সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

সুইস ব্যাংকের ১৮ হাজারের বেশি হিসাবের তথ্য ফাঁস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ৯৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম রয়েছে সুইস ব্যাংকের। হিসাবের পাশাপাশি হিসাবধারীর পরিচয় এবং অন্য যেকোনো তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সুইজারল্যান্ডের এই ব্যাংকটি। কিন্তু সেই সুইস ব্যাংকের ১৮ হাজারের বেশি হিসাবের নথি ফাঁস হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এসব ফাঁস হওয়া নথিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসক, দুর্নীতিবাজ গোয়েন্দা কর্মকর্তা, নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ব্যবসায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, মাদক ও মানব পাচারকারীর অ্যাকাউন্টের তথ্য রয়েছে। তাদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ সব মিলিয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

ক্রেডিট সুইচের এসব তথ্য ফাঁস করেছেন ব্যাংকটির এক স্বঘোষিত হুইসেলব্লোয়ার (গোপন তথ্য ফাঁসকারী)। তিনি ব্যাংকটির ১৮ হাজারের বেশি হিসাব সম্পর্কিত তথ্য জার্মান সংবাদমাধ্যম সুইডডয়চে সেইটুংকে সরবরাহ করেন। এরপর সেসব নথি বিশ্লেষণের কাজে যুক্ত হয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন অর্গানাইজিং ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, লা মঁদেসহ ৩৯ দেশের ৪৮টি সংবাদমাধ্যম।

গার্ডিয়ান জানায়, ফাঁস হওয়া এসব নথির মধ্যে ১৯৪০ এর দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের ৩০ হাজারের বেশি মালিকের মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্রেডিট সুইসের ১৫ লাখ গ্রাহকের মধ্যে কেবল একটি অংশের তথ্যই এসেছে ফাঁস হওয়া নথিতে। এসব অ্যাকাউন্টের মালিকদের অনেকে ইতোমধ্যেই মারা গেছেন, অনেক অ্যাকাউন্ট বন্ধও হয়ে গেছে। অনেক অ্যাকাউন্ট এখনো চালু রয়েছে।

ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের যেসব গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং মিসরের সাবেক একনায়ক হুসনি মোবারকের দুই ছেলে। এছাড়াও রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান, যিনি ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত কোটি ডলার আফগানিস্তানের মুজাহিদীনদের পাঠিয়েছিলেন।

সুইস সিক্রেটস অনুসন্ধানে আরও অন্তত ৪০ জনের নাম পেয়েছেন সাংবাদিকরা, যারা বিভিন্ন সময়ে ডজনখানেক দেশের গোয়েন্দা দপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সাবেক আর্মি ক্যাপ্টেন কার্লোস লুই অ্যাগুইলেরা বোর্হাস, ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিসের সাবেক প্রধান ভ্যালেরি খোরশকোভস্কি, মিসরের সাবেক গুপ্তচর আশরাফ মারওয়ানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, জার্মানি, নাইজেরিয়া, উজবেকিস্তান, ইরাক, জর্ডান, ইয়েমেনের বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে।

ফাঁস হওয়া নথি বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, শুধু ধনকুবেরদেরই সেবা দিচ্ছে না ক্রেডিট সুইস ব্যাংক। নানা মাধ্যম থেকে সতর্কতা জারি করার পরও বিভিন্ন মানুষকে সেবা দিয়েছে তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুইস ব্যাংকের ১৮ হাজারের বেশি হিসাবের তথ্য ফাঁস

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২২

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম রয়েছে সুইস ব্যাংকের। হিসাবের পাশাপাশি হিসাবধারীর পরিচয় এবং অন্য যেকোনো তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সুইজারল্যান্ডের এই ব্যাংকটি। কিন্তু সেই সুইস ব্যাংকের ১৮ হাজারের বেশি হিসাবের নথি ফাঁস হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এসব ফাঁস হওয়া নথিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসক, দুর্নীতিবাজ গোয়েন্দা কর্মকর্তা, নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ব্যবসায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, মাদক ও মানব পাচারকারীর অ্যাকাউন্টের তথ্য রয়েছে। তাদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ সব মিলিয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

ক্রেডিট সুইচের এসব তথ্য ফাঁস করেছেন ব্যাংকটির এক স্বঘোষিত হুইসেলব্লোয়ার (গোপন তথ্য ফাঁসকারী)। তিনি ব্যাংকটির ১৮ হাজারের বেশি হিসাব সম্পর্কিত তথ্য জার্মান সংবাদমাধ্যম সুইডডয়চে সেইটুংকে সরবরাহ করেন। এরপর সেসব নথি বিশ্লেষণের কাজে যুক্ত হয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন অর্গানাইজিং ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, লা মঁদেসহ ৩৯ দেশের ৪৮টি সংবাদমাধ্যম।

গার্ডিয়ান জানায়, ফাঁস হওয়া এসব নথির মধ্যে ১৯৪০ এর দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের ৩০ হাজারের বেশি মালিকের মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্রেডিট সুইসের ১৫ লাখ গ্রাহকের মধ্যে কেবল একটি অংশের তথ্যই এসেছে ফাঁস হওয়া নথিতে। এসব অ্যাকাউন্টের মালিকদের অনেকে ইতোমধ্যেই মারা গেছেন, অনেক অ্যাকাউন্ট বন্ধও হয়ে গেছে। অনেক অ্যাকাউন্ট এখনো চালু রয়েছে।

ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের যেসব গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং মিসরের সাবেক একনায়ক হুসনি মোবারকের দুই ছেলে। এছাড়াও রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান, যিনি ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত কোটি ডলার আফগানিস্তানের মুজাহিদীনদের পাঠিয়েছিলেন।

সুইস সিক্রেটস অনুসন্ধানে আরও অন্তত ৪০ জনের নাম পেয়েছেন সাংবাদিকরা, যারা বিভিন্ন সময়ে ডজনখানেক দেশের গোয়েন্দা দপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সাবেক আর্মি ক্যাপ্টেন কার্লোস লুই অ্যাগুইলেরা বোর্হাস, ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিসের সাবেক প্রধান ভ্যালেরি খোরশকোভস্কি, মিসরের সাবেক গুপ্তচর আশরাফ মারওয়ানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, জার্মানি, নাইজেরিয়া, উজবেকিস্তান, ইরাক, জর্ডান, ইয়েমেনের বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার নামও উঠে এসেছে।

ফাঁস হওয়া নথি বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, শুধু ধনকুবেরদেরই সেবা দিচ্ছে না ক্রেডিট সুইস ব্যাংক। নানা মাধ্যম থেকে সতর্কতা জারি করার পরও বিভিন্ন মানুষকে সেবা দিয়েছে তারা।