি তিনবার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আবার ভাঙন বাড়ি ছুয়েছে। এইবার ভাঙলে আমার শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও চলে যাবে। আমার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবেনা।
সেলিম হাওলাদার বলেন, সরকারের পক্ষে থেকে অনেকেই দেখে গেছে। কেউ এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ভুমিকা নিতে পারে নি। ভাঙনে বিলীন হওয়ার পর সহানুভূতি দেখাতে আসবে!

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন বলেন, বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের সুগন্ধা নদী সংলগ্ন অংশের ভাঙন রোধে আধা কিলোমিটার এলাকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা বলেন দীঘির পাড়সহ বর্তমান ভাঙন কবলিত এলাকাটি ওই আধা কিলোমিটারের বাহিরে।

বরিশাল -৩ (বাবুগঞ্জ -মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, রহমতপুর -মীরগঞ্জ সড়ক ও ক্ষুদ্রকাঠী গ্রাম রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহাদয়ের সাথে কথা বলে ভাঙন রোধে অতি দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।