বরিশালে সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো উপ-নির্বাচন
- আপডেট সময় : ০৬:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর ২০২১ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স: উৎসাহ উদ্দীপনা ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে ২৮ নং ওয়ার্ড উপ-নির্বাচন সম্পন। বরিশাল নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচনে নির্বাচনী সহিংসতায় তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ড কাশিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অপর দু’জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
তবে এঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শুরু হয়। ইভিএমের মাধ্যমে ৩টি কেন্দ্রে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে মোট ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন- ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে জাহিদ হোসেন, ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে হুমায়ন কবির এবং লাটিম প্রতীক নিয়ে সৈয়দ গোলাম কবির মামুন। স্থানীয়রা জানান, ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় লাটিম প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ গোলাম কবির মামুনের পরাজিত হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তার কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায় তারা জাহিদ হোসেনের ঘুড়ি প্রতীকের এক সমর্থককে বেদম মারধর করেন। তারা সেনটারিং ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন নুরুল হক ও মামুনের ওই সমর্থককে।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেস চন্দ্র হালদার জানান, তিনি ঘটনাস্থলে আছেন। মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের চিহ্নিতের চেষ্টা অব্যাহত আছে। দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে সারাদিন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও ফলাফল ঘোষণার পরই ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ওই ওয়ার্ডে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাশীপুরের অন্ধ মাদ্রাসা ও প্রশিক্ষন অফিসের সামনে নির্বাচনে জয় লাভ করা জাহিদ হোসেন রুবেলের নির্বাচনী এজেন্ট ও তার বন্ধু জহির উদ্দিন বাবর, মাহমুদ হোসাইন মামুন, নুরুল হক মিয়াজী হেঁটে যাচ্ছিল পথিমধ্যে তাদের উপর নির্বাচনে হেরে যাওয়া গোলাম কবির মামুনের ছেলে রাব্বি, ফারুক মিরার পুত্র রামিম, রাফি, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের জহির মুন্সির পুত্র মাদক ব্যবসায়ী নয়ন মুন্সি, মাঝি বাড়ির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাগর, কাশিপুর বাজার সংলগ্ন কামালের পুত্র সুমন,হরিপাশা ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির স্বাধীন, পেশাকারের পুত্র সামিতসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনের একটি বাহিনী তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় উপর হামলা চালায়।
এসময় তাদের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ এবং ছবি তোলা সময় গোলাম কবির মামুনের সমর্থকরা চড়াও হয়ে দৈনিক ভোরের অঙ্গীকারের শিক্ষানবিশ রিপোর্টার শাকিল, ঢাকা প্রতিদিনের বরিশাল প্রতিনিধি সবুজ ও কলমের কন্ঠের রিপোর্টার রিপন রানাকে উক্ত স্থান থেকে যাওয়ার প্রাক্কালে হামলার ভিডিও ছবি ধারণ করতে গেলে রাব্বির নেতৃত্বে ভোরের অঙ্গীকারের শিক্ষানবিশ রিপোর্টার শাকিলকে উপরে হামলা চলায়। এসময় হামলাকারীদের সংবাদকর্মী শাকিল বলেন ভাই আমি সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে আসছি বলার সাথে সাথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাকিলের শরীলের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে তার সাথে থাকা দুইটি মোবাইল সেট ও তার ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে জানা যায়।
একই সময় ঢাকা প্রতিদিনের প্রতিনিধি সবুজ সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাকেও মারধর করে তার সাথে থাকা তিনটি মোবাইল ও তার ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। সহ কর্মীর উপর হামলা দেখে কলমের কন্ঠ’র রির্পোটার ছুটে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। সন্ত্রারাসীদের হামলায় আহত তিন সংবাদকর্মী বর্তমানে বরিশাল শের- ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তবে হামলায় সাংবাদিক শাকিলের পিঠের উপরে ৪ টি কোপের আঘাত পড়ায় আশংঙ্খা জনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হামলার বিষয়ে বিজয়ী কাউন্সিলর রুবেল’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দ্রুত হামলাকারী রাব্বিসহ বাকিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে। হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাব্বির পিতা মামুনকে ফোন দিলে তিনি বলেন আমি উক্ত হামলা সম্পর্কে কিছুই জানিনা আমার ছেলে নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে বাসায় চলে এসে। এবং তিনি এখনও ঘুমাচ্ছে।
আহত সংবাদকর্মীদের স্বজনরা জানায়, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। এঘটনায় আমাদের মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এবিয়য়ে এয়ারপোর্ট অফির্সার ইনর্চাজ (ওসি) কমলেস চন্দ্র হালদার জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেন। মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের চিহ্নিতের চেষ্টা অব্যাহত আছে। দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে এবিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।
হামলার বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, আমরা নির্বাচনী সহিংসতায় বিষয়টি জানতে পেরেছি এবং আসামীদেরকে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা চলতেছে।























